somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল-হাজ্জ মালিক আল-শাব্বাজ - ম্যালকম এক্স একজন মানবাধিকার কর্মী

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৫৭ সালে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের দুই কর্মকর্তা একজন কৃষ্ণাঙ্গকে মারধর করার সময় জনসন নামক একজন কৃষ্ণাঙ্গ পথচারী "এটা আলাবামা নয়, এটা নিউইয়র্ক" বলে চিৎকার করে বাধা দিতে গেলে, একজন পুলিশ তার উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। ফলে তিনি মারাত্মক আহত হয়ে পড়েন। পুলিশ ঐ ঘটনায় চারজন কৃষ্ণাঙ্গকে আটক করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। ঘটনা জানতে পেরে ম্যালকম এক্স কিছু সহচর নিয়ে উপস্থিত হন পুলিশ স্টেশনে। প্রথমে পুলিশ ঘটনাটি অস্বীকার করে। পরে আরো কিছু মানুস জড়ো হলে, পুলিশ বাধ্য হয়ে, জনসনের সাথে ম্যালকম এক্সের কথা বলার সুযোগ দেয়। ম্যালকম এক্স চিকিতসার জন্য জনসনকে হাসপাতালে পাঠান। জনসনকে যখন পুলিশ স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়, তখন প্রায় চার হাজার মানুষ পুলিশ স্টেশন ঘিরে ফেলেছে। তারপরও পুলিশ জনসনকে জামিন দিতে রাজি হয়নি। অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে, ম্যালকম এক্স পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে জনতার দিকে হাতের ইশারা দেন। হাতের ইশারায় জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে পুলিশ স্টেশন ত্যাগ করতে শুরু করে।

এই ঘটনায় New York Amsterdam News কে এক পুলিশ অফিসার বলেছিলেন, "কোনও মানুষকে এত ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।

একমাসের মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ম্যালকম এক্স এর উপর নজরদারী শুরু করে। যে সকল শহরে ম্যালকম এক্স বসবাস করতেন, সেখানকার কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। গ্রান্ড জুরি জনসনকে নির্যাতনকারী কর্মকর্তাদের বিচার করতে অস্বীকার করলে, ম্যালকম এক্স রাগ করে পুলিশকে টেলিগ্রাম পাঠান। এ কারণে শীঘ্রই পুলিশ বিভাগ ম্যালকম এক্সের জন্য গোপন অফিসার নিয়োগ করে। ধীরে ধীরে মার্টিন লুথার কিং এর পরে তিনিই হয়ে উঠেন কালোদের প্রধান মুক্তিকামী নেতা। ম্যালকম এক্স আপোষকামী ছিলেন না বলে, সাদাদের কাছে মার্টিন লুথার কিং এর মত এত কদর ছিল না।

ম্যালকম এক্স এর আত্মজীবনী 1965 সালে প্রকাশিত হয়, ম্যালকম এক্স এবং সাংবাদিক অ্যালেক্স হেলির মধ্যকার সহযোগিতার ফলে।

টাইম ম্যাগাজিনের মতে বইটি ২০ শতাব্দির সবচাইতে প্রভাবশালী (10 most influential non-fiction books of the 20th century) বইয়ের একটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের সমালোচক এটিকে একটি "উজ্জ্বল, বেদনাদায়ক, গুরুত্বপূর্ণ বই" হিসাবে বর্ণনা করেন।

১৯৬৭ সাকে ইতিহাসবিদ উইলিয়ামের মতে এটি ক্লাসিক্যাল আমেরিকান অটোবায়োগ্রাফিতে পরিনত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায় যে ১৯৭৭ সালের মধ্যে বইটির ছয় মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।

ধর্মান্তরের পর ১৯৬৪ সাকে মক্কায় হজে গেলে বিভিন্ন বর্ণের বিভিন্ন জাতের মানুষের মিলন দেখে তিনি বলেন একমাত্র ইসলামই পারে বর্ণবাদ দুর করতে।

অনেকের মতই হজে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হজ সাদা এবং বর্ণবাদ সম্পর্কে তার দৃষ্টিকোণকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে সাহায্য। করে।

নীচে তার এক সহকারী কাছে ম্যালকম এক্সের লেখা চিঠি ইংরেজিতে দেয়া হল।

হজের সময়ে ভার যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তাই তিনি হৃদয় থেকে বলেছেন এই চিঠিতে।

“Never have I witnessed such sincere hospitality and overwhelming spirit of true brotherhood as is practiced by people of all colors and races here in this ancient Holy Land, the home of Abraham, Muhammad and all the other Prophets of the Holy Scriptures. For the past week, I have been utterly speechless and spellbound by the graciousness I see displayed all around me by people of all colors.

“I have been blessed to visit the Holy City of Mecca, I have made my seven circuits around the Ka’ba, led by a young Mutawaf named Muhammad, I drank water from the well of the Zam Zam. I ran seven times back and forth between the hills of Mt. Al-Safa and Al Marwah. I have prayed in the ancient city of Mina, and I have prayed on Mt. Arafat.

“There were tens of thousands of pilgrims, from all over the world. They were of all colors, from blue-eyed blondes to black-skinned Africans. But we were all participating in the same ritual, displaying a spirit of unity and brotherhood that my experiences in America had led me to believe never could exist between the white and non-white.

“America needs to understand Islam, because this is the one religion that erases from its society the race problem. Throughout my travels in the Muslim world, I have met, talked to, and even eaten with people who in America would have been considered white - but the white attitude was removed from their minds by the religion of Islam. I have never before seen sincere and true brotherhood practiced by all colors together, irrespective of their color.

“You may be shocked by these words coming from me. But on this pilgrimage, what I have seen, and experienced, has forced me to rearrange much of my thought-patterns previously held, and to toss aside some of my previous conclusions. This was not too difficult for me. Despite my firm convictions, I have always been a man who tries to face facts, and to accept the reality of life as new experience and new knowledge unfolds it. I have always kept an open mind, which is necessary to the flexibility that must go hand in hand with every form of intelligent search for truth.

“During the past eleven days here in the Muslim world, I have eaten from the same plate, drunk from the same glass, and slept on the same rug - while praying to the same God - with fellow Muslims, whose eyes were the bluest of blue, whose hair was the blondest of blond, and whose skin was the whitest of white. And in the words and in the deeds of the white Muslims, I felt the same sincerity that I felt among the black African Muslims of Nigeria, Sudan and Ghana.

“We were truly all the same (brothers) - because their belief in one God had removed the white from their minds, the white from their behavior, and the white from their attitude.

“I could see from this, that perhaps if white Americans could accept the Oneness of God, then perhaps, too, they could accept in reality the Oneness of Man - and cease to measure, and hinder, and harm others in terms of their ‘differences’ in color.

“With racism plaguing America like an incurable cancer, the so-called ‘Christian’ white American heart should be more receptive to a proven solution to such a destructive problem. Perhaps it could be in time to save America from imminent disaster - the same destruction brought upon Germany by racism that eventually destroyed the Germans themselves.

“Each hour here in the Holy Land enables me to have greater spiritual insights into what is happening in America between black and white. The American Negro never can be blamed for his racial animosities - he is only reacting to four hundred years of the conscious racism of the American whites. But as racism leads America up the suicide path, I do believe, from the experiences that I have had with them, that the whites of the younger generation, in the colleges and universities, will see the handwriting on the walls and many of them will turn to the spiritual path of truth - the only way left to America to ward off the disaster that racism inevitably must lead to.

“Never have I been so highly honored. Never have I been made to feel more humble and unworthy. Who would believe the blessings that have been heaped upon an American Negro? A few nights ago, a man who would be called in America a white man, a United Nations diplomat, an ambassador, a companion of kings, gave me his hotel suite, his bed. Never would I have even thought of dreaming that I would ever be a recipient of such honors - honors that in America would be bestowed upon a King - not a Negro.

“All praise is due to God, the Lord of all the Worlds.”

Malcolm X saw and experienced many positive things. Generosity and openheartedness were qualities which were impressed on him by the welcome which he received in many places. He saw brotherhood and the brotherhood of different races and this led him to disclaim racism and to say:

“I am not a racist... In the past I permitted myself to be used... to make sweeping indictments of all white people, the entire white race, and these generalizations have caused injuries to some whites who perhaps did not deserve to be hurt. Because of the spiritual enlightenment which I was blessed to receive as the result of my recent pilgrimage to the Holy City of Mecca, I no longer subscribe to sweeping indictments of any one race. I am now striving to live the life of a true Sunni Muslim. I must repeat that I am not a racist nor do I subscribe to the tenets of racism. I can state in all sincerity that I wish nothing but freedom, justice and equality, life, liberty and the pursuit of happiness for all people.”




সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৫
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবৈধ উপার্জনের সুযোগ ও উৎস বন্ধ করুন - মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি এমনিতেই কমে যাবে ।

লিখেছেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:২৯

দুর্নীতিই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা | আমরা যেমন অক্সিজেনের মধ্যে বসবাস করি বলে এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি না, আমাদের গোটা জাতি এই চরম দুর্নীতির মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রয়েছে বিধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রভাতী প্রার্থনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫


প্রভাত বেলার নব রবি কিরণে ঘুচুক আঁধারের যত পাপ ও কালো ,
অনাচার পঙ্কিলতা দূর হোক সব ,ভালোত্ব যত ছড়াক আলো ।

আঁধার রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ১৫: যবনিকা পর্ব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪১

এর আগের পর্বটিঃ আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ১৪: বেলা শেষের গান


শ্রীনগর বিমান বন্দর টার্মিনালের মেঝেতে বিচরণরত একটি শালিক পাখি

টার্মিনাল ভবনের প্রবেশ ফটকে এসে দেখলাম, তখনো সময় হয়নি বলে নিরাপত্তা প্রহরীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মপক্ষ সমর্থন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯



আর কিছুদিন পর সামুতে আমার রেজিস্ট্রেশনের ৮ বছর পূর্ণ হবে।রেজিস্ট্রেশনের আগে সামুতে আমার বিচরণ ছিল। এই পোস্ট সেই পোস্ট দেখে বেড়াতাম। মন্তব্য গুলো মনোযোগ সহকারে পড়তাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালোটাকা দেশে বিপুল পরিমাণে বেকারত্বের সৃষ্টি করছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫



কালোটাকা হলো, দেশের উৎপাদনমুখী সেক্টর ও বাজার থেকে সরানো মুদ্রা; কালোটাকা অসৎ মালিকের হাতে পড়ে স্হবির কোন সেক্টরে প্রবেশ করে, কিংবা ক্যাশ হিসেবে সিন্ধুকে আটকা পড়ে, অথবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×