অনেকদিন কিছুই লিখিনা। মাথায় তেমন কিছু আসেনা শুধু কিছু আবেগ ছাড়া। তাও শুধু নেতিবাচক আবেগ। এর মধ্যে এক নম্বরেই আছে ঘৃণা। যদিও আমি ঘৃণা নামক আবেগটিকে অপছন্দ করি এবং এটি ছড়াতেও আমি পছন্দ করিনা তারপরও অবচেতন মনে শুধুই ঘৃণা ভর করে। ঘৃণা দিয়ে শুধু ধ্বংস করা যায়, কিছু সৃষ্টি করা যায়না। তারপরও মাঝে মধ্যে ঘৃণার কথাই বেশি বলতে ইচ্ছে করে। মানব মন বলে কথা। তেমনি দুএকটি ঘৃণার কথাই আজ বলবো।
আমাদের দেশে একশ্রেণীর দলান্ধ লোক রয়েছে, আমি তাদের দালাল বলতে নারাজ কারণ দালাল শব্দটি অতিরিক্ত ঘৃণা প্রকাশ করে। এরা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যেই সমভাবে বিরাজমান। এর বিএনপি সমর্থক অংশটি ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলাকেও আওয়ামীলীগের কাজ বলে মনে করে। কিন্তু এর বিপরীতে কোন বোধগম্য কারণ তুলে ধরতে পারেনা। আবার আওয়ামীলীগ সমর্থক অংশটিও কোনদিক থেকে কম যাননা। তারা তাদের দলের যে কারও অন্যায় আচরণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। বিস্তারিত বিবরণে যাওয়ার দরকার মনে করছিনা। শুধু একটি বিষয় তুলে ধরছি। এবছরের এপ্রিলের কোন এক সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন কোটা ব্যবস্থা থাকবেনা। যদিও এরকম দাবি কারো ছিলোনা। আমি বলেছিলাম এটা আন্দোলন দমন করার একটা কৌশল মাত্র। দেশের শতকরা একভাগ মানুষও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বানোয়াট হিসেবে নিতে পারেনি। সবাই সরল মনে বিশ্বাস করেছিল। আমি বলেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, " আমি যদি নির্বাচনে যাই, তবে জাতীয় বেঈমান হয়ে যাব।" এই বক্তব্য দেওয়ার পরের দিনই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। অতএব, কথার বরখেলাপ তার কাছে অতি সাধারণ ব্যাপার। কারণ তিনি অবলীলায় মিথ্যা বলে যেতে পারেন। এটা তার কাছে খুবই মামুলি ব্যাপার। এখন আওয়ামীলীগ দলান্ধরা প্রধানমন্ত্রীর এই বেঈমানীকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছেন। আর ছাত্রলীগ যা করছে তাতো বলাই বাহুল্য। অথচ প্রধানমন্ত্রী যেদিন কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন সেদিন দুপুরবেলা ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট আর সেক্রেটারী তাদের ভেরিফাইড পেইজে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কথা অগ্রীম স্ট্যাটাস দিয়ে জানান।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



