somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তথ্য অধিকার আইনঃ দশটি প্রশ্ন ও উত্তর ৩

০১ লা এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রশ্নঃ ৩১) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রদান না করলে তখন কী করণীয়?

উত্তরঃ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান না করলে ধারা ২৪ অনুসারে তথ্য প্রদানের সময়সীমা অতিক্রান্ত হবার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধকারী আপীল করতে পারবেন ।

প্রশ্নঃ ৩২) তথ্য দেওয়ার জন্য কোন ফি এর ব্যবস্থা আছে কিনা ?

উত্তরঃ তথ্য অধিকার বিধিমালা , ২০০৯ এর বিধি ৮ এর ফরম (ঘ) অনুযায়ী আবেদনকারীকে মূল্য পরিশোধ করতে হতে পারে ।

প্রশ্নঃ ৩৩) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সম্মানীর ব্যবস্থা আছে কিনা?

উত্তরঃ তথ অধিকার আইন, ২০০৯ অনুসারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সম্মানীর কোন ব্যবস্থা নাই ।

প্রশ্নঃ ৩৪) তথ্য অধিকার আইনের বই পাওয়া যাবে কি?

উত্তরঃ বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয়, ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর গেজেট ১২।০০ টাকা মূল্যে পাওয়া যাবে অথবা http://www.bgpress.gov.bd অথবা http://www.moi.gov.bd থেকে RTI Act, 2009 bangla and English নামে বিনামূল্যে download করা যাবে ।

প্রশ্নঃ ৩৫) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিধানাবলী সম্পর্কে জনঅবহিতকরণ /প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে কিনা?

উত্তরঃ তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিধিমালা সম্পর্কে পর্যায়ক্রমে জেলা / উপজেলায় জনবহিতকরণ ও মতাবিনিময়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । সমন্বিত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রণয়ন পূর্বক তথ্য কমিশন সরকারী / আধাসরকারী / স্বায়িত্বশাসিত প্রশিক্ষণ একাডেমীগুলোতে অরিয়েন্টেশন ট্রেনিং প্রোগ্রমের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । তাছাড়া তথ্য কমিশন কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রণালয় / বিভাগ / সংস্থাসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । তৎপর জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক সহায়তায় তথ্য কমিশন জেলায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহোণ করবে ।

প্রশ্নঃ ৩৬) তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে সাংবাদিকের কি করণীয়?

উত্তরঃ তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ বাস্তবায়নের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ রুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালক করতে পারেন । তাদের প্রচারে মাধ্যমে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে ও প্রায়োগিক দিক উন্মোচিত হবে ।

প্রশ্নঃ ৩৭) পুলিশ এবং র্যাকবের নিকট তথ্য চাওয়া যাবে কিনা?

উত্তরঃ অবশ্যই পুলিশ ও র্যাববের কাছে তথ্য চাওয়া যাবে । তবে এই আইনের ধারা ৩২ এর তফসিল অনুযায়ী ‘স্পেশাল ব্রাঞ্চ , বাংলাদেশ পুলিশ’ এবং ‘র্যা ব এর গোয়েন্দা সেল’ এর এর ক্ষেত্রে তথ অধিকার আইন, ২০০৯ প্রযোজ্য হবে না । তবে উক্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোন তথ্য দুর্নীতি বা মানবধিকার লংঘনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তথ্য কমিশনের অনুমোদন গ্রহণপূর্বক উক্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে ।

প্রশ্নঃ ৩৮) যাঁদের জন্য এই আইন, তাঁরা বিষয়টির ব্যাপারে কতটুকু অবহিত বা উপকৃত হবে?

উত্তরঃ সমগ্র দেশের জনগণের জন্য বর্তামান সরকার এই আইন প্রণয়ন করেছে । এই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু তথ্য কমিশনের একার নয় , সবার । তথ্য কমিশন পর্যায়ক্রমে স্বল্পমেয়াদী , মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ আইনের প্রচার ও প্রসার কল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছাবার সব রকম ব্যবস্থা করবে । তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে জনগণ অবশ্যই সুফল পাবেন বলে তথ্য কমিশন বিশ্বাস করে ।

প্রশ্নঃ ৩৯) সিটিজেন চার্টারের সঙ্গে তথ্য অধিকার আইনের সম্পর্ক কি?

উত্তরঃ কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা জনসাধারণকে কি কি সেবা কি কি পদ্ধতিতে বা শর্তে কত সময়ের মধ্যে প্রদান করে তা সিটিজেন চার্টার/নাগরিক সনদ দ্বারা প্রকাশ করে । ফলে জনগণ এর মাধ্যমে প্রতিটি অফিসে কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়ে থাকেন । কাজেই এটি তথ্য অধিকার আইনের একটি প্রায়োগিক একটি দিক ।

প্রশ্নঃ ৪০) সরকার যদি আইন ভঙ্গ করে, তাহলে সে ব্যাপারে কমিশনের কিছু করার আছে কি?

উত্তরঃ সরকার বলতে কোন একক ব্যক্তি বা অফিসকে বুঝায় না । সরকার হচ্ছে দেশ পরিচালনার একটি সামগ্রীক বিষয় । তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রদান সংক্তান্ত আইন ভঙ্গ করলে এই আইনের বিধান অনুযায়ী তথ্য কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারে । প্রয়োজন বোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জরিমানা করতে পারে । এমনকি কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য কমিশন অনুরোধ জানতে পারে ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি?

লিখেছেন জিয়া চৌধুরী, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৩০

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি? একই গ্যাস, দামের এত পার্থক্য কেন? এনসিপির আকতার হোসেনের প্রশ্ন।

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

ছবি গুগল থেকে গৃহিত।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

◆ ভূমিকা: এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×