আল্লাহ তাআলা মানুষের বাহ্যিক ধন-দৌলত এবং আকার আকৃতি দেখেন না, তিনি দেখেন মানুষের আমাল এবং অন্তর। নিজের আমাল সুন্দর করার জন্য কিছু সিফাতের (গুণ) প্রয়োজন, আর সেই সিফাতগুলোর মাঝে সর্ব প্রথম সিফাত হলো ঈমানের সিফত। কারণ যার ঈমান নাই তার কোনো আমালই আল্লাহ নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
১. ঈমানঃ
ঈমান হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকার কারনে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তিনি যে সকল খবর (বাণী) নিয়ে এসেছেন তা বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়া।
ঈমানের কালিমা হল, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।" অনুবাদ: নেই কোনো ইলাহ আল্লাহ ছাড়া, মুহাম্মাদ স. আল্লাহর রাসূল।
এটা ঈমানের কালিমা; ঈমান নয়। কালিমা পড়লে মানুষ মুসলমান হতে পারে; মুমিন নয়। ঈমান মেহনত করে অর্জন করতে হয়। আর এ জন্যই আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে ঈমান অর্জনের মেহনত করা। মেহনত ছাড়া কোনো কিছুই হাসিল হয় না। আবার ঘরে বসেও মেহনত করা যায় না। প্রত্যেকটি জিনিসের জন্যে আলাদা আলাদা জায়গা আছে। সাঁতার শিখতে হলে পানিতে নামতে হবে, সাইকেল চালানো শিখতে হলে রাস্তায় নামতে হবে, একইভাবে ঈমান শিখতে হলে মসজিদের পরিবেশে আসতে হবে। ইমাম বুখারী রহঃ বুখারী শরিফে বাব কায়েম করেছেন, "ঈমান বৃদ্ধি হয় মসজিদে ঈমানী হালকা কায়েম করার দ্বারা।" এবং সেখানে বেশ কয়েকজন সাহাবীর ঘটনাও বর্ণনা করেছেন।
ঈমানের উদ্দেশ্যঃ
ক) দিলের ইয়াকীন শুদ্ধ করা।
মাখলুক থেকে কিছুই হয় না। যা হয় একমাত্র আল্লাহ থেকেই হয়। চাকরি আমাকে খাওয়ায় না, ব্যবসা আমাকে পালে না, ক্ষেত আমাকে ফসল দেয় না। এ সবই আল্লাহ তাআলা দেন। আগুন আমাকে পোড়াতে পারে না, যেমন ইব্রাহিম আ. কে পুড়তে পারে নি। পানি আমাকে ডুবাতে পারে না, যেমন মূসা আ. কে ডুবাতে পারে নি।
খ) তরীকার ইয়াকীন শুদ্ধ করা। মুহাম্মাদ সা. এর তারীকা অনুযায়ী চললেই সফলতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, "যদি তোমরা মুহাম্মাদ স. -এর অনুসরণ করো হেদায়াত পাবে।"
গ) জযবার ইয়াকীন সহীহ করা;
১. মনের টান মাখলুক থেকে খালেকের দিকে ফিরানো।
২. মাল থেকে আ’মাল দিকে ফিরানো।
৩. দুনিয়া থেকে আখেরাতের দিকে ফিরানো।
# ঈমানের ফযিলতঃ
১. ঈমান দিয়েই তো বান্দা এবং আল্লাহ মাঝে সম্পর্ক স্থাপন হবে।
২. অনু পরিমান ঈমান নিয়ে যে ব্যাক্তি দুনিয়া থেকে যাবে, তাকে ১০ দুনিয়ার সমান জান্নাত দেয়া হবে।
৩. একজন ঈমানওয়ালা মানুষ যতদিন দুনিয়াতে থাকবে আল্লাহ তার বদৌলতে দুনিয়ার সমস্ত ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখবেন।
# হাসিল করার তরীকাঃ
ক. দাওয়াত।
খ. মশক।
গ. দোআ।
ক. দাওয়াতঃ
১. আল্লাহ থেকেই সমস্ত কিছু হয় মাখলুক থেকে কিছুই হয় না, এবং একমাত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতে ১০০% শান্তি ও কামিয়াবী অন্য কোনো তরীকা'তে শান্তি আর কামিয়াবি নেই, এ কথার দাওয়াত দেয়া।
২. দুনিয়ার হায়াত ক্ষণস্থায়ী আর আখেরাতের হায়াত চিরস্থায়ী। তাই পরকালের সফলাতাই আসল সফলতা, পরকালের পরাজয় আসল পরাজয়। দুনিয়ার সফলতা আসলে মরিচিকা, দুনিয়ার পরাজয় আসলে ধোকা। এই কথা মানুষ কে বলা।
কাকে দাওয়াত দেব? কোথায় দাওয়াত দেব?
উম্মতকে দাওয়াত দেব। যেখানে যেখানে উম্মত আছে সেখানে সেখানে দাওয়াত দিতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে পঁচিশ বার দাওয়াত দিতে হবে৷
কী বলে দাওয়াত দিব?
যেখানে যেখানে বস্তু থেকে হওয়ার কথা আলোচনা হয়, সেখানে সেখানে গিয়ে আল্লাহ থেকে হওয়ার কথা আলোচনা করবো। যেখানে মুহাম্মাদ স. -এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য তরীকার কথা আলোচনা করা হয় সেখানে গিয়ে রাসুলুল্লাহর সুন্নাহর প্রতি দাওয়াত দিবো। যেখানে মানুষের আগ্রহ অল্প সময়ের দুনিয়ার প্রতি সেখানে গিয়ে চিরস্থায়ী আখেরাতের দাওয়াত দিবো। নিজের জীবনে আনার জন্যই দাওয়াত দিতে হবে। আমরা সবাই হেদায়াতের কাণ্ডারী। আমরা তো দাওয়াত দেই নিজের ঈমান-আমল শুদ্ধ হওয়ার জন্য। যাকে দাওয়াত দিলাম সে যদি গ্রহণ করে, তাহলে তো আমি সওয়াব পেয়েই যাবো। আর যদি গ্রহণ না করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা যে আমার উপর দাওয়াতের কাজ ফরজ করেছিলেন সেই দায়িত্ব তো আদায় হয়ে গেলো। আল্লাহ তাআলার বড়ত্বের, আজমতের, একত্ববাদের দাওয়াত দিতে হবে। এভাবে দাওয়াত দেয়ার দ্বারা ঈমান মজবুত হবে; এই ঈমানকে মজবুত করার জন্যই ঈমানের মশক করতে হবে।
২) মশকঃ
ঘরে ও মসজিদে ঈমানি মজলিস কায়েম করে ৪ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
ক) আল্লাহ তাআলার কুদরতের কথা আলোচনা করতে হবে। আর তা হলো, আল্লাহ তাআলা আপন শক্তিতে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টির মধ্যে শক্তি নাই, শক্তি আর কুদরত তো আল্লাহ তাআলার সত্বার সাথে। তাই কিছু চাইতে হলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইবো, মাখলুকের কাছে আমাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। এভাবে দাওয়াত দেয়ার দ্বারা অন্তরে আল্লাহ পাকের আজমত বসবে, ধারনা পরিস্কার হবে।
খ) আল্লাহ তাআলা নবীদের সাথে সাধারণ নিয়মপরিপন্থী যে সব সাহায্য আর মদদ করছেন তা বেশি বেশি আলোচনা করা। যেমন, ঈব্রাহিম আ. কে আগুনের মধ্যে জীবিত রাখা, ইউনুস আ.-কে মাছের পেটে বাঁচিয়ে রাখা, মূসা আ.-কে ফেরাউন লা. থেকে মুক্তি দেয়া ইত্যাদি।
গ) ইয়াকিনের বুনিয়াদের উপর সাহাবাদেরকে সাধারণ নিয়মপরিপন্থী যে সকল মদদ আল্লাহ তাআলা করেছেন সেগুলো আলোচনা করা। ওমর ফারুক রা. কতৃক নীলনদে পানি প্রবাহিত হওয়া, তামিম দারি রা. কতৃক আগুন আগ্নেয়গিরিতে দাবিয়ে দেয়া ইত্যাদি
ঘ) ঈমানের লক্ষন সমূহের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে যে সব আয়াত ও হাদীস আছে সেগুলো আলোচনা করা। যেমন, - মুমিন সেই ব্যক্তি, যার ভালো কাজ তাকে শান্তি দেয় এবং মন্দ কাজ কষ্ট দেয়। - মুমিন সেই ব্যক্তি, যার মধ্যে আমানতদারী আছে ইত্যাদি। আর এ সবকিছু তখনই সম্ভব যখন আল্লাহ তাআলা তাওফিক দিবেন। নিজের বাহুবলে, টাকার ক্ষমতায় কোনো কিছু করা অসম্ভব। তাই আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। আর সে জন্যই বেশি বেশি দুআ করা।
৩) দোআঃ
আমাদের ঈমান যেন সাহাবাদের ঈমানের মত ঈমান হয়ে যায় সে জন্য দুআ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
# হে লোকসকল, তোমরা ঈমান আনো যেমন সাহাবারা এনেছে।
# যদি মানুষেরা ঈমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবা) এনেছ, তাহলে তারা হেদায়াত পেয়ে যাবে।
ঈমানের ইখলাস হলো, "ঈমান মানুষকে হারাম কাজ থেকে ফিরাবে।"
সারা বিশ্বজুড়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত চলছে। আমেরিকা, বৃটেন, ইউরোপসহ এমন কোনো দেশ নেই যেখানে এই মেহনত চলছে না। হাজারো অমুসলিম মুসলিম হচ্ছে হাজারো মুসলিম সঠিক ঈমানের দিশা পাচ্ছে।
কী বলেন, ঈমানের দাওয়াত দেয়ার জন্য সারা বিশ্বে সফর করার নিয়্যাত আছে তো? ইনশাআল্লাহ আমি তৈরি আছি........।
একজন মুসলিমের প্রথম সিফাত বা গুণ হচ্ছে "ঈমান"
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....
দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...
তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।