somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য!

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথায় বলে, বাঙালি দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য বোঝে না। দাঁত যে অমূল্য বস্তু। প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রত্যেক মানুষের দাঁত ওঠে। ফলে অনেকে দাঁতের যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। এ দাঁতের মূল্য তখন বোঝা না গেলেও যখন এটি নষ্ট হয় বা হারিয়ে যায় তখনই বোঝা যায়, এটি কত মূল্যবান। পরে প্রকৃত দাঁত তো পাওয়াই যায় না, উপরন্তু ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে একেকটি কৃত্রিম দাঁত লাগিয়েও অনেকে শান্তি পান না।
আসলে প্রচলিত প্রবাদটি প্রতীকী। দাঁত তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। সচরাচর বিরাজমান কোনো কিছুর গুরুত্ব আমরা তেমন বুঝি না। কিছুক্ষণের জন্যও না থাকলে বোঝা যায়, সেটা কত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে পানির কথা বলা যায়। শহরে যারা বাস করেন, তাদের জন্য বিষয়টা বোঝা সহজ। কারণ তারা ভুক্তভোগী। দেখা যায়, কারণে অকারণে আমরা অনেক পানি অপচয় করি। কিন্তু ১ ঘণ্টার জন্য পানি না থাকলেই শুরু হয় হাপিত্যেশ। গোসলের জন্য আমরা পাঁচ-ছয় বালতি পানি খরচ করি। অথচ সেই পানি না থাকার সময় সঞ্চিত এক বালতি দিয়েই অনেককে গোসলের কাজ সারতে হয়।

বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নানাভাবে আমরা এর অপচয় করি। কিন্তু চলে যাওয়ার পরই গ্রামের হারিকেন, কুপি তো বটেই; চার্জ লাইট, আইপিএস ইত্যাদি দিয়েও যখন সে আলোকিত হয় না, তখনই টের পাওয়া যায় বিদ্যুত্ কী জিনিস। শহরে গ্যাসের অপচয়ের কথা বলাই বাহুল্য। নানাভাবে সতর্ক করার পরও রাতের পর রাত অনেকে চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। যাদের গ্যাস নেই কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন, তারা তো বোঝেনই; গ্যাস থাকা অবস্থায়ও মাঝে মধ্যে যখন চাপ কম কিংবা থাকে না, তখন সবাই অনুভব করেন গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা। ঢাকার অনেক এলাকায় দেখা যায়, ফজরের আগেই কষ্ট করে উঠে গৃহিণীরা রান্নার কাজ সারেন। কেননা ৭টা-৮টার পর আর গ্যাস থাকে না।
সব ক্ষেত্রেই এটা দেখা যায়। সেলফোনের কথাই ধরা যাক, এতে যখন টাকা থাকে, অনেকে হেলায়-ফেলায় খরচ করেন। প্রয়োজনীয় এমনকি অপ্রয়োজনীয় কলও দেন। অথচ যখন টাকা থাকে না, তখন আফসোসের সীমা থাকে না। অনেক সময় যখন ‘কল’ দেয়ার টাকাও থাকে না, তখন বোঝা যায় কতটা অসহায় আমরা। আবার চাকরিজীবীরা মাসের প্রথম যখন বেতন পান, অনেকে ক’দিন ধুমধাম করে চলেন। পরে মনে হয়, ‘আগ থেকেই যদি সতর্ক হতাম।’ অসুস্থতার সময় অনুভব করা যায়, সুস্থতা কত সুখের।
অনেক সময় দেখা যায়, কাছে থাকলে কাউকে আমরা গুরুত্ব দিই না; অথচ দূরে চলে গেলে আফসোস হয়, তাকে যথাযথ সম্মান আমরা দিইনি। অনেক সময় ইগোর কারণে একজন আরেকজনকে পাত্তা দেন না। কারো অনুরোধ রক্ষা করেন না। নানাভাবে একজন আরেকজনকে অবজ্ঞা করেন। অনেক সময় একজন আরেকজনের ক্ষতিও করেন। মানুষের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। আরেকজনকে তার জায়গা থেকে জোর করে সরিয়ে দিতে চান। অথচ মরে গেলে প্রাণের শত্রুও বলেন, ‘আহা, মানুষটা বড় ভালো ছিল।’
এই তো জগত্। যতটা সম্ভব আমাদের উচিত সময়কে কাজে লাগানো। কাছে থাকা বস্তুর যথাযথ ব্যবহার করা, কোনো কিছু অপচয় না করে। সব কাজে সতর্ক ও সাবধান হওয়া উচিত। লালনের কথা বড়ই সুন্দর— সময় গেলে সাধন হবে না।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংকট: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর। এই স্তরেই শিশুর ভাষা, গণিত, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও জীবনদক্ষতার ভিত নির্মিত হয়। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতি, সামাজিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×