somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন উদাসী

২৫ শে মে, ২০১৫ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শীতের সকালে রোদে পাটি পেতে চাদর গায়ে জড়িয়ে সুর করে পড়তাম,
”ভোর হলো দোর খোল খুকুমনি ওঠরে,
……খুকু চোখ খুললো।”
এটাই ছিল নজরুলের সংগে পরিচিত হবার প্রথম কবিতা।

সেই যে পরিচয় আজও চলছে আদান প্রদান, আবেদন নিবেদন।
এর পরে হলো,
“আমি হবো সকাল বেলার পাখী,
…..
পড়ি আর দৌড়ে গিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলি,
”আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার মেয়ে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে।”

আর ”খাদুদাদু” পড়ে মায়ের সংগে যে কত খুনসুটি করেছি তার শেষ নেই।

এরপরে যে লেখাটি মনে রং এবং ছন্দ আনলো তা হলো ”ঝিঙে ফুল”
গুল্মে পর্ণে লতিকার কর্ণে
ঢল ঢল দোলে দুল
ঝিঙে ফুল।”
তারপরে খুকী ও কাঠ বিড়ালি। সবই ছিল পাঠ্য বই এ। আর বাইরে পড়েছি লিচু চোর, সাম্যের গান,নারী বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি. বিদ্রোহী আরও কত কি?
বান্ধবী স্নিগ্ধা স্কুলে ফাংশনে আবৃত্তি করেছিল, “হে সিন্ধু, হে বন্ধু মোর, হে মোর বিদ্রোহী
তিন ভাগ গ্রাসিয়াছ এক ভাগ বাকী
সুরা নাই পাত্র হাতে কাঁপিতেছে সাকী।”
এই না পাওয়ার বেদনার সুর বাজতে লাগলো প্রাণে। বাড়ীতে এসে বসে গেলাম সঞ্চিতা নিয়ে। বের করলাম সিন্ধু কবিতা। বলবো কত, এ বলার শুরু আছে শেষ তো নেই। এ যে মহা সমুদ্র। এ খানে শুধু অবগাহন করতে হয়। আর আস্বাদন করতে হয়।

এর পরে আছে সুরের রাজ্য। ”আমি বনফুল গো”, ”শুকনো পাতার নূপূর পায়ে,” ”আমি যার নুপুরের ছন্দ,” “আমার গানের বুলবুলি,” “দেবো খোঁপায় তারার ফুল(প্রিয়াকে এত আপন করে কে কবে সাজিয়েছে আমার জানা নেই)।” কিন্তু এ ই বয়স থেকে প্রিয়ের হাতে সাজতে শুরু করেছি।

”সবার কথা কইলে কবি,” ”মসজিদের ঐ পাশে আমার কবর দিও ভাই” ”আমায় নহে গো ভালোবাসো”, আর সমান তালে লিখেছেন ইসলামি গান আর শ্যামা সংগীত।

আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে আর বেশী বলা সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলতে পারি, তার আবির্ভাব না হলে অসম্পূর্ণ থাকতো বাংলা সাহিত্য, সংগীতের রাজ্য। তৃষ্ণার্ত থাকতো প্রেমিকের হৃদয়।

তিনি তার জীবন দিয়ে যে উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা এনে দিয়েছেন, তাই বাঙালিকে বাঁচতে শিখিয়েছে। তার গড়া ”মুকুল ফৌজ” এখনও সেরা শিশু সংগঠন।

কিন্তু আজকাল কবি প্রেম দেখাতে গিয়ে যখন দেখি বন্ধুরা ভাই বোনেরা অবলীলায় নজরূল আর রবীন্দ্র নাথের সংগে তুলনা করে চলেছেন তখন বড় ব্যথা পাই্, এই জ্ঞানী জনেরা কেন বোঝেন না, এতে উভয়কে ছোট করা হয়।

উভয়ের অবদানকে খাট করে দেখা হয়। তারা বসে আছেন যার যার আসনে গুনী সমাসীন হয়ে। কেন তাদের প্রতি বেশী প্রেম দেখাতে যেয়ে তাদের সৃষ্টির অব মূল্যায়ণ করবো? বরং আমরা এই মহাসমুদ্রে অবগাহন করে নিজের পাপ, আর মনের ক্ষুদ্রতাকে বির্সজ্ন দেব।
একই উপকরণ, এবং প্রণালী অনুসরন করে যদি ১০০ জন রাঁধুনী একই রান্ন্ করেন আমার মনে হয় স্বাদের দিক দিয়ে ১০০ রকম হবে। তাই বলে তো তারা রান্না জানেন না এ কথা বলা যাবে না।যার যার সৃষ্টি তে কে সে সে অনন্য।
আর আমাদেরকে এও জানতে হবে যে তাদের সৃষ্টি নিয়ে এই দুই মহান হৃদয়ের মধ্যে কোন বিরোধ ছিল না। কারণ তারা দুজনই ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী, সকল ক্ষুদ্রতা এবং সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে।

আমাদের খুব সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেন কোন প্রকারে আমরা যেন এই তুলনা বীজ আমাদের প্রজন্মের মননে বপন না করে দিই।। তা হলে তো আমরা সৃষ্টি করে দেব বিভেদ আর জাতিগত বৈষম্য। বৃথা হবে তাদের গড়া ভাতৃত্ববোধ।

সে দিন কোন এক চ্যানেলে নজরুল গীতির অনুষ্ঠান হচ্ছে। এক ভক্ত ফোন দিয়ে বলতে শুরু করেছেন, মানবেন্দ্র দাদারা নাকি নজরুল গীতিকে ধংস করে দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সম্ভবত তার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে লাইন টি কেটে দিয়ে বাঁচেন। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে যে, পাকিস্থানীরা যেমন রবীন্দ্র সংগীত সৃষ্টি করতে পারেন নি, তেমনি মানবেন্দ্র দাদারা নজরুল গীতিকে ধংস করতে পারবেন না।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১২:০০
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×