somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শপিংয়ের শাটার খোলা, মসজিদে তালা !

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মসজিদ খোলার বিপক্ষে কেনো বলতে বসলাম, শপিং সেন্টার খোলা নিয়ে কেনো বলছি না !

এই কথা যখন লিখছি তখন,

বাংলাদেশে আজ করোনা রোগী ধরা পড়েছে সর্বোচ্চ(৭৯০) জন ! দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিদিন ৩৩০০ কোটি টাকা ! আগামী বাজেট বরাদ্দ হবে কিভাবে, তা নিয়ে অর্থমন্ত্রনালয়ের অলরেডী ঘুম হারাম হয়ে গেছে ! জিনিসপত্রের দাম ইতিমধ্যেই ধরাছোয়ার বাইরে চলে যেতে শুরু করেছে ! রংপুরে প্রায় হাজারখানেক রিকশাচালক চিল্লাচিল্লি করছে লকডাউন তুলে দেওয়ার জন্যে ! পরিবহন শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধ করেছে পরিবহন চালু করার জন্য.....আর না বলি আমাদের দেশেরটা !

আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তিশালীতা নিয়ে বলার কিছু নাই তবুও সেখানে এই লকডাউনের কারনে ১৯ লক্ষ মানুষ বেকার হয়েছেন, নিউইয়র্কে লকডাউন তুলে নেওয়ার জন্য বিক্ষোভ চলছে, হোয়াইট হাউজের সামনে নার্সরা বিক্ষোভ করছে মাস্কের দাবিতে ! ট্রাম্প বলছেন, এই লকডাউন বেশীদিন চলতে দেওয়া হলে আমেরিকার অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে !

সরকার নিজেকে যতই ইউরোপ-আমেরিকা দাবি করুক, অন্তত আপনি জানেন আপনার দেশ অর্থনৈতিকভাবে কতটুকু শক্তিশালী ! আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপি-আমলারা কতটুকু দায়িত্বশীলতার সাথে দেশ পরিচালনা করছে তা আপনি বুঝছেন, সেই সাথে কতোটা সততার সাথে চেয়ারম্যানরা চাল-ডাল-তেলের খনি থেকে তেল উত্তোলন করে জনতার মাঝে বিতরন করছে তা আপনি নিজ চোখে দেখছেন !

তো এই ব্যবস্থার মধ্যে আপনি কতোদিন মানুষের মুখে খাবার তুলে না দিয়ে ঘরে বসিয়ে রাখবেন ! আজ হোক কাল হোক আপনাকে সবকিছু খুলে দিতেই হবে, তা সে ঘোষনা দিয়ে হোক বা না দিয়ে হোক ! তবে যেহেতু রোগীর সংখ্যা এখনো হাজারের নিচে রয়েছে সুতরাং আমরা চাইলে আরো কিছুদিন ওয়েট করতে পারতাম ! অন্তত এই মাসটা পর্যবেক্ষন করতে পারতাম ! সুতরাং বাজার খুলে দেওয়াটা সরকারের অগ্রিম সিদ্ধান্ত তবে বিরোধীতা করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নয় !

এবার আসি মসজিদ খোলা প্রসঙ্গে !

হাদীসে বোখারীতে একটা ঘটনা উল্লেখ আছে !
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি তার মুয়াজ্জিনকে এক বর্ষণমুখর দিনে বললেন,

"তুমি যখন আযানে, আশহাদুআন্না মুহাম্মাদার রসূলূল্লাহ বলবে তখন তার পর হাইয়া আলাস সালাহ বলবে না, এর পরিবর্তে বলবে, 'সাললূ ফী বুয়ুতিকুম'(তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায় করো)! লোকেরা তা পছন্দ করলো না, তখন আমি বললাম, আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই(নবীজি) তা করেছেন ! জুমুআ নিঃসন্দেহে জরুরী, আমি চাই না, তোমাদেরকে মাটি ও পানির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলে দিই"..

তার মানে, যুক্তিসঙ্গত ওযরে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে ! যেখানে ঝড়-বৃষ্টির সময় সামান্য কাদা-পানি থেকে বাঁচতে মসজিদে না যাওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে অথচ এখন আমরা এমন অবস্থার মধ্যে আছি যখন বাইরে গেলে মৃত্যুর সম্ভাবনাও আছে ! তাহলে এই সময়ে মসজিদে যাওয়া কি খুব জরুরী ?

আবারো স্বরন করিয়ে দিই, ক্বাবা শরীফে পর্যন্ত যেখানে নামাজ বন্ধ করে রেখেছে করোনা ক্রাইসিসে সেখানে আপনি কি তাদের চেয়ে বড় আলেমে দ্বীন ? ইরান মুসলিম রাষ্ট্র হওয়া সত্বেও তাদের প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ খোমিনী মসজিদে নামাজ পড়া বারন করেছেন, সেখানে আপনি কি তাদের চেয়েও বড় ইসলাম বিশারদ ?

তবুও এই করেনা প্যান্ডেমিকের সিচুয়েশনেও আমি মসজিদে যাওয়ার বিপক্ষে পোস্ট দিতে পারবো না ? যেটা ইসলামে শতভাগ সমর্থিত ব্যাপার ?

ধর্মান্ধতা ভালো কিন্তু ধর্মকে একটু আদটু জেনে সেটা নিয়ে আবেগী তর্ক করাটা শুধু বোকামীই না বরং গুনাহের সামিল !

এবার আসি, মসজিদে মানা কিন্তু শপিং খোলার পক্ষে কেনো ?

এটা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ব্যাপার ! ব্যাবসা-বাণিজ্য না হলে দেশ চলবে না, মানুষ না খেয়ে মারা যাবে ! মসজিদে না গেলে কি মানুষ মারা যাওয়ার সিচুয়েশনে পড়বে? বাজার বন্ধ থাকলে তো দেশের মানুষজনের উপরে তার প্রভাব পড়বে, দ্রব্যের দাম বাড়বে, দূর্ভিক্ষের মতো অবস্থাও হতে পারে, তাহলে ব্যবসা না চালালে আমার অসুবিধা আরো প্রবল থেকে প্রবলতর হবে ! কিন্তু যেখানে না গেলে আমার সমস্যা নাই, ধর্ম অনুযায়ীও ঠিক আছে সেখানে গিয়ে গ্যাদারিংটা এই মুহুর্তে তো ক্ষতিই করবে ! তাহলে মসজিদে যাওয়া বন্ধ রাখতে পারা মানে করোনা সিচুয়েশন থেকে একটু দূরে থাকা, যেটা চাইলেই থাকা যায় ! তার মানে এই না, মসজিদে গেলে করোনা ছড়াবে আর বাজারে গেলে ছড়াবে না(ব্যাখ্যায় যাওয়া বাড়তি আলাপ) কিন্তু এই জায়গায় যেহেতু সব বয়সের মানুষ যায়(বৃদ্ধ-যুবক-শিশু)সুতরাং সবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও এক না, তাই এখানে আক্রান্তের ঝুকিও আছে ! একটা জনসমাগম কমাতে পারা মানে একটু ঝুকি কমানো ! ঘরেই যদি ইবাদাত করেন, ইবাদাতের হুকুমও থাকে, তাহলে সেকানেই আল্লাহকে বেশী বেশী করে স্বরন করেন, তাতে অসুবিধা কি ?

আমার বাসার একেবারে সামনে মসজিদ, তার সাথেই ক্বওমিয়া মাদ্রাসা লাগোয়া যেখান থেকে প্রতিবছর হাফেজগন তাদের হেফজ শেষ করেন, জীবনের অনেকটা সময় আমার মাদ্রাসার সাথীদের সাথে কেটেছে ! আমি ঘর থেকে ইক্বামাত শুনতে পাই, সেই আমিও মসজিদে যাওয়া বন্ধ রেখেছি, ঘরবন্দী অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত যত বেশী করা যায় করছি ! যতটা না সওয়াবের আশায় ইবাদাত করছি তার চেয়ে বেশী করছি জাহান্নামের শাস্তি কমানোর জন্য !

নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেন, এই করোনার আগে আপনি কয়বেলা ফজরের নামাজ পড়েছেন? এখনইবা কয় ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করছেন ? রোজা রেখে মিথ্যে বলা ছেড়েছেন ? রোজা রেখে ফেসবুক/ইনস্টাগ্রামে এসে অশ্লীল ছবি দেখা বন্ধ করেছেন ?

ধর্ম নিয়ে আলাপ ভালো কিন্তু তার চেয়ে বেশী জরুরী 'ধর্ম মানা' ! আপনি কিয়ামতের দিন 'ধর্ম নিয়ে তর্ক করেছেন কি না' তার জন্য জিজ্ঞাসীত হবেন না, বরং এক ওয়াক্ত নামাজ বাদ দিলে তার জন্য আপনাকে কোটি কোটি বছর জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে !

তর্ক বাদ দেন, আজকের এশার নামাজটা না পড়ে থাকলে ওজু করে নামাজটা সেরে নিন ! অন্তত কয়েক কোটি বছরের জাহান্নামের আগুন থেকে তো বাঁচবেন !

যা কিছু খোলার খুলে দিক, আসেন আপনি/আমি সম্মিলিতভাবে ঘরে থাকি ! এই ঘরে থাকাতেই রয়েছে কামিয়াবী !

শুভকামনা রইলো ! আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম বুঝ দান করুক সেই সাথে সবাইকে ক্ষমা করুন আর এই মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করুন !

আমীন !
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×