somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামথিং ইজ রটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক... মুক্তমতের টুটি চেপে ধরার আয়োজন কতদূর?

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু ঘটনা আপনাদের মনে থাকার কথা। তারপরও একে একে মনে করিয়ে দিতে চাই।
১. ৩ ডিসেম্বর ২০১১।
“নিজেদের ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখতে ব্লগগুলো মনিটর করুন।”
বললেন, এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
ব্লগে পর্ন চর্চার অভিযোগ আনেন তিনি। যে অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন সেখানে উপস্থিত বিডি নিউজের একজন মুখপত্র বলেন, “আমাদের ব্লগ ও মতামত বিভাগের মন্তব্যে মডারেশন ছাড়া একটি শব্দও প্রকাশ করা হয় না।”
পুরো সংবাদের লিংক
২. ৬ ডিসেম্বর ২০১১।
ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রী কপিল সিবাল অনলাইনে আপত্তিকর, সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রচারের দায়ে ফেসবুক ও টুইটার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেন।
এ বিষয়ে একটি খবর।

৩. ১৯ ডিসেম্বর ২০১১।
পালিত হলো তৃতীয় বাংলা ব্লগ দিবস। প্রতিপাদ্য ‘গণজাগরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার আইন’। ব্লগ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ব্লগের মডারেটর ও ব্লগাররা যৌথভাবে একটি লেখা প্রকাশ করেন প্রথম আলোতে। তাতে ব্লগের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করে ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়নের আহবান জানানো হয়।
লেখাটির লিংক।

৪. ২০ ডিসেম্বর ২০১১।
মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের জন্য আহবান জানান বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদী।
সেই খবরের লিংক।

৫. ২৮ ডিসেম্বর ২০১১।
ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পষ্ট আইন করার জন্য দাবি জানালেন বিডি নিউজ ব্লগের মডারেটর আইরিন।
তার ব্লগের লিংক

৬.২৯ ডিসেম্বর ২০১১।
বাংলা নিউজ আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় ব্লগ সহ অনলাইন স্পেস নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পষ্ট আইন করার আহবান জানালেন বিডি নিউজের ব্লগ বিশেষজ্ঞ (ব্লবি) কৌশিক আহমেদ। ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম।

মূলত ২৯ তারিখের আগে আমি ওপরের তথ্যগুলো জেনেছি, কিন্তু এগুলোর গুরুত্ব কী, তাৎপর্য কতদূর যেতে পারে তা নিয়ে সচেতন ছিলাম না। কিন্তু গোলটেবিল আলোচনায় কৌশিকের মত শুনে ঘটনার ভয়াবহতা কিছুটা টের পেলাম। ঘটনার সারসংক্ষেপ আমার কাছে মোটামুটি এই :
সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্লগ নিয়ন্ত্রণের আহবান জানানোর পর বাংলা ব্লগের মডারেটর ও উদ্যোক্তারা তার ইচ্ছা পূরণের জন্য কাছা খুলে মাঠে নেমেছেন। আর এই কাছাখোলা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিডিনিউজ। ব্লগ ও মুক্ত মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আহবান জানিয়ে বিডিনিউজ তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে শুধু কলঙ্কিত করেনি। তাদের দুই কর্মকর্তাকে মাঠে নামিয়েছে সরকারের ইচ্ছা পূরণে জনমত তৈরির জন্য। যদিও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্লগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা ছিল মিথ্যা। মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি। এ নিয়ে একরামুল হক শামীম সমকালে একটি লেখা লিখেছেন । সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মত তাতে খণ্ডন করা হয়েছে।

বিডিনিউজ কীভাবে ব্লগ ও মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের এই আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবং নিয়ন্ত্রণের এই মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তারা কী অসার যুক্তি দিচ্ছে তার বিবরণ দিয়েছেন সচলায়তনের হিমু

ফেসবুক টুইটার নিয়ন্ত্রণ করার আগ্রহ প্রকাশ করার পর ভারতের মন্ত্রী কপিল সিবালের কঠোর সমালোচনা হয়েছে সেখানকার অলটারনেটিভ মিডিয়া ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায়। মিডিয়াগুলো একবাক্যে কপিলের মন্তব্যকে মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের ছলনা বলে প্রত্যাখান করেছে। তারা বলেছে, ভারত চীন নয়, এখানে মুক্তমত থাকবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য মতপ্রকাশের গতি রুদ্ধ করা যাবে না। সেখানকার জনপ্রিয় পত্রিকা আউটলুক কপিল সিবালের একটি ক্যারিকেচার করেছে হিটলারের মতো করে। প্রায় প্রতিটি দৈনিক কপিলের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে সেটিই স্বাভাবিক। ভারতের মিডিয়া প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে মন্ত্রীর মন্তব্যের পর ব্লগের মডারেটর ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার একটি অংশ ন্যাক্কারজনক ভূমিকা নিয়েছে।
প্রথমত, দেশের প্রধান অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজের সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠানটির ব্লগ টিম আইন প্রণয়নের জন্য যুক্তিজাল রচনা করে চলেছেন।
দ্বিতীয়, যেখানে ব্লগ কর্তৃপক্ষগুলোর উচিত ছিল মন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা। সেখানে তারা তা করেনি, উল্টো মন্ত্রীর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা সরকারের চাপে প্রতিবাদ জানাতে না পারুক, অন্তত চুপ থাকতে পারতো। কিন্তু তা না করে, ব্লগ দিবসে সবাই একজোট হয়ে নিপীড়নমূলক আইনের পক্ষে স্লোগান দিয়েছে। প্রথম আলোতে লেখা প্রকাশ করেছে। গণজাগরণে সামাজিক মাধ্যমের উদাহরণ দিয়েছে বটে, কিন্তু তাদের কথার যে সার তা নিপীড়ন মূলক আইন আমদানীর পক্ষেই যায়।
আমার মতে, মতাদর্শিক দেউলিয়াত্ব, মেরুদণ্ডহীনতা, ক্ষমতাসীনদের তোষণের নীতির এর পেছনের মূল কারণ। এদের কেউ হয়তো ভয়ে মন্ত্রীর পক্ষ নিয়েছেন। কেউ ভুল করে নিয়েছেন। কিন্তু এদের একটি অংশ জেনে বুঝে অপকর্ম করছেন। মুক্ত মিডিয়া, বিকল্প মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগের স্বার্থে এদের প্রতিহত করতে হবে। নাগরিকদের কথা বলতে হবে। নইলে অনলাইনে কথা বলার স্বাধীনতা শীঘ্রই আমরা হারাবো। যেসব অপরাধ আমরা করি না, করিনি তার দায়ভার বয়ে নিয়ে মুখ বন্ধ করে বসে যেতে হবে।
আমার মতে, সেটি হ্ওয়া উচিত নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৪৩
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার খোজে

লিখেছেন শের শায়রী, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:০৩



চলুন কিছু প্রাচীন সভ্যতার খোজ নিয়ে আসি। এগুলো সব হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা। হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা যখন পড়ি আমি তখন হারিয়ে যাই ইতিহাসের স্বর্নালী দিন গুলোতে ওই সব জাতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১২৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:০১



১। আমার মতে ধর্ম থাকবে ধর্মের মতো, বিজ্ঞান বিজ্ঞানের মতো। তেল-জলকে ঝাঁকিয়ে এক করার প্রয়োজন নেই।
যারা ঝাকায় বা ঝাকাতে চেষ্টা করে তারা দুষ্ট লোক।

২। ছোটবেলায় আইনস্টাইন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাবাতিয়ান লাল পাথর

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৬



আরব সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনের সময়কার কথা । সেই সময়টিতে ছিল নাবাতিয়ান নামক এক যাযাবর জাতির দৌরাত্ম্য। তবে ইতিহাসবিদদের কাছে নাবাতিয়ানদের সম্পর্কে খুব একটা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের কথা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৪০



ছোটবেলা থেকেই আমি কিছু হতে চাই নি।
এই জন্য জীবনে কিছু হতে পারি নি। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা কত কিছু হতে চায়- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, শিক্ষক, পুলিশ ইত্যাদি কত কি। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

গবেষণা ও উন্নয়ন: আর কত নিচে নামলে তাকে নিচে নামা বলে???

লিখেছেন আখেনাটেন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৬


আমরা বেশির ভাগ বাংলাদেশীরা কঠোর প্রেমিক। তাই প্রেমের চেতনা কিংবা যাতনায় প্রেমিকার ‘কাপড় উথড়ানো’র জন্য আমাদের হাত নিশপিশ করে। কীভাবে বাংলাদেশ নামক প্রেমিকাকে ছিড়ে-ফুঁড়ে সর্বোচ্চ লুটে নিব এই ধান্ধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×