আসুন এটা বন্ধে সচেতন হই ...
তথ্য কী?
তথ্য হলো সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত সব ধরনের ফাইলপত্র, পরিকল্পনা, কাজের পদ্ধতি, হিসাব, চুক্তি, প্রতিবেদন, নকশা, মানচিত্র, অডিও, ভিডিও এবং সরকারি কাজে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার নমুনা ।
উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সিটি করপরেশন এর চলতি বছরের বাজেট কত ? সেই বাজেট কোন কোন খাতে কীভবে ব্যয় হচ্ছে ? বা কোন এনজিও এ বছরে কত টাকা অনুদান পেয়েছে ? সেই টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করছে ? এগুলোর নথিপত্রও তথ্য ।
তথ্য অধিকার কী ?
আপনার এলাকার রাস্থা-ঘাট উন্নয়নের জন্য কত টাকা বরাদ্ধ হয়েছে ? অথবা আপনার এলাকায় দুঃস্থদের জন্য কী পরিমাণ সাহায্য আসছে তা আপনার জানতে ইচ্ছে করতেই পারে । এই জানতে পারাটাই আপনার অধিকার । আপনাকে যদি এ ব্যাপারে জানতে না দেয়া হয় তাহলে আপনি আপনার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । তথ্য জানার মাধ্যমে আপনি আপনার অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন ।
তথ্য অধিকার আইন কী ?
তথ্য অধিকার আইন হলো ২০০৯ সালের মার্চে সংসদ কর্তৃক পাশ হওয়া একটি আইন যা ২০০৯ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে । যা আপনার, আমার বা সকলের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে ।
এমন একটা সময় ছিল যখন আপনাকে তথ্য জানতে দেয়া হত না । আপনি কোন প্রশ্ন করলে বলা হত এ ব্যপারে তথ্য দেয়া নিষেধ আছে । কর্মকর্তারা “সরকারী গোপনীয়তা আইন-১৯২৩” এর কথা বলে তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকত । কিন্তু তথ্য অধিকার আইনের ফলে কর্মকর্তারা আর এসব টালবাহানা করতে পারবে না । এই আইনের অধীনে আপনি তথ্য চাইতে পারেন এবং তারাও দিতে বাধ্য ।
অর্থাৎ আপনার জানার আগ্রহ নিশ্চিত করতেই তথ্য অধিকার আইন । আর এই আইনের ফলে “সরকারী গোপনীয়তা আইন-১৯২৩” এর কার্যকারিতা প্রায় নেই বললেই চলে ।
তথ্য অধিকার আইনের উদ্দেশ্য কী ?
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর উদ্দেশ্য হলো সরকারি ও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য আবেদনের মাধ্যমে তাদের কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা ।
আপনি কেন তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করবেন ?
আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে আপনি কেন তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করবেন বা অন্যকে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবেন ? প্রশ্নের উত্তরটা এমন, আপনি আপনার স্বার্থেই তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করবেন । কেননা এই আইনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, বঞ্চনার শিকার হতে নিজেকে বাঁচাতে পারেন । এখন প্রশ্ন কীভেবে ?
ধরাযাক, আপনি সরকারী চাকুরী করেন । সেখানে আপনার পদন্নতি আটকে আছে । আপনি আপনার উর্দ্বতনের কাছে আবেদন করতে পারেন কেন আপনার পদন্নতি আটকে রাখা হয়েছে ? বা পদন্নতি পাওয়ার শর্ত গুলো কী ?
আবার আমরা প্রায়ই একটা সমস্যায় পড়ি । ছেলে-মেয়ে বা ছোট ভাই-বোনের ফর্ম ফিল আপ করতে যেয়ে অযৌক্তিক টাকার দাবীর মুখে পড়ি । সেক্ষেত্রে আপনি একটা কাজ করতে পারেন । আপনি জানতে চাইতে পারেন বোর্ড থেকে নির্ধারিত ফি এর পরিমাণ কত ?
এভাবে প্রতিনিয়ত শিকার হওয়া দুর্নীতির কবল থেকে আমরা বাঁচতে পারি এই আইনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে ।
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনের অবস্থাঃ
তথ্য অধিকার আইন বাংলাদেশের যুগান্তকারী একটা আইন । নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এর চেয়ে শক্তশালী আইন আর বাংলাদেশে নেই । এখন দেখা যাক এই আইনের সফল প্রয়োগ হচ্ছে কি না ?
তথ্য অধিকার ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী “ যারা কোনো না কোনো মাধ্যমে তথ্যের জন্য আদবেদন করেছেন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই আবেদনকৃত তথ্য পেয়েছেন এবং যারা তথ্য পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই (৭৩.৬ শতাংশ) সম্পূর্ণ তথ্য পেয়েছেন”।
এ থেকেই বোঝা যায় যে এই আইনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে তথ্য পাওয়া সম্ভব এবং সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ।
কার কাছে সহযোগিতা চাইবেন ?
তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে আপনি সাহায্যের জন্য বিভিন্ন এনজিওর কাছে সহযোগিতা চাইতে পারেন । বাংলাদেশে ‘তথ্য অধিকার ফোরম’ নামে এনজিওগুলো একজোট হয়ে কাজ করছে ।
এদের মধ্যে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস,বাংলাদেশ (রিইব) বিশেষভাবে কাজ করছে । http://www.rib-rtibangladesh.org ওয়েবসাইটে ঢুকে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে । এই সাইটের একটি বিশেষ সুবিধা হলো এখানে আপনি আপনার মতামত বা সমস্যার কথা বলতে পারবেন ।
এছাড়াও এদের একটি হেল্পলাইন খোলা আছে । সরকারী ছুটির দিন বাদে অন্যান্য সব দিন সকালে ৯টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত যেকোন সময় ফোন করা যাবে । হেল্পলাইন নাম্বারটি হলো ০১৭৬৬-১৯৪৫৭১
এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ( টি আই বি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে । প্রয়োজনে এদের সাহায্যও নেয়া যেতে পারে ।
এছাড়াও তথ্য কমিশন এর সাইট দেখার সাহায্যেও এই আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে । এই আইনটি তথ্য কমিশন সাইটে পাওয়া যাবে । এবং তথ্য কমিশনের কার্যাবলী সম্পর্কে জানা যাবে ।
এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমেও আপনি এই আইন সম্পর্কে জানতে ও সহযোগিতা লাভ করতে পারেন । এ জন্য এই এই পেজটি লাইক করতে পারেন https://www.facebook.com/rtibd
শেষকথাঃ
তথ্য অধিকার আইন জনগণের আইন । এই আইনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব । নিজের সুবিধা আদায়ের সাথে সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারী প্রতষ্ঠা করা সম্ভব । তাই দেশের সকল নাগরিকের আইনটি জানা প্রয়োজন । আইনটি যথাযথ ব্যবহার না করলে এটি অন্যান্য আইনের মত শুধু কাগজে আইনই থেকে যাবে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



