”কে যাসরে ভাটির গাঙ বাইয়া
আমার ভাই ধনরে কইও
নায়র নিতো বইয়া” –
এই গানটিতে শচীন কর্তা (যদিও গানটি তার স্ত্রী শ্রীমতি মীরা দেব বর্মনের লেখা) গ্রাম বাংলার এক বোনের তার ভাইকে দেখার আকুতির যে চিরন্তন চিত্র চিত্রায়ন করেছেন তা অনন্য, অসাধারন।
এই টিই হলো ভাই বোনের মিলনের মহা মিনতি। আর এই গানের আকুতি পাওয়া যায় বাঙালী হিন্দুদের ভাই বোনের মহা মিলন তিথি ভাই ফোঁটা তথা ভাতৃ দ্বিতীয়াতে।
আজ ভাতৃ দ্বিতীয়া, ভাই ফোঁটা।চলবে আগামী কাল পর্যন্ত। গোটা একটা বছর একজন বোন পথের দিকে চেয়ে থাকে কখন তার ভাই আসবে, ফোঁটা দেবে তার কপালে। প্রার্থনা করবে ভাই এর জন্য নিরাপত্তা আর সফলতা।
ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা॥
যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে
যম হল অমর।
আমার হাতে ফোঁটা খেয়ে
আমার ভাই হোক অমর॥
(অঞ্চলভেদে ছড়াটি পরিবর্তীত হয়)।
চন্দনবাটা, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু আর দই এর মিশ্রনের ফোঁটা উক্ত ছড়া কেটে ভাই এর কপালে দেবার সময় বোনটি কেবল তার ভাই এর কল্যাণ কামনা করে।
ভাই এর মাথায় ধান দুর্বা দিয়ে তার মংগল কামনা করা হয়। এই সময় শঙ্খ আর উলু ধ্বনিতে এক মনোরম পরিবেশ সূচিত হয়।
বোন যদি বড় হয় তাহলে ভাইকে আশীর্বাদ করে মিষ্টি মুখ করিয়ে তার উপহারটি ভাই এর হাতে তুলে দেয়। আর বোন যদি ছেটি হয় তবে দাদা দেয় তাকে পছন্দনীয় উপহার। তারপর চলে বোন আর ভাই এর প্রিয় খাবার খাওয়া।
এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মিটে যায় বহু ভাই বোনের সাময়িক মনোমালিন্য। ভাই আর বোন সৃষ্টি করে এক মিলন ক্ষেত্র।
প্রতি বছর হেমন্তকালে কার্তিক মাসের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয় দিন অর্থাত দ্বিতীয়ার দিনটিকে ভাতৃ দ্বিতীয়া হিসেবে পালন করা হয়।আর যতক্ষণ দ্বিতীয়া থাকে ততক্ষণ বোনের অপেক্ষার প্রহর থাকে কখন আসবে তার ভাই টি। এক মিলন মেলা রচিত হবে।
আমার ছোট বড় সকল ভাই এরা তোমাদের জন্য রইলো আমার নিরাপত্তা আর সাফল্য কামনা। জয়ী হও তোমরা জীবন যুদ্ধে।যুগ যুগ জিও।।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


