
আসসালামুয়ালিকুম।বলতে না বলতেই রোজা চলে যাচ্ছে আর আমাদের জীবন থেকে রহমতের আরেকটা দিন চলে যাচ্ছে।আমরা রহমতের এই দিন গুলো ঠিক মত কাজে লাগাতে পারছি? কাজে লাগানোর জন্যই আমাদের আয়োজন কোরান নাজিলের মাসে কোরান চর্চা-০২ এর এই পর্বে থাকছে #সুরা নুরের ৩০নং আয়াত।
পর্দা শব্দটিতেই আমরা বুঝি #নারীর জন্য।আসলে কি ব্যাপার টা সেটা? না। মহান আল্লাহ সুরা নুরের প্রথম আয়াতেই প্রথমে পুরুষদের এবং পরে নারীদের পর্দার কথা বলেছেন।আর হ্যা এই আয়াত গুলো মানা না মানাতেও অনেক বড় প্রভাব রয়েছে মানব জীবনে। আপনি কি মানতে চান আমাদের এই কথা? যদি না মানতে চান তাহলে আমাদের সাথেই থাকুন বাস্তব জীবনের কিছু উদাহরন পেশ করলেই আপনি মানতে বাধ্য হবেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা মানব জীবনের কত সমস্যার সমাধান দিয়েছেন তার একেকটি আয়াতে। আসুন প্রথমে জেনে নেই সুরা নুরের ৩০ নং আয়াত।
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [ সুরা নুর ২৪:৩০ ]
এই আয়াতে স্পষ্ট প্রতিয়মান যে আল্লাহ শুধুমাত্র মুমিনদের উদ্দেশ্য করে পরবর্তি কথা বলেছেন।
১।তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখেন এবং ২/ তারা যেন তাদের যৌনাংগ হেফাজত করে।
দৃষ্টি নত রাখার ব্যপারটি হলো অবশ্যই পর্দার ব্যপারে বলা হয়েছে কারন স্বাভাবিক ভাবে যদি দৃষ্টি নত রাখার ব্যাপারটি বলা হত তাহলে আল্লাহ তার বান্দাদের একটা এক্সিডেন্ট এর দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।যেমনঃ আপনি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন দৃষ্টি নিচে রেখে এমন সময় কোন একটা গাড়ি অথবা কোন ঠেলা গাড়ির মালের বর্ধিত অংশ আপনি খেয়াল না করার ফলে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
আর আল্লাহ সত্তার সাথে বান্দার প্রতি এমন আদেশ যায় না বলেই আমরা প্রথম কারনটি যথার্থ বলে মনে করবো।
বর্তমান সমাজের শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ঘাটে হাটা হাটি করলেই বুঝবেন উপরোক্ত আয়াতের যথার্থতা।মেয়েদের পোষাক,আসাক,চলা ফেরা চরম অশালীন।এখানে তাদের দোষ দেয়া যায় না।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কারনেই এই ধরনের হয়ে থাকে।সেক্ষেত্রে আপনি কিভাবে বাচবেন? বাংলায় একটা প্রবাদ আছে চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল হয়।আপনি কাউকে নিয়ে খারাপ চিন্তা করবেন সেটা মন দিয়ে।কিন্তু আপনার চোখ যখন সেটা দেখবেনা আপনার মনেও এ ধরনের চিন্তা আসবেনা।তাই আল্লাহ এই পর্দার আয়াতে ইমানদার দের ডেকে তার চোখকে সংযত রাখতে বলেছেন। যাতে ওই জিনিসটি মনের আড়াল হয়ে যায়।
এ সঙ্ক্রান্ত একটি হাদিস ও রয়েছে দৃষ্টি হচ্ছে ইবলীসের বিষাক্ত তীর থেকে একটি তীর,যে ব্যাক্তি আমাকে ভয় করে তা ত্যাগ করবে আমি তার বদলে এমন ইমান দান করবো যার মিষ্টি সে নিজের জীবনে অনুভব করবে।
যদিও হয়ে যায় আপনি দেখেও ফেলেন তাহলে আমাদের মনের ফিত্রাত অনুযায়ী আমরা ওই মেয়ে বা বিপরিত লিঙ্গের কাউকে দেখেও মনে মনে অনেক কিছু ভেবেই ফেলি তার সব শেষ হয় কিন্তু যৌনাঙ্গ দিয়ে।মাস্টার বেট অথবা জেনা দিয়ে যার শেষ। আর আল্লাহ সেই যৌনাজ্ঙেরি হেফাযত করতে বলেছেন।হেফাযত মানে সকল খারাপি থেকেই হেফাযত শুধু যেনা নয়।যদিও এটা মেনে চলা অনেক কঠিন একটা কাজ।কিন্তু একবার ভাবুন তো এই কাজটি যদি সমাজের প্রতিটা ইমানদার ব্যাক্তি করে থাকে তাহলে মেয়েরাও তাদের ফ্যাশনে চেইঞ্জ আনতে বাধ্য হবে।আর এই চেইঞ্জ টা যদি চলে আসে তাহলে সমাজ টা কত সুন্দর হবে ভাবতে পারেন?
আবার বিয়ের জন্য মেয়েদের দেখা জায়েজ আছে।হাদিসে আছে আবু হুরায়রা রাঃ বর্ননা করেছেন তোমাদের কেউ যখন কোন মেয়ে কে বিয়ে করার ইচ্ছা করে তখন যতদুর সম্ভব তাকে দেখে নিয়ে এই মর্মে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত যে মেয়েটির মধ্যে এমন কোন গুন আছে যা তাকে বিয়ে করার ব্যাপারে আকৃষ্ট করে।(আহমদ ও আবু দাউদ)
আল্লাহ আমাদের সকলকে তার দেয়া আয়াত গুলো বাস্তব জীবনে অনুসরন করে চলার তৌফিক দান করুন।
আমিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

