আপনি কি এই দেশে এমন কোনো ইসলামী সংগঠনের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন যে সংগঠনটি অন্যকোনো স্বার্থ হাসিল বা উদ্দেশ্য পূরণ ছাড়াই শুধুমাত্র ইসলামি অনুশাসন প্রতিষ্ঠা বা ইসলাম ধর্মের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার জন্য কাজ করে?
যদি এমন কিছুর অস্তিত্ব উপলব্ধি করেই থাকেন কিংবা আপনি হোন কোনো ইসলামি সংগঠনের কর্মী/সমর্থক তাহলে দয়াকরে অজ্ঞ এই আমাকে দুইটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান ।
প্রথমত আমি জানতে চাই, দেওয়ানবাগী ওরফে দেওয়ানা ভোগীকে চিনেন? দ্বিতীয়ত আমার জিজ্ঞাসা, প্রকৃত ইসলামী সংগঠন যদি বাংলাদেশে থেকেই থাকে তাহলে দেওয়ানভোগী কিভাবে দেশের প্রাণকেন্দ্রে বসে মহান রাব্বুল আলআমিন এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব আমাদের প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা

এর নামে একের পর এক কুৎসা রটায়? কেন আজ অবধি কোনো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি তথাকথিত ইসলামি সংগঠনগুলো? ইসলামের অবমাননা নীরবে মুখ বুঝে সহ্য করে তারা কিসের ইসলামী সংগঠন পরিচালনা করছে? এদেশ তো ইয়াহুদি মুল্লুক নয় যে তারা ধর্ম প্রচার করবে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ মহাগ্রন্থ আল কোরআনের জীবন বিধান বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়া। অথচ তারা একে অন্যের দোষত্রুটি বের করা, একে অন্যকে টেনে নীচে নামানো ছাড়া কিইবা করছে? একত্ববাদেই যদি সবার বিশ্বাস আর শেষ নবীরই যদি উম্মাত সবাই তাহলে এতো পরস্পর বিরোধীতা কিসের? এক ইসলামের পতাকার নীচে এতো মতভেদ কিসের? কোরআন তো আর একেক সংগঠনের জন্য আলাদাভাবে নাজিল হয়নি (নাউজুবিল্লাহ) তাহলে এই এক কোরআন অধ্যয়ন করে হাজারটা পথ কিভাবে আর কোথা থেকে নিয়ে আসলো একেকজন? এতেই কি বুঝা যায়না যে, ইসলাম কিংবা মুসলমান শুধুই বাহ্যিক একটা খোলস সবার কিন্তু অভ্যন্তরে ধর্মের দোহাই দিয়ে সবাই নিজের স্বার্থোদ্ধারের সুরঙ্গ খুঁড়তে ব্যস্ত? আরে নিজের দেশের কাফির মুসরিকদের কর্মকান্ডে সামান্য প্রতিবাদ করার সাহস, মনোবল বা ইচ্ছাই হয়তো যাদের নেই তারা আবার সিরিয়া, ফিলিস্তিনে গিয়ে যুদ্ধ করে শহীদ হবার জন্য উদ্বুদ্ধ করে বোকা মানুষকে। কেন? কারণ হয়তো সিরিয়া, ফিলিস্তিন বা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিগ্রহে মোজাহিদ পাঠালে নিশ্চই সংগঠনের নামে মোটা টাকা অনুদান আসে!
যুগেযুগে লালশালু ছিলো আর থাকবেও যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যুক্তিতে মুক্তি না খুঁজে ধর্মঢাল ব্যবহারকারী ব্যক্তিবর্গকে সরলমনে বিশ্বাস করে যাবো।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:২০