সম্ভবত: ১১ /৮ তারিখ। আমাদের তখন রাত ১টা। জানি ঐ সময়টাতে টুনটুনের ক্লাশ শেষ হবে।( ইউএস এ, ট্রয় ইউনিভারসিটি) তাই ফোন দিলাম।
ফোন ধরেই হাঁফাতে হাঁফাতে বলে,”মা আমি এখন ডিপার্টমেন্টে যাচ্ছি। আমার ইংলিশ শিক্ষক পরিবর্তন করতে।এখন যে শিক্ষক দিয়েছে, বুড়ী, রাশিয়ান, খুব খারাপ মা, শুধু ছেলেদের দিকে তাকিয়ে ক্লাশ নেয়। আমাদের কথা কিছু শোনে না। তোমার সংগে পরে কথা বলবো।” আর যা বললো, তা এখন না বলাই ভালো।
ফোন রেখেই আমি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করি। শিক্ষককে পছন্দ না এত বড় কথা বলবে, তা হলে তো ওকে আর উনি বা উনারা দেখতে পারবেন না। চিন্তায় অস্থির হয়ে গেলাম। না পেরে আবার ফোন দিলাম। ”বাবু তুমি একথা বলতে যাচ্ছ, এটা কি ঠিক হবে? পরে যদি কোন অসুবিধা হয়?” ”আরে না, মা, ১৭ তারিখ পর্যন্ত পছন্দ অপছন্দ জানানো যাবে, তুমি ওতো ভেবো না তো।”
কাজ শেষ হলে শান্ত হয়ে এসে ফোন দিল, ”হ্যাঁ মা পরিবর্তন করেছি। ইনিও মহিলা, রাশিয়ান, তবে কথা বলে ভালো লেগেছে।”
টুনটুন নতুন শিক্ষকের ক্লাশ ভালোভাবে করছে। আর ওর ঐ পুরানো শিক্ষক কোন মন্তব্য করেননি। স্বাভাবিক আছেন।
আমি ভাবি আমাদের দেশের কথা। শিক্ষকের কু নজরে পড়াতে কত ছাত্র/ছাত্রীর জীবনে যে অন্ধকার নেমে এসেছে, তার সংখ্যাও কম না। কু নজর পড়ে সাধারনত:প্রাইভেট পড়া নিয়ে। যদি নির্ধারিত শিক্ষকের কাছে না পড়া হয় তবে কে ফেল করাতেও দ্বিধা বোধ করেন না আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গন। তাদের কাছে প্রাইভেট পড়লে সাজেশন সব কমন আসে। না পড়লে পাশ করাটাও কঠিন হয়ে যায়।
আমার মনে পড়ে ছোটবেলায় একজন শিক্ষিকার কথা। জামার ঝুল কম ছিল বলে উনি টেনে জামাটাই ছিঁড়ে দিয়েছিলেন। সেদিন কিছু বলতে পারিনি। এক বুক অপমান নিয়ে মায়ের কাছে এসে কেঁদেছি।
কতজন শিক্ষক মারার ছল করে পিঠ চাপড়ে খামছে ধরেছে। ফেল করিয়ে দেবে এই ভয়ে মুখ ফসকেও কাউকে বলিনি।
শিক্ষকবৃন্দ, আমার তথা সকলের পুজনীয়। আপনারা উদার হোন।সকল ক্ষুদ্রতার উপরে আপনাদের স্থান হোক।বাদশাহ আলমগীর নয়, যুগে যুগে আপনাদের পায়ে হাত দিয়ে পা ধু্ইয়ে না দিলে আমরা অভিভাবকরা যেন আমাদের সন্তানদের শাসন করবার সুযোগ পাই। অন্তত: এটুকু থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



