
হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত বলতে কিছু নেই। কিন্তু আমার সাথে যা ঘটেছে, তখন বিশ্বাস না করে উপায় নেই যে ভূত আছে। শেক্সপিয়ার থেকে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত বলেছেন, দুনিয়াতে অনেক কিছু আছে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। কুকুর এবং বিড়াল অশরীরিদের দেখতে পায়। আমি একবার ফরিদপুর বেড়াতে গিয়ে একটা ভূত দেখেছিলাম। মেয়েটার বয়স কত আর হবে, ১৮ কিংবা একুশ। মধ্যরাতে মেয়েটাকে দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়েছিলাম। পরে জেনেছি, মেয়েটা আত্মহত্যা করেছিল।
যদি দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ ভূতের গল্প পড়তে চান,
তাহলে হুমায়ুন আহমেদ সম্পাদিত একটা বই আছে। "আমার প্রিয় ভৌতিক গল্প"। বইয়ের প্রতিটা গল্প অসাধারণ! বারবার করে পড়লেও মন ভরে না। দুই বাংলার অনেকেই ভূতের গল্পের সংকলন করেছেন, কিন্তু আমি বলব, হুমায়ুন আহমেদের টা বেস্ট। দারুন সব গল্প। হুমায়ুন আহমেদ বেশ কিছু অসাধারণ ভূতের গল্প আছে। যেমন, ছায়াসঙ্গী। বাংলা সাহিত্যে এরকম গল্প নেই বললেই চলে। 'তন্দ্রা বিলাস: নামে চমৎকার একটা বই আছে। মিছিল আলি আছেন সেই বইতে। হুমায়ুন আহমেদের একটা বই আছে, বাচ্চাদের জন্য লেখা। নাম- বোতল ভূত। এই বইটা পড়ে আমি চরম আনন্দ পেয়েছি।
আমি মারাত্মক ভীতু মানুষ। নিজের ঘরেও আমি ভয় পাই।
মাথায় বেশ কিছু সাদা চুল উঁকি-ঝুকি দেয়, এখনো আমি ভূতের ভয়ে থাকি। আমার এমনই পোড়া কপাল, আমাকে রাতে একা ঘুমাতে হয়। আমার বিছানার পাশে কেউ একজন আসে। চুপ করে বসে থাকে। আমি তার নি:শ্বাসের শব্দ পর্যন্ত শুনতে পাই। আমি নিশ্চিত এটা একটা মেয়ে। মেয়েটা বেচে নেই। এই মেয়েটা আমাদের সাথে পড়তো। মিশু নাম। আমার সমস্যা হলো, ঘর পুরোপুরি অন্ধকার না করে ঘুমাতে পারি না। আমার স্ত্রী, কন্যা আমার সাথে ঘুমায় না। তারা এসি ছেড়ে ঘুমায়। আর এসিতে আমি ঘুমাতে পারি না। সারা রাত প্রায় আমাকে নির্ঘুম কাটাতে হয়। ফলাফল পরের দিন সারাদিন মূরগীর মতো ঝিমাই।
জ্বীন এবং ভূত কিন্তু এক জিনিস নয়।
জ্বীনকে ভূত ভাবলে গুনাহ হইবে। তবে দুষ্ট কিছু জ্বীন আছে। এরা মানুষের ক্ষতি করে। আমাদের সাথে একটা মেয়ে পড়তো লিসা নাম। সহজ সরল সুন্দর একটা মেয়ে। কিন্তু মারাত্মক সাহসী। লিসা একদিন আমাকে বলল, দোস্ত আমার একটা আবদার আছে। কি আবদার? লিসা বলল, সে সারারাত কবরস্থানে থাকবে। আমি যেন তার সাথে থাকি। আমাকে লিসার সাথে থাকতে হবে কারণ, বাংলাদেশ এখনো এত উন্নত হয়নি, যে একটা মেয়ে ঘরের বাইরে একা সময় কাটাবে। লিসার সাথে কুমিল্লা গেলাম। লিসার মামা কবরস্থানে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি। ব্যবস্থা করেছে, শ্মশানে থাকার। একটা লোককে পোড়াতে নিয়ে এসেছে। দরিদ্র লোক। পরিবারের কাছে শ্মশানের খরচ দেওয়ার মতো অবস্থা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

