মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ কথায় আমরা সাধারন জনগন অতীব খুশী হয়েছি। আমার মনে হয় আমার মতো খুশী হয়েছেন তারা যাদের সন্তানেরা এবার প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি হতে চলেছে।
কিন্তু শিক্ষক বা সংশ্লিস্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ কি খুশী হতে পেরেছেন? তারা তো ইতোমধ্যে বাজেট করে রেখেছেন এবারে ভর্তি পরীক্ষার ইনকাম দিয়ে নতুন ফ্লাটে উঠবেন। অথবা ছেলে বা মেয়েকে কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অথবা মেড়িকেল কলেজে পড়াবেন। তাদের এখন কি হবে?
আমি ঢাকার ভর্তি তথা কোর্চিং বানিজ্যের কথা বলছি। কিছু নাম করা স্কুলে ভর্তি করার জন্য তাদের বাচ্চাদের ৩ বছর বয়সেই কেজি স্কুল গুলোতে দিয়েদেন। ওখানে যখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীতে উঠে তখন সেই বছরে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তখন ১ বছর যায় সংশ্লিস্ট স্কুলের শিক্ষকদের খোলা কোচিং সেন্টারে।এবং এ রকম কথা ছড়ানো হয় যে, মি:/মিসেস ”ক” শিক্ষকের কাছে না পড়লে ভর্তি হতে পারবে না। আমরা বেহায়া অভিভাবক তাই ঐ শিক্ষকের দ্বারে ধর্না দেই। ১ বছর কোর্চিং খরচ,শিক্ষককে গিফট ইত্যাদি ইত্যাদি করে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ করি। তারপরে ঐ স্কুলে আবার ডোনেশন দিয়ে শিশুর বয়স যখন ৭/৮ বছর তখন তার বয়স কমিয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করি।
সামাজিক মর্যাদা তো থাকলো? না আমার বাচ্চা নামী দামী স্কুলে পড়ে-। ভর্তী পরীক্ষার গাইড বুক পাওয়া যায়। তার লেখক স্কুলের শিক্ষক। একটা উদাহরন দেই। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য যা করানো হয়- বাংলা ৫ অক্ষরের একটা শব্দ বলো যা চেটে খেতে হয়।বলুন তো এটা কোমলমতি শিশুরা কি পারে? পারে এই গুলো এ কোচিং এ গেলারো হয়। পরীক্ষার হলে যেয়ে বমি করে দিয়ে আসে।
কেন এই ভর্তি পরীক্ষা? এটা যে এক প্রকার ব্যবসা এতে কোন সন্দেহ নেই। এই ব্যবসায় কে কে জড়ঢীত? আছে কি জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের প্রথম শেণতে ভর্তির কোন নীতিমালা? তা অমান্য করলে কোন শাস্তির বিধান আছে কি?
মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে থলির বেড়াল বেড় করতে হবে। এর সংগে জড়ীত সকলকে ক্রিমিনাল অপরাধের আওতায় আনতে হবে। শাস্তির বিধানও থাকবে। আর তা থেকে আমাদের মতো বেহায়া অভিবাবক যেন বাদ না পড়ে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
”প্রতিটা শিশু সমাজের সুবাতাস গ্রহণ করে বেড়ে উঠুক। হাল ধরুক এ ঘুনে খাওয়া সমাজের”।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



