somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিতরা কী? আমরা ফিতরা দেই কত ! রাসুল (সা.) কীভাবে দিতেন !

১৬ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে
নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা এ
দিনটিতে তাদেরকে অন্যের কাছে
চাওয়া থেকে বিরত রাখো।
জাকাতের মতো এটিও দরিদ্র মানুষের
ওপর মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত
আমলি সহযোগিতা।
ফিতরা কী?
ইসলামী শরিয়তের হুকুম মোতাবেক এটি
একটি ওয়াজিব আমল। ঈদুল ফিতরের দিন
সুবহে সাদিকের সময় জীবিকা
নির্বাহের অত্যাবশকীয় সামগ্রী
ছাড়া নিসাব পরিমাণ বা অন্য কোনো
পরিমাণ সম্পদের মালিকদের পক্ষ
থেকে গরিবদের জন্য নির্দিষ্ট
পরিমাণের একটি অর্থ প্রদান করার
বিশেষ আয়োজনকে সাদকাতুল ফিতর
বলা হয়। ফিতরার পরিমাণ জনপ্রতি
আধা সা অর্থাৎ এক সের চৌদ্দ ছটাক
বা পৌনে দুই সের গম বা সমপরিমাণ
গমের মূল্য ফিতরা হিসেবে প্রদান
করতে হবে।
ফিতরার পরিমাণ আসলে কত?
আমাদের দেশে প্রতি বছর ইসলামিক
ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামিক
সেন্টার মাথাপিছু একটি পরিমাণ
ঘোষণা প্রদান করে এবং সে ঘোষণা
অনুযায়ী কোটিপতি ও মধ্যবিত্ত
নির্বিশেষে সবাই ফিতরা প্রদান
করে। আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন,
নবীজি (সা.)-এর যুগে মোট চারটি পণ্য
দ্বারা সাদকাতুল ফিতর আদায় করা
হতো, যেমন খেজুর, কিশমিশ, জব ও পনির।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন,
আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা খাদ্য
দ্বারা সাদকা আদায় করতাম। আর তখন
আমাদের খাদ্য ছিল জব, কিশমিশ, পনির
ও খেজুর। [সহিহ বোখারি]
রাসুল (সা.)-এর যুগে গমের ভালো ফলন
ছিল না বিধায় আলোচিত চারটি পণ্য
দ্বারাই ফিতরা আদায় করা হতো। এরপর
হজরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুগে গমের ফলন
বেড়ে যাওয়ায় গমকে আলোচিত
চারটি পণ্যের সঙ্গে সংযোজন করা হয়।
আর তখন গমের দাম ছিল বাকি চারটি
পণ্যের তুলনায় বেশি। আর মূলত এই দাম
বেশি থাকার কারণেই হজরত মুয়াবিয়া
গমকে ফিতরার পণ্যের তালিকভুক্ত
করেছিলেন।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ
ইবনে উমর বলেন, নবীজি (সা.) এক সা
খেজুর বা এক সা জব দিয়ে ফিতরা
আদায় করার আদেশ দিয়েছেন। পরবর্তী
সময় লোকজন (সাহাবা আজমাইনরা) দুই মুদ
গমকে (আধা সা) এগুলোর সমতুল্য মনে
করে এবং আদায় করে। [বোখারি]
ওপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়,
গম দ্বারা আদায় করলে আধা সা বা এক
কেজি ৬২৮ গ্রাম দিলেই ফিতরা
আদায় হয়ে যাবে। আর বাকি চারটি
পণ্য অর্থাৎ খেজুর, জব, পনির ও কিশমিশ
দ্বারা আদায় করার ক্ষেত্রে জনপ্রতি
এক সা বা তিন কেজি ২৫৬ গ্রাম দিতে
হবে। দেখা যাচ্ছে যে গম ছাড়া অন্য
পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করলে এক সা
পরিমাণ দিতে হচ্ছে, যা গমের ওজনের
দ্বিগুণ এবং মূল্যের দিক দিয়েও অনেক
তফাত। হাদিসে এক সা আদায় করার
কথা উল্লেখ থাকার পরও তখন এর মূল্য
অনেক বেশি হওয়ায় সাহাবারা আধা
সা পরিমাণ গম আদায়ের সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলেন। তখন আধা সা গমের মূল্যও
অন্য চারটি পণ্যের এক সা-এর চেয়েও
বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে
আলোচিত পাঁচটি পণ্যের মধ্যে গমই
হচ্ছে সবচেয়ে কম দামি পণ্য।
আমরা ফিতরা দেই কত?
তাহলে এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমানে গমের
পরিমাণ হিসেবে আধা সা ফিতরা
আদায় করলে হবে? হাদিসের আলোচনা
থেকে এ কথাটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান
হয় যে সাহাবারা খেজুর, জব, পনির ও
কিশমিশ থেকে হলে এক সা পরিমাণ
এবং গম থেকে হলে আধা সা পরিমাণ
ফিতরা আদায় করতেন। কারণ তখন গমের
দাম অন্য সব পণ্যের তুলনায় বেশি ছিল।
আর বর্তমানে অন্য চারটি পণ্যের তুলনায়
গমের দাম কম। এ পর্যন্ত হাদিসের এমন
কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি যে
সাহাবারা সবাই সর্বনিম্ন দামের বস্তু
দ্বারা ফিতরা আদায় করেছেন। বরং
তাঁদের সবার আগ্রহ ছিল সর্বাধিক
দামি পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা।
তাহলে বর্তমানে সবাই সর্বনিম্ন
দামের পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করছে
কেন? আমাদের সময়ের সম্পদশালী আর
মধ্যবিত্ত নির্বিশেষে আধা সা গম বা
তার সমপরিমাণ মূল্য দ্বারা সাদকাতুল
ফিতর আদায় করা সমীচীন হচ্ছে কি?
এবং এতে সাদকাতুল ফিতরের আসল হক
কি আদায় হচ্ছে?
শরিয়তের বর্ণনা ও হাদিসের
আলোচনা অনুযায়ী সমাধান হলো- যার
সামর্থ্য অনুযায়ী উলি্লখিত পাঁচটি
পণ্যের যেকোনো একটি পণ্যের
নির্দিষ্ট পরিমাণে ফিতরা আদায়
করতেন। যার সামর্থ্য আছে উন্নতমানের
খেজুর দ্বারা সে খেজুর দ্বারাই আদায়
করবে। আর যার সামর্থ্য আছে কিশমিশ
কিংবা জব দ্বারা আদায় করার সে
তা দ্বারা আদায় করবে। যার গম দ্বারা
আদায় করা ছাড়া অন্য পণ্য দ্বারা
আদায় করার সামর্থ্য নেই সে গম দ্বারা
ফিতরা আদায় করবে। বেশি সম্পদশালী
এবং কম সম্পদশালী নির্বিশেষ গম বা
সর্বনিম্ন দামের পণ্য দ্বারা সাদকাতুল
ফিতর আদায় করার বিষয়টি
বিবেকবর্জিত এবং হাদিস ও শরিয়তের
নির্দেশনার পরিপন্থী। তাই আসুন!
আমরা সবাই নিজেদের সামর্থ্য
অনুযায়ী সাদকাতুল ফিতর আদায় করি
এবং দায়সারা আদায় পদ্ধতি ত্যাগ
করি।
ফিতরার আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব
ফিতরা আদায় করা মহান আল্লাহর
গুরুত্বপূর্ণ একটি আদেশ। বিত্তবান মুসলিম
নাগরিকের ওপর ফিতরা ওয়াজিব করে
দেওয়া হয়েছে। গরিব-অসহায় মানুষদের
হক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এই
সাদকাতুল ফিতরাকে। পবিত্র রমজান
মাসে রোজা পালনের পুরস্কার
হিসেবে আল্লাহ মহান ঈদের আনন্দ
প্রদান করেছেন। সমাজে বসবাসকারী
ধনিক শ্রেণীর মানুষদের সঙ্গে সঙ্গে
গরিবরাও যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ
করতে পারে, এজন্য এই সাদকাতুল
ফিতরের আমলকে ওয়াজিব করা
হয়েছে। ফিতরার মাধ্যমে মুসলিম
সমাজে বসবাসকারী ধনীদের অর্থ
গরিবদের মধ্যে বণ্টিত হয় এবং এ দ্বারা
গরিবদের জীবন-যাপনে কিছুটা হলেও
গতি ফিরে আসে। এ জন্য ইসলামে
সাদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। এ
ফিতরা দানের মাধ্যমে সমাজে
বসবাসকারী জনসাধারণের মধ্যে সমতা
ফিরে আসে এবং সহযোগিতার
মানসিকতার বিস্তার ঘটে। একে
অন্যের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক সাধিত
হয় এবং এই সামাজিক সম্পর্কের উন্নয়ন
হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:৩৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×