somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিসার

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লান্ত চেহেরা নিয়ে আয়নার সামনে দাড়ালো মিতু । আয়না বলতে আরশী নয়; নিতান্তই বড় একটি আয়নার ভাঙ্গা অংশ । বড় যুদ্ধের জীবন তার । এখানে আয়নার সামনে দাড়ানোয় বিলাসিতা । আর আয়না কেনা তো অনেক দূরের গল্প । এই ভাঙ্গা টুকরাটুকু সেই কুড়িয়ে নিয়ে আসছে এক ডাস্টবিন থেকে । অনেক শখ তার আয়না দেখার । তাই সে মাঝে মাঝে এই আয়নায় মুখ রাখে । তার জন্য মা রূপী মানুষটার কম গাল খায় না । মাগী ছাড়া সে কথা কয় না । মাঝে মাঝে এই রুক্ষ চুল ধরে টানাটানি করতেও ছাড়ে না । সারাদিন এত পরিশ্রম করে তারপরেও মায়ের মন পায় না সে । সব সময় গালা গালির উপরে রাখে । কোনদিন কম কামাই করলে তার আর রক্ষা থাকে না । প্রায়ই মনে হয় এ তার নিজের মা নয় । অবুঝ মন বোঝে না এখানে মা একটি শব্দ মাত্র; মায়া, মমতা, আদর, স্নেহ অন্য সব অর্থহীন ।
তেজগাঁও রেললাইনের বস্তিতে থাকে মিতু । কতই আর বয়স তার ? তেরো চোদ্দ হবে মনে হয় । কিন্তু শরীরে বাড়ে নি ততটা । অনাহারে অর্ধহারের জীবনে তাকে সাত আট বছরের বালিকা মনে হয় । চোখগুলো বড় বড় আর মায়ায় ভরা । সারাদিন এটা ওটা কুড়ায় সে । এটাই তার কাজ । যা পায় পুরাটায় মায়ের হাতে তুলে দেয় । মাও কাওরান বাজারে সব্জি কুড়ায় । আর সেগুলো নিয়ে এসে বিক্রি করে এই ফ্লাইওভারের নিচের বাজারটা । মা মেয়ে সারাদিন যা রোজাগার করে তা দিয়ে কোনোভাবে চলে তাদের । গোস্ত তারা চোখে দেখে না । মাছ জোটে সে মাসে দুই একদিন । কিন্তু সেই মাছ মিতুর খেতে ইচ্ছে করে না । কেমন পচা পচা লাগে । এজন্যও মা বকাবকি করে, নবাবজাদার বেটি আইছে । মাছ খাইতে পারে না, পচা গন্ধ আবার কী রে ? মাছ মাছই, খাইলেই মিটে গেল । কিন্তু মিতু পারে না । শুধু মাছের বদলে একগাদা গাল খেয়ে বোবার মত চেয়ে থাকে ।

তবে আজকে আয়নার সামনে সে দাঁড়িয়ে এত কিছু ভাবছে না সে । তার আজ বড়ই খুশি খুশি লাগছে । মুখটা ভালো করে বারকয়েক দেখলো মিতু । অনেকটা ফর্সাই তো লাগে । তারপর লাজুক লাজুক দৃষ্টিতে নিজের বুকের দিকে তাকালো । এদিক ওদিক তাকিয়ে নিলো আবার । তারপর জামাটা খুলে ফেললো । হ্যাঁ, এবার বোঝা যাচ্ছে । খুব বেশি বড় নয় অন্য মেয়েদের মত । তবে ধরা যায় । খুব কষ্ট হলো মিতুর কেন অন্য মেয়েদের মত তার বুকটা বড় হলো না । তবে এই বুকেই হাত দিয়ে নতুন ডেরায় উঠা লোকটা তাকে আজ দশ টাকা দিয়েছে । বলেছে কাল দুপুরে ওর ডেরায় গেলে আরো টাকা দেবে ।

মিতুর চোখটা চক চক করে উঠলো । কাল যদি আমায় পঞ্চাশ টাকা দেয় তাহলে সে টাকাটা মাকে দেবে না । যেটা করবে সেটা হলো একটা বড় আইসক্রিম কিনে খাবে । ও কী যে স্বাদ সেই আইসক্রিমগুলো ! একদিন এক বড়লোকের মেয়ের হাত থেকে পড়ে গেয়েছিলো ওর সামনে । সেটা ও কুড়ে নিয়ে খেয়েছিলো । তারপর থেকেই তার চিন্তায় ছিলো সে ঐ আইসক্রিম একদিন কিনে খাবে । সেজন্য সে সেই আইসক্রিমটার প্যাকেটটাও যত্ন করে রেখে দিয়েছে । মনের মধ্যে একধরনের পুলক খেলে গেল । চোখ বন্ধ করে ভাবলো কী মজাই না হবে !
এই সময় হঠাৎ করে চুলে টান খেয়ে মিতু চমকে উঠলো । আর সঙ্গে সঙ্গে মায়ের বাজখাই গলা শোনা গেল, মাগীর ঘরে বসে বসে উপ চর্চা হচ্ছে ? মাগীকে কোন নাঙ নিতে আসপি । পেটে ভাত নাই, নাঙ্গের জন্য সাজা হচ্ছে । তারপরেই গাল ঠাস করে একটা থাপড় দিয়ে বলে উঠলো, ন্যাংটা হয়ে ডং করা হচ্ছে । আজ কি মাগীর ভাত খাওয়া লাগবে না ? গিলতে বসে তো কম গেলে না । পারলে এক হাড়ি একাই খায় । কামের বেলায় নাই । আজ যদি মাগীকে না শুকাইছি তো ......?

মিতু তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ে । একবার মনে হয়েছিলো দশটাকাটা মায়ের মুখের উপড় ছুড়ে মারে । কিন্তু পরেই মনে হলো লাভ কী ? গাল তো কমবে না । বরং চুল ধরে আর একটা টান দিয়ে বলবে, কই পেলি ? ওর চেয়ে এখানে ওখানে ঘুরে ফিরে রাতে যেয়ে টাকাটা মায়ের হাতে দিলেই মিটে যাবে । হাটতে হাটতে অনেকটা দূরে চলে এসেছে মিতু । এখানে মায়ের আর চিল্লানি শোনা যাবে । শুধু রেল চলে যাবে ঝিক ঝিক করতে করতে । সে সময়টা ওর ভালোই লাগে । নানা রকমের মানুষ দেখা যায় । ওর ও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় রেলগাড়িতে চড়ে এখানে ওখানে ঘুরতে যায় । কিন্তু ভয়ে পারে না । কোথায় যাবে সে । যদি হারিয়ে যায় ? তাহলে ... ?

পা ছড়িয়ে রেলের উপড় বসে পড়লো মিতু । এখানে ওকে বিরক্ত করার কেউ নাই । আর একবার আইসক্রিমের কথা মনে হলো । চোখটা আবারো চক চক করে উঠলো । কাল খুব মজা করে সে আইসক্রিমটা খাবে । অবশ্য কেনার পর তাকে গোপন একটা জায়গায় চলে যেতে হবে না হলে তার বয়সী কারো সাথে দেখা হয়ে গেলে না দিয়ে খেতে পারবে না সে । আরো একটা সমস্যা আছে । মা জেনে যাওয়ার ভয় ।

ভয় কথাটা মনে হতেই আর একটা ভয় এসে তার মনে ধাক্কা দিলো । কাল লোকটা দুপুরে ডেরায় যেতে বললো কেন ? কী করবে সে ? বুকে হাত দেয়ার বেশি কিছু করবে না তো ? বেশি কিছুর কথা মনে হতেই মুখটা আর একবার লজ্জায় ভরে উঠল । যদিও আশে পাশে কেউ নাই তবুও নিজের কাছেই কেমন লজ্জা লাগতে লাগলো ওর । ভয়টা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকলো না । দুটা ঘটনার কথা মনে পড়লো ওর ।

তখন সে অনেক ছোট । একরাতে মায়ের আহ উহ শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো । মা মা বলে ডেকে উঠেছিলো, মা কী হয়েছে তোমার ? মা উল্টা রেগে উঠেছিলো, মাগী ঘুমা । বলে দুম দুম করে কিল বসিয়ে দিয়েছিলো পিটের উপরে । চোখ খোলার সাহস পায় নি সে । তারপরেও বসেছিলো মায়ের গায়ের উপরে একটা অন্য মানুষ আছে । সেদিন সে বুঝতে পারে নি । কেন মা তাকে মেরেছিলো । কিন্তু এখন বোঝে ।

আর এই তো কয়দিন আগে আবারো দেখেছিলো একই ঘটনা । অবশ্য এবার আর মায়ের নয় । পাশের ডেরায় থাকা এক ভাবীর । সেদিন দুপুরবেলার দিকে খেতে এসে দেখে ঘরে লবণ নাই । ভাবীর কাছে চাবে বলে ডেরার কাছে এসে দেখে দরজা বন্ধ । ভেতরে কেউ আছে কি না তা দেখার জন্য পাশের ফুটো দিয়ে উকি মেরেই শিউরে উঠেছিলো সে । ভাবীর নিচে শুয়ে আছে আর ভাবীর শরীরের উপর একটা অচেনা মানুষ উঠানামা করছে । দেখার সঙ্গে সঙ্গে গায়ের মধ্যে কেমন রি রি করে উঠেছিলো ওর । তারপরেও বেড়ার ফাক দিয়ে আর একবার তাকিয়েছিলো । তখন দুইজনে কাপড় পড়ছিলো । লবণ আর চাওয়া হয় নি ভাবীর কাছে, নিজের কাছেই যেন লজ্জা লাগছিলো মিতুর । চলে এসেছিলো সে ।

কয়দিন পরে এই ঘটনা বলছিলো ওর চেয়ে একটা বড় ছেলেকে । ওদের সাথেই থাকতো । রাস্তায় রাস্তায় পপকর্ন বিক্রি করতো । একটু বড় হলেও বেশ পাকনা । এই বয়সেই সে বিড়ি খায় । বড়দের সাথে আড্ডা মারে । ওকে কেউ কিছু বলে না । ওর সাথে মিতুর একটু বেশি ভাব । কেমন একটা ভালো লাগা আছে ওর প্রতি । ওকে বলার পরে ও মোবাইলে রাখা ছবি দেখাইছিলো । মিতু একটু চোখ রেখেই বলেছিলো, ছি ! এসব মানুষ দেখে ? আমার কেমন ঘিন্না লাগছে ।
তারপর ছেলেটা একটু হেসে বলছিলো, আমার সাথে করবি এমন ?
মিতু বলছিল, না, আমার ভয় করে ।

আজ মিতুর সেই ভয় কই গেলো ? আজকে মিতুর ভয় লাগছে না কেন । এই তো তিন চার মাস আগেও তার ভয় করতো । ঐ ছেলেটা তাকে আরো একটা কথা বলেছিলো, এই কাজ করলেই নাকি মেয়েদের বাচ্চা হয় । তাহলে ওর ও কি বাচ্চা হবে না কি ? কেমন ভয় ভয় করলো । আবার মনে হলো কই ভাবী ও মায়ের তো বাচ্চা হয় নি । আর ভাবতে পারলো না । ভাবতে ভালো লাগছে না আর । ইচ্ছেও করছে না । কাল যেতেই হবে ওকে । ওর আইসক্রিম খাওয়া চাই । অবশ্য ঐ ছেলেটা থাকলে ওকে জিজ্ঞাস করা যেত । কিন্তু ও নাই পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে । উঠে পড়লো মিতু ।

ডেরার সামনে এসে এদিক ওদিক তাকালো মিতু । কেউ নাই । দুপুর সময়ে কেউ থাকে না । কেমন খা খা করে সময়টা । একটু সময় নিয়ে ডেরার মধ্যে ঢুকে পড়লো সে । নতুন মানুষটার সাথে আরো একটা মানুষকে দেখে বুকটা ধ্বক করে উঠলো তার । একটা ভয়ের স্রোত নেমে গেলো শিড়দাড় বেয়ে ।

মধ্যরাত । মিতু ফেরে নি এ নিয়ে অনেক কথা বলার পর ক্লান্ত লোকগুলো চোখ বন্ধ করেছে । তবে দুজন মানুষের চোখে ঘুম নাই । ফিস ফিস করে কথা বলছে তারা, কি রে মরে গেল নাকি ?
কি জানি কিছু বুঝতে পাচ্ছি না ।
রক্ত পড়া বন্ধ হইছে ?
হুম, কিন্তু শরীর তো নড়ছে না ।
বুকে কান পেতে দেখতো উঠানামা করে কি না ?
না তো ।
মরে বোধহয় গেছে ।
চল এক কাজ করি ফেলে দিয়ে আসি । তারপর যা হয় হবে ।
পুলিশ জেনে ঝামেলা করতে পারে ।
পুলিশের অনেক কাজ । কোথাকার কোন ফকিরন্নীর বেটি মরে আছে তা নিয়ে তাদের মাথা ঘামাবার সময় কই ?
না চল এর চেয়ে একটা ভালো কাজ করা যায় ।
কী ?
রেললাইনের উপর রেখে আসি । রেলগাড়ী গেলেই কেটে পড়ে থাকবে । তখন আর পুলিশ মাথা ঘামাবে না ।
হুম, ভালো বুদ্ধি । চল তাই করি ।

তিন টুকরা হয়ে যাওয়া মিতুর শরীরটার দিকে সবাই বিষ্ময় চোখে চেয়ে আছে । কারো মুখে কোন কথা নাই যেন বোবা হয়ে গেছে সবাই ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি?

লিখেছেন জিয়া চৌধুরী, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৩০

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি? একই গ্যাস, দামের এত পার্থক্য কেন? এনসিপির আকতার হোসেনের প্রশ্ন।

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

ছবি গুগল থেকে গৃহিত।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

◆ ভূমিকা: এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×