somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্লেন দূর্ঘটনা ও অামরা

১৩ ই মার্চ, ২০১৮ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকালের বিমান দূর্ঘটনায় বিশেষজ্ঞের মতো বিশেষিত মতামত দিলো এক রিকশাওয়ালা ! যাত্রী যেহেতু অামিই, তাই এই মুহুর্তে তার কথাগুলোও উড়িয়ে দেওয়া সমীচিন হবে না ! তার মতে,
"এটা অাসলে সরকারের একটা রাজনীতি বুজলেন মামা ! সরকার জনগনের মতিগতি উল্টাদিকে ঘুরানোর জন্যই এরকম একটা জঘন্য কাজ করলো, ক্ষমতার লোব খুব বড় লোব মামা"...
মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো তার কথা শুনে ! রিকশা থেকে নেমে বাসে উঠলাম ! কন্ট্রাক্টর ভাড়া চাইতে অাসলে বললাম, মামা স্টুডেন্ট ভাড়া রাখো ! সে বললো,
"বাসে উঠেও স্টুডেন্ট ভাড়া দেন ! অাচ্ছা মামা, অাপনারা পেলেনে উঠলেও কি স্টুডেন্ট ভাড়াই দেন ! এই জন্যই তো দ্যাশের পেলেন একসিডেন্ট করে ! ন্যাহ্য ভাড়া না দিলে পিলেন তো অার পানি দিয়া চলবে না ! এই অাপনাদের কিপটামির লাইগাই তো অামাগোরে এতো কষ্ট".....
কথাডা অামিও ভেবে দেখি নাই ! অাচ্ছা প্লেনে কি স্টুডেন্ট পাশ অাছে? যদি থাকে তাইলে ওইডা লোকাল প্লেন! বাংলায় যাকে বলে মুড়ির টিন/লক্কর ঝক্কড় প্লেন ! সেই ১৭বছরের পুরনো প্লেনে দূর্ঘটনা তো অস্বাভাবিক কিছু না ! ঘটতেই পারে বৈকি !
একটু পর বাসে এক ভিক্ষুক উঠে ভিক্ষা চাওয়া শুরু করলো ! সে বললো, যে যত বেশী দান করবেন, অাল্লাহ তার সন্তানকে ততো উচা জায়গায় বসাবেন ! তাই বলে অাবার ভাইবেন না যে, অামি নেপালের প্লেনে বসার কথা বলছি ! ওখানে অামাদের ছেলেদের কোনো দোষ ছিল না, সব দোষ ওই ব্যাটা নেপালের ট্রাফিক পুলিশের ! ব্যাটা পিলেনের লাইগা রাস্তাই যদি ফাঁকা করতে না পারবি, তাইলে পুলিশের চাকরি নিছিস ক্যান, গুলশান মোড়ে অাইসা এই সিমেন্টের ছাতির নিচে একটা লাঠি হাতে দাড়ালেই তো পারিস! কদিন অামাগো পুলিশের সাতে হেলপারি করলেই তো বুইজা যাবি ক্যামনে ভিঅাইপিগো লাইগা রাস্তা ফাকা করা লাগে ! টেনিংয়ের অভাব, টেনিংয়ের ..."
অাজকাল এদেরকে যাত্রীরা পয়সাটয়সা দেয় না খুব একটা ! রাগে অাক্ষেপে গজগজ করতে করতে নেমে গেলো লোকটা !
এই মুহুর্তে বাসটা ঠিক গুলশানের মাথায় এসেই সিগন্যালে পড়লো ! পাশে বসা যাত্রীটা খেকিয়ে উঠে বললো, শালা ড্রাইভার ইচ্ছা কইরাই সিগন্যালে ফেলছে ! এখন ইচ্ছামতোন যাত্রী উঠাবে ! বাসে দাড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই অথচ তার লোক তুলাই লাগবে! তোদের এতো লোব ক্যান ?
তার কথায় সায় দিলো পাশের অারেক যাত্রী!
"অারে, ওদের দোষ দিয়া লাভ কি ! ইউএস-বাংলার প্লেনেও তো অাজকাল এরকম অাজাগায় থামায়া লোকাল যাত্রী উঠায় ! অামার এক চাচাতো শালীর দুলাভাইয়ের ছোটবোনের ননদের ফুপা নেপাল সিটি কর্পোরেশনে চাকরি করে ! কালকে তার ডিউটি ছিল ওই বিমানবন্দরের কাছেই ! হাজার হোক খুবই নিকটাত্বীয়, তো অার অামাকে মিথ্যা বলবে না ! ও নিজ কানে শুনেছে, ট্রাফিক পুলিশ সব কাজ ঠিকঠাকই করেছে কিন্তু ওই যে, লোকাল যাত্রী উঠানোর অভ্যাস ! এক লোক নাকি তখন কোর্টস্যুট পরে একবার হাতের ইশারা করে প্লেন থামাতে বলছে, অার শালা ড্রাইভার তাড়াহুড়া করে প্লেন থামাতে গিয়াই তো এরম কান্ডটা ঘটালো !
এবার অাগেরজন বলে উঠলো, করবেই তো ! ওই ব্যাটাও বোধহয় অাগে এই বাসেরই ড্রাইভার ছিল ! ব্যাটা তোর তো মাথায় রাখা উচিত যে, বাস চালানো অার প্লেন চালানো এক জিনিস না !
সায় দিলো পাশেরজন, অার বইলেন না ভাই! ঢেকি স্বর্গে গেলেও ওই ধানই ভানে......

অার লিখতে ইচ্ছে করছে না ! অামাদের দেশের মতো মানুষ হয়তো দুনিয়ার খুব কম দেশেই অাছে, যারা সৃষ্টিকর্তার কাছে ধৈর্য্য প্রার্থনার সময়ও বলে, 'অাল্লা অামার ধৈর্য্য দাও ! এক্ষুনি দাও, কুইক ! দাও অাল্লাহ! তোমার কাছে অার কতো ধৈর্য্য চাইবো ! তাড়াতাড়ি ধৈর্য্যটা দাও অাল্লাহ !'.....
সেই সাথে অামরা একেকজন হয়েছি ফেসবুক বিশেষজ্ঞ ! যে কি না, এয়ারোপ্লেন শব্দটাও ঠিকভাবে উচ্চারন করতে পারে না, সেও অাজ বিশাল বড় এক এয়ার রুট বিশেষজ্ঞ ! কার দোষ ছিল, কি কি করলে দূর্ঘটনা এড়ানো যেতো, ওটা না করে কি করা দরকার ছিল, ০২ তে না গিয়ে ২০তে কেনো গেলো, এসব নিয়ে অামাদের বিশেষবাণীর শেষ নেই.... এখন অাবার এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে অাজকাল সাংবাদিকরাও মতামত প্রদান শুরু করে দিয়েছে ! তাদের এয়ার রুট সম্পর্কে জানার পরিধি থাকা না বিষয় না, তাকেও এই মুহুর্তে একজন বিশেষজ্ঞ হইতে হবে এটাই অাসল কথা!

কেনো রে ভাই ! ব্ল্যাকবক্সটা অক্ষত পাওয়া গেছে, দূর্ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে ! অামরা কি অাসল সত্যিটা জেনে পরবর্তী করণীয় কি হওয়া উচিত সেটা মানার জন্য ক'টা দিন ধৈর্য্য ধরে নিজেদের প্রস্তত করতে পারি না ? নিহতদের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করার বদলে ফেসবুক বিশেষজ্ঞ হওয়াটা কি এই মুহুর্তে খুব জরুরী !!!!
খুব ?

আল্লাহ অামাদের সবাইকে নিরাপদে রাখুক !
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প না

লিখেছেন নীলপরি, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩৫




তুলে রেখেছি এক চিলতে কল্পনা
আর অল্প একটু জল্পনা
জেনো , এসবই হোলো গল্পনা!


যখন জ্যোৎস্না-নদী হাত বাড়িয়ে ডাকে
রাত-পাখী চোখ খুলে রাখে
ওরাই তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার অ্যাটাক

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫০



রাত ১২।০০ বাজে। ঢাকার অদূরে উপশহরের নির্জন এক বাগান বাড়ির হলুদ রঙা তিন তলা বিল্ডিং এর ২য় তলায় জঙ্গিদের সভা বসেছে। বিদ্যুৎ থাকলেও সবক’টা বাতি নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে সভাকক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ভাঙাচোরা স্বপ্ন

লিখেছেন স্রাঞ্জি সে, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৭



নির্ঘুম রাত প্রহরী আমি এক ব্যর্থ কিশোর
ঘোমট তিমির অন্দরে ডুবে থাকা সব স্বপ্ন,
সবি আশার দেনাপাওনা নীলাভ গভীরে প্রোথিত হয়ে
একচ্ছত্র হারিয়ে যাওয়ার শূন্যতার অনুভবে মগ্ন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা এবং ডঃ কামাল হোসেন দ্বন্দ্ব ও আওয়ামী লীগ থেকে কামাল হোসেনের বেরিয়ে আসার সেই দিনগুলো কেমন ছিল ? :(

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৯


শেখ হাসিনা এবং ডঃ কামাল হোসেন দ্বন্দ্ব ও আওয়ামী লীগ থেকে কামাল হোসেনের বেরিয়ে আসার সেই দিনগুলো কেমন ছিল ? :(
১৯৯১ সালের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জয়লাভের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ছাড়া কে এমন ভালোবাসবে?

লিখেছেন সামিয়া, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৮




তোমার অদৃশ্য রুপ দেখতে দেখতে একদিন স্পষ্ট বাস্তব,বিশাল সমুদ্রের শূন্যতার ভেতরে উত্তাল তবু একাকীত্ব জীবনের মোড় নিল নতুন জীবনে।
দিগন্ত রেখার বাইরে নিয়ে যায় সে জীবন রোজ রোজ নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×