somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়েবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা : ভারত কি চীন হবে?

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে প্রায় সব পত্রিকা খবরটা দিয়েছে :
প্রথম আলোর খবর পড়ুন :
ফেসবুক ও গুগলকে সতর্ক করেছে দিল্লি হাইকোর্ট
সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক এবং সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে সতর্ক করে দিয়েছেন ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট। সম্প্রতি গুগল ও ফেসবুকের দায়ের করা আপিল মামলায় সাড়া না দিয়ে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট প্রকারান্তরে সতর্ক করে দিয়েছেন আবেদনকারীদের। বলা হয়েছে ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর লেখা, ছবি ইত্যাদি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। ওই আদেশে এ কথাও বলা হয়, এ ব্যাপারে তারা যদি উদ্যোগী না হয়, তবে চীনের মতো ভারতেও ওই সব ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুরেশ কাইত এই নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশ পাওয়ার পর গুগল ইন্ডিয়ার আইনজীবী মুকুল রোহতাগ বলেন, গুগল ইন্ডিয়া মার্কিন সংস্থা গুগলের হয়ে কাজ করে মাত্র। সংস্থার হয়ে নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই গুগল ইন্ডিয়ার। তাই কোনো আপত্তিকর ছবি বা লেখা ইত্যাদির ওপর নজরদারি করা বা বাতিল করার এখতিয়ারও তাদের নেই।
এদিকে এই মামলার নির্দেশের পর দিল্লির মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুরেশ কুমার তাঁর আদালতে দায়ের করা এ সংক্রান্ত একটি মামলায় শুক্রবারই ফেসবুক, গুগল, ইয়াহুসহ ২১টি সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটকে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে ওই ২১টি সাইটকে আদালতে হাজিরা দিয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করতে হবে। অভিযুক্ত ২১টি সাইটের মধ্যে ১০টির বেশি বিদেশি। সাংবাদিক বিনোদ রাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। যদিও বিদেশি সাইটের বিরুদ্ধে সমনজারি সংক্রান্ত নোটিশ প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৩ ডিসেম্বর ২১টি সাইটকে সরকারের পক্ষ থেকে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি ও লেখা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল।—অমর সাহা, কলকাতা
.................................
এ নিয়ে ১৪ তারিখে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটা সম্পাদকীয় লিখেছে। সমকাল সম্পাদকীয়টি অনুবাদ করেছে ১৫ তারিখ
................
ভারত চীন নয়

দিল্লির একটি নিম্ন আদালতের রায়ের পর দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে আদালত ফেসবুক ও গুগলসহ ২১ কোম্পানির কর্মকর্তাদের এই মর্মে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, 'আপত্তিকর' উপাদান না সরালে সাইটগুলো একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিচারক সুরেশ কাইতের ভাষায় : 'আপনাদের তদারকি ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আনতে হবে। নয়তো, চীনের মতো আমরাও এ ধরনের সব ওয়েবসাইট বন্ধ করার আদেশ দেব।' সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা এই ধরনের মামলা (যার অনেক অভিযোগই জামিন অযোগ্য) চালানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করে কি-না। সরকার মামলায় সম্মতি দিয়েছে। আইটি ও এইচআরডিমন্ত্রী কপিল সিবাল সামাজিক মাধ্যমের 'আপত্তিকর' উপাদানের উলেল্গখ করে ভারতের সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ উপাদান সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দেওয়ার মাসখানেক পর এমন ঘটনা ঘটল।
ওয়েবের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণার অভাবেই সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কে সাম্প্রতিক আলোচনার উদ্ভব ঘটেছে। পেশাদার সংবাদপত্র ও সম্প্রচার মাধ্যমের মতো নয়, বরং গুগল, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি পোস্ট অফিসের মতো মধ্যবর্তী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তারা সরল অর্থে কোটি মানুষের জন্য এমন একটি পল্গাটফর্ম তৈরি করে যেখানে লোকেরা পরস্পরের মধ্যে কথা বলতে পারে। সামাজিক মাধ্যম সরলার্থে আমাদের ধ্যান-ধারণার প্রকাশ ঘটায়, এর মাধ্যমে যেমন ঘৃণার বাক্য ও পর্নো এবং ধর্মবিদ্বেষ ছড়ানো সম্ভব তেমনি উদ্দীপনামূলক কথা ও শুভেচ্ছাবাণীও বিনিময় করা যায়। ব্যবহারকারীরা যদি কোনো উপাদানকে সমস্যাজনক মনে করে অভিযোগ দাখিল না করেন তবে নিজে থেকে সাইটগুলো সব কথোপকথন মডারেশন করতে পারে না_ অপরাধীকে শনাক্ত করে শাস্তিও দিতে পারে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, যুগপৎভাবে স্বাধীন মতপ্রকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আপত্তিকর উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করা যায় না_ এ বিষয়ে সল বেলোর সেই উক্তিটি স্মরণীয়, যেখানে তিনি বলেছেন, 'দমননীতির চূড়ান্ত বা যথাযথ অবস্থা বলে কিছু নেই_ কেউ যদি কানকে দমন করতে যায় তবে আবশ্যিকভাবে মাথাটিও দমিত হবে।'
এটা সত্য যে, অনলাইন বা অফলাইন যেখানেই ঘটুক_ সহিংসতার উস্কানি বা অপরাধে মদদের ঘটনা ঘটলে এর আইনি পরিণতি থাকে। কিন্তু গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, আমাদের স্বাধীন আদালত এবং গণতান্ত্রিক সরকার এ বিষয়ে চীনের সমকক্ষ হওয়াকে গর্বের বিষয় মনে করে। চীন সরকার আইএসপি ও কনটেন্ট প্রোভাইডারদের অনলাইন উপাদান তদারক করতে বাধ্য করেছে, 'সাইবার ভিন্নমতাবলম্বীদের' কারারুদ্ধ করেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এই বার্তা দিয়েছে যে, তারা তদারকি ও শাস্তির আওতায় আছে। তারপরও তাদের প্রক্সি সার্ভার, বিকল্প পদ্ধতি ও একই ধরনের চীনা ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। ওয়েবে সেন্সর আরোপের যে প্রযুক্তিগত বাধা আছে তার বাইরেও ভারত অপরিহার্যভাবে পরিপকস্ফ গণতন্ত্রের অধিকারী। ভারতের উচিত ওয়েব নিয়ন্ত্রণের জন্য এ ধরনের অভিপ্রায় প্রত্যাখ্যান করা, কেননা ভারত চীন নয়।

সম্পাদকীয়, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১৪ জানুয়ারি ২০১২, শনিবার
.....................................
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার খোজে

লিখেছেন শের শায়রী, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:০৩



চলুন কিছু প্রাচীন সভ্যতার খোজ নিয়ে আসি। এগুলো সব হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা। হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা যখন পড়ি আমি তখন হারিয়ে যাই ইতিহাসের স্বর্নালী দিন গুলোতে ওই সব জাতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১২৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:০১



১। আমার মতে ধর্ম থাকবে ধর্মের মতো, বিজ্ঞান বিজ্ঞানের মতো। তেল-জলকে ঝাঁকিয়ে এক করার প্রয়োজন নেই।
যারা ঝাকায় বা ঝাকাতে চেষ্টা করে তারা দুষ্ট লোক।

২। ছোটবেলায় আইনস্টাইন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাবাতিয়ান লাল পাথর

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৬



আরব সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনের সময়কার কথা । সেই সময়টিতে ছিল নাবাতিয়ান নামক এক যাযাবর জাতির দৌরাত্ম্য। তবে ইতিহাসবিদদের কাছে নাবাতিয়ানদের সম্পর্কে খুব একটা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের কথা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৪০



ছোটবেলা থেকেই আমি কিছু হতে চাই নি।
এই জন্য জীবনে কিছু হতে পারি নি। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা কত কিছু হতে চায়- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, শিক্ষক, পুলিশ ইত্যাদি কত কি। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

গবেষণা ও উন্নয়ন: আর কত নিচে নামলে তাকে নিচে নামা বলে???

লিখেছেন আখেনাটেন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৬


আমরা বেশির ভাগ বাংলাদেশীরা কঠোর প্রেমিক। তাই প্রেমের চেতনা কিংবা যাতনায় প্রেমিকার ‘কাপড় উথড়ানো’র জন্য আমাদের হাত নিশপিশ করে। কীভাবে বাংলাদেশ নামক প্রেমিকাকে ছিড়ে-ফুঁড়ে সর্বোচ্চ লুটে নিব এই ধান্ধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×