somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় : বাড়ছে মেধাবীদের আগ্রহ (পত্রিকার পাতা থেকে)

০২ রা অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষকদের আন্তরিকতা, প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনগুলোর সদিচ্ছায় বর্তমানে সেশনজট থেকে মুক্তির পথে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচটি ব্যাচের সেশনজট প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। স্বতন্ত্র ভর্তি ও শিক্ষা পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক মানের সিলেবাস, প্রযুক্তিনির্ভর এবং প্রয়োগমুখী শিক্ষার কল্যাণে প্রকৃতভাবে সেশনজট মুক্তির পথে বলে দাবি মেধাবী শিক্ষার্থীদের। এখানে আছে শুধু একঝাঁক মেধাবীর প্রাণচঞ্চল আবেগ ও ক্যারিয়ার গড়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা। এমনকি থেমে নেই শাবির নানা ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মেধাবীদের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাবিতে বর্তমানে ৯টি ব্যাচ অধ্যয়নরত রয়েছে। এর মধ্যে শেষ ৫টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টারগুলো যথাসময়ে শুরু ও সম্পন্ন করেছে। তবে অন্যান্য ব্যাচে সেশনজট থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে অনেক কমেছে। এখানে বর্তমানে ৫২ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যার মধ্যে ২ হাজার ২৯ জন ছাত্রী এবং ৭ হাজার ৩৩ জন ছাত্র রয়েছে। আর তাদের পাঠদানে রয়েছেন ৩৭২ জন শিক্ষক।

সর্বশেষ ২০০৯-১০ এবং ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১ সেমিস্টার এগিয়ে আছে। শাবিতে বছরে ২টি সেমিস্টারে তথা জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর—এই সেশনে যথাসময়ের মধ্যে সেমিস্টার শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ছিল সেশনজট কমিয়ে আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ফলাফলের এ বিন্যাস শাবিকে এনে দিয়েছে স্বাতন্ত্র্য মর্যাদা। সিলেবাস প্রণয়নে বিশ্বের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুসরণ করা হয়। এখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনে সিসিএনএ ও পিজিডি কোর্স এবং ইংরেজি বিভাগের অধীনে ইএলপিসি কোর্স পরিচালিত হয়। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের নূর জাহান শিমু বলেন, সেশনজট কমে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই ইতিবাচক। তবে এ অবস্থা ধরে রাখাটাই বড় ব্যাপার।

কিন্তু যাত্রা শুরুর পর গত ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিচ্ছিন্ন অচলাবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়টির সেশনজট বাড়তে থাকে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের মধ্যে বিভিন্ন সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষা কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এরপর ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনায় শাবিতে ঘটেনি কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। নিয়মিত চলেছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম। এছাড়া সেশনজট কমানোর লক্ষ্যে শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর সদিচ্ছা ফিরিয়ে দিয়েছে শাবির একাডেমিক কার্যক্রমের গতিশীলতা।

এমনকি থেমে নেই শাবির উন্নয়ন কার্যক্রম। ৪ তলাবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন, ২টি আবাসিক ছাত্র ও ছাত্রী হল, অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো, সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য মুক্তমঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এদিকে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নির্মাণাধীন কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অসমাপ্ত কাজ বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ সালেহ উদ্দিন যোগদানের পর সমাপ্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়ায় এরই মধ্যে অধিকাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বপ্রথম মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তি পদ্ধতি উদ্ভাবক ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত শাবিতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিটি বিল্ডিং নির্মাণ হতে যাচ্ছে। একমাত্র শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরো ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো তারবিহীন ইন্টারনেট ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসকে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ভিসির নেতৃত্বে স্যাটারডে ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য হলের পাশে ব্যয়বহুলভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন উন্নয়নের অনন্য উদাহরণ। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চললেও আবাসিক ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবি হল মসজিদের সংস্কার কাজে অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শাবি ভিসি প্রফেসর ড. মো. সালেহ উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রমের গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এক্ষেত্রে তিনি প্রথমেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন
করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এবং
শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পরিশ্রম করে যাওয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রশাসনকে সহযোগিতা করাকে। এছাড়া তিনি শিক্ষক সঙ্কট নিরসনের ব্যাপারে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এরই মধ্যে কিছু শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ২:১৭
১৪টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×