somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ধর্ষণ-কথন "

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
একটা সময় ছিল যখন কারও সামনে ধর্ষণ শব্দটা খুব নিচু গলায় উচ্চারণ করতাম, লজ্জাজনক একটা শব্দ ছিল। সময় পাল্টে গেছে। এখন বেশ উচু গলাতেই শব্দটি উচ্চারিত হয়। কারন বর্তমান সময়ের আলোচিত এবং সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দ হচ্ছে "ধর্ষণ "

ইতোমধ্যেই এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কেউ দায়ী করছেন মানসিকতাকে, কেউ দায়ী করছেন পোষাককে, কেউ দায়ী করছেন ধর্মীয় অনুশাসন অগ্রাহ্য করাকে। আর আমরা হয়েছি দ্বিধাগ্রস্ত, আসলে কে দায়ী?

আসলে সব কয়টা কারনই দায়ী।
কোনটাই শুধুমাত্র কিংবা পুরোপুরি দায়ী নয়।

পশ্চিমা দেশগুলোতে মেয়েরা বিকিনি পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ ফিরে ও তাকাচ্ছে না, কোন মন্তব্যও করছেনা। আরব দেশগুলোতে মোটা কাপড়ের ঢিলা বোরখা পরছে, হাতে পায়ে মোজা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরকেও কেউ সেকেলে বা ব্যাকডেটেড বলে গালি দিচ্ছে না। সমস্যাটা হয়ে গেছে আমাদের দেশেই।

অনেকেই বলছেন আমাদের মানসিকতায় সমস্যা। ওই দেশে ওইরকম খোলামেলা চলে কেউ কিছু বলেনা, আমাদের দেশেই সমস্যা। আমিও স্বীকার করছি আমাদের মানসিকতা এখনো অতদুর যায়নি। তবে একটা বিষয় জানেন কি, আমেরিকা ফ্রি সেক্সের দেশ, সেখানে যার যাকে খুশি, যখন খুশি, যেভাবে খুশি, যেথায় খুশি...... নিয়ে যায়। কেউ কিচ্ছু বলেনা। কিন্তু তারপরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমেরিকায় প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১ জন নারী ধর্ষিতা হয়। কি বলবেন তাহলে?

আরব দেশগুলোতে ধর্ষণের শাস্তি খুবই কঠোর।
সেসব দেশে গুলোতে নারীদের ক্ষমতা সম্পর্কে আপনি ভাবতেই পারবেন না। আমার এক ভাইস্তা বাহরাইন ছিল, বললো সেদেশে মেয়েদের ধর্ষণ তো থাক, কোন মেয়ে যদি পুলিশকে কেবল নালিশ করে ওই ছেলে আমার দিকে এইভাবে তাকিয়েছে বা বাজে ইঙ্গিত করেছে, মুহর্তেই তার থোবড়া পাল্টে দেবে পুলিশ। ফলাফলও ভাল। সেসব দেশে ধর্ষণের হার খুবই নগন্য।

আমাদের দেশে ধর্ষণপুর্বক খুন এখন যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিনত হতে যাচ্ছে। খবরের পাতা খুলে ধর্ষণের নিউজ না দেখলেই বরং অবাক হই। কারন এখানে কোন মেয়ে ধর্ষিতা হলে প্রথমেই আমরা খোঁজ নেই, কোথাকার মেয়ে? হিন্দু নাকি মুসলিম? তখন রাত নাকি দিন ছিল? মেয়েটা বোরখা পরা ছিল, নাকি বোরখা ছাড়া? তারপর সুবিধামত পক্ষ নিতে থাকি। এ তো গেল জনগনের দিকটা।

আর ধর্ষণের পর পুলিশ এবং প্রশাসন প্রথমেই দেখে মেয়েটা কে? প্রভাবশালী কিংবা ভিআইপি নাকি? আসামী কে? প্রভাবশালী রাজনৈতিক লিডার কিংবা পয়সা ওয়ালা নাকি? তারপর তারাও সুবিধামত পক্ষ বেছে নেয়। এভাবেই বিচারের বাণী কিতাবের ভিতর গুমরায়।

একসময়, বাংলা সিনেমার একটা কমন ব্যাপার ছিল, ভিলেন কোন নায়িকার সামনে গেলেই বুঝতাম এখন একটা ধর্ষণের দৃশ্য আসবে। নায়িকার ওড়না বা শাড়ি ভিলেন একটানে খুলে ফেলে লোভাতুর দৃষ্টিতে তার শরীরের দিকে তাকাবে। তার লালসাপুর্ন নজর দেখেই নায়িকা বলে উঠবে, ছেড়ে দে শয়তান, তুই আমার দেহ পাবি কিন্ত মন পাবি না। তারপর আবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলে আরেক দফা ধর্ষণ করে। জানিনা এখন কি অবস্থা। তাহলে কি শিখছি আমরা!

আমাদের মানসিকতায় আসলেই কিন্তু সমস্যা আছে। বিজ্ঞাপন বলেন, সিনেমা বলেন,সব জায়গায় নারীকে আমরা ভোগের বস্তু হিসেবে দেখেই অভ্যস্ত। আর ভিনদেশী সংস্কৃতি চর্চা করতে গিয়ে আমরা রীতিমত খিচুড়ি হয়ে গিয়েছি। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বলতে আর কিছু থাকছেনা।

বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। এখানে সবাই স্বাধীন। কেউ শাড়ী পরবে, কেউ কামিজ পরবে, কেউ বোরখা পরবে, যার যা খুশি তাই পরবে, তবে পরার আগে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, কোন পোশাকটা আমি কোথায় পরছি। পরিবেশটা আমাকে বুঝতে হবে। সব বোরখাই যেমন শালীন নয়, বোরখা ছাড়া অন্যসব পোশাকই অশালীন, এমনটিও নয়।

শোবার ঘরের পোষাক আর অফিসের পোষাক যেমন এক হয়না। খেলার মাঠের পোষার আর স্কুলের ইউনিফর্ম যেমন ভিন্ন হয়, স্বামীর সামনে পরা পোষাক আর শ্বশুরের সামনা পরা পোশাকেও যেমন ভিন্নতা থাকে। বাইরের শকুনি চোখগুলো থেকে বাঁচার জন্যও অবশ্যই আপনাকে পোশাকের ব্যাপারেও একটু সতর্ক থাকতে হবে।
কারন খারাপ লোকগুলো সবসময়ই ওতপেতে থাকে। ওরা সুযোগ পেলেই যে কাউকে ছোবল দিবেই।

কারন, কামনা বাসনার উর্ধ্বে আমরা কেউই নই। কেউ সেটাকে দমন করত পারে, কেউ পারেনা। যারা পারে, নিঃসন্দেহে তারা মহাপুরুষ। তবে সেই মহাপুরুষের সংখ্যা এ জগত সংসারে দিনদিন কমেই যাচ্ছে।

ধর্ষণের জন্য কেবল পোষাকই দায়ী নয়। আমাদের সমাজব্যাবস্থা , প্রসাশন, মানসিকতা আমি, আপনি, সব্বাই দায়ী। এই দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

সবশেষে বলবো, মেয়েদেরকে নিজের রক্ষা নিজেকেই করতে হবে। অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। কারন খারাপ মানসিকতার মানুষগুলোকে আমরা চাইলেই ভাল করে ফেলতে পারবো না। আর প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, অশ্লীলতা আমাদের দিনদিন আরও মনুষত্ব আর বিবেকহীন করে দিচ্ছে।
যার প্রভাব পড়ছে নিষ্পাপ শিশুর উপরও। অন্য কোথাও এই কুলষিত মানসিকতা প্রয়োগ করতে না পেরে, ঝাঁপিয়ে পড়ছে নিরীহ শিশুর উপর। অভিবাবকদেরও এসব বিযয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ধর্ষিতা প্রতিটি বোনই আমার বোনের মত, তাদের জন্য আমারও কষ্ট হয়। তাই ভাল থাকুক প্রতিটি বোন, নিশ্চিন্তে থাকুক প্রতিটি পরিবার।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৫২
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×