রেহানা বেগম কাপড়গুলো জড়িয়ে কাদতে থাকেন, তারপর কাদতে কাদতেই কাপড়গুলো তুলে দেন রহিমার হাতে। নিতে না চাইলেও একসময় অনীহাভরে কাপড়গুলো নিয়ে বেরিয়ে পড়ে কাজের বুয়া রহিমা। মৃত মানুষের বা তার মনিবের কাপড়গুলোর নেয়ার কোন ইচ্ছে ছিল না। বেশ বিলাসী মানুষ ছিলেন তার মনিব, কাপড়গুলোও দামী। তারপরও তার মন সায় দিচ্ছিল না কাপড়গুলো তার স্বামীর গায়ে চড়ানোর। হাসি পায় রহিমার, সারা বছর খেটে খুটেও একটি ভাল জামা কেনার সাধ্য হয়নি তার স্বামীর, অথচ এই দামী কাপড়গুলো অসহনীয় উঠেছে তার কাছে। নিজের বস্তির কাছাকাছি পৌছে গেলে, অসস্বস্তি বেড়ে যায় তার। পেছনে কিছুদুর হেটে গিয়ে এসে দাড়ায় ছিন্ন বস্রের এক ভিক্ষুকের কাছে, ভিক্ষুকটি থালা নিয়ে মাটিতে বসা। সুযোগ বুঝে কাপড়গুলো ভিক্ষুকের কাছে ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালায় রহিমা। হাতের কাছে দামী কাপড়গুলো পেয়ে কিছুটা বোকা বনে যায় শীর্ণকায় ভিক্ষুকটি। ব্রান্ডের কাপড়গুলোর উপর চোখ পড়ে এক যুবকেরও। সন্দেহের চোখে তাকায় ভিক্ষুকের দিকে। চাহনীতে ভড়কে যায় ভিক্ষুকটি। মানুষজন চুরি করা মাল ভাবতে শুরু করলে বিপদ। অসস্বস্তি বেড়ে যায় তার। কিছুদুর দাড়িয়ে থাকা ময়লার গাড়িতে দিকে এগোয় সে কাপড়গুলো জড়িয়ে ধরে। সুযোগ বুঝে কাপড়গুলো ছুড়ে ফেলে ময়লার গাড়িতে। একধরনের স্বস্তিতে মন ভড়ে উঠে ভিক্ষুকটির।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


