somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে, মনে পড়লো তোমায়.....

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.


বাইরে মুষলধারায় বৃষ্টি....

ঘরের আলো আঁধারিতে ধীরলয়ের মিউজিক এনজয় করার সাথে সাথে এই মুহূর্তে আমরা যখন ভাবতে ব্যস্ত ঈদের গরু বা খাসী দিয়ে কি সব মজার আইটেমের এক ভুড়িভোজের আয়োজন করা হবে... কেমন করে ছুটির সময়টা আরো উপভোগ্য আর আনন্দময় করে তোলা যায়.....

ঠিক সেই সময় একজন অসহায় মা ভাবছেন তাঁর সন্তানের মাথার উপর একটি ছাদের জোগান সম্ভব কিনা। ক্ষুধার্ত দুধের শিশুর জন্য এতোটুকু দুধ না হোক অন্তঃত ভাতের মাড় তুলে দিতে সক্ষম হবে কিনা। ঘরের আরামের বিছানা অথবা সোফায় বসে আমরা যখন মজার সব ঈদের অনুষ্ঠান উপভোগের আয়োজনে ব্যস্ত, ঠিক সেসময় একজন গৃহহীন অসহায় পিতা মুষল বৃষ্টিধারার মাঝে আপন সন্তান আর জীবনের শেষ সম্বল টা নিজের পিঠ দিয়ে আগলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যস্ত!





শুধু আমেরিকা আর ইউরোপকে দায়ী করে বা তাদের সমালোচনা করে আমরা অনেকেই বিবেকবান মানুষ হিসেবে, একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই, আসলেই তাতে কি নিজেকে একজন মুসলিম বা মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়?
একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের বিবেকবোধ, একজন খাঁটি মানুষের বিবেক এতো সহজে সন্তোষ্ট হতে পারেনা!




আমরা হাত বাড়ালেই যেখানে গৃহহীন, সহায় সম্বলহীন মানুষের মুখে একমুঠো অন্ন তুলে দেয়া যায়, যেখানে আমাদের দেয়া সামান্য টাকায় গৃহহীন শিশুর মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করা যায়, সেখানে শুধু সমালোচনা আর বিলাপ করে আমরা স্বস্তি পেতে পারিনা।



সম্পূর্ণ ভীনদেশী, ভীনধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ... শুধুই মানবিকবোধ বলে একজন মানুষ এসব অসহায় মানুষের সাথে এক কাতারে নিয়ে এসেছে বলেই তিনি তাঁর ঘরের দুয়ার খুলে দিয়েছেন শরনার্থীদের জন্য
শুধু আশ্রয় নয়, তাঁদের জন্য ধুমায়িত ফ্রেশ খাবার রান্না, তাদের ময়লা কাপড় ধোয়া থেকে তাঁদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেবার ভার স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছেন নিজের ও পরিবারের কাঁধে।

এই ভদ্রলোক কিছু দিন পূর্বেই ছিলেন নিজের দেশের প্রচন্ড প্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রী অথচ তাঁর বিনয় এতোটাই যে তাঁর গৃহে এনে যে শরনার্থীদের তিনি সেবা করছেন, তাদের কাছে নিজের পরিচয়টি পর্যন্ত জানান নাই! ফ্যারেন ইউক্যানির(Ferenc Gyurcsány) বক্তব্য "এই মূহুর্তে এটা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ব্যাপার"



.. অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী বা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের দিকে তাকিয়ে শুধু শিউরে উঠতে হয়! আর ক্ষমতাসীন জন নির্মমতায় আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে! নিজের ধর্ম বর্ণসম অসহায় রোহিঙ্গারা যখন এই কিছু দিন পূর্বে ঠিক এমনি ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তিনি অতি নির্দয় ও নির্মম ভাবে তাদের ফিরিয়ে দেয়! অনেকেই অজুহাত দিবে আমাদের দারিদ্রের.. কারন আর যাহোক জাতিগত ভাবে এই অজুহাতের আমাদের কোন অভাব নেই। সকল রোহিঙ্গাদের আশ্রয় বা ভরনপোষনের ক্ষমতা আমাদের রাষ্ট্রের নেই যেমন সত্য, তেমনই সত্য অন্তঃত ১০০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী একক ভাবেই সাহায্য করতে পারতেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় অতি নির্লজ্জের মতো হতদরিদ্র জনতার রক্তঘাম করা অর্থে যখন শ পাঁচেক আত্মমর্যাদাহীন লোভী সফরসঙ্গী নিয়ে ভ্রমন করে, সেই অর্থে একশত হতদরিদ্র পরিবারকে প্রতীষ্ঠিত করা যায়!

আর এসব নির্লজ্জ লোভী দুর্নীতিবাজদের শুধু সমালোচনা করেই আমরা আমাদের মানবিক দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারিনা।



কীবোর্ডে ঝড় তুলে অনেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হয়তো ইতমধ্যেই অনেক বাহবা পেয়েছি; কেউবা আরব, পশ্চিমা বা মার্কিনীদের সমালোচনা করে আর কেউ বা এসব হতভাগ্য শরনার্থীর জন্য অশ্রু বিসর্জন করে!দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এসবের কোন কিছুই তাঁদের স্পর্শ করেনা, তাঁদের জন্য এতোটুকু স্বান্তনা বা স্বস্তি নিয়ে আসেনা। অথচ আমাদের সকলের পক্ষেই সম্ভব তাঁদের জন্য অন্তঃত এক বেলার আহারের জোগান দেবার।



বিশেষ করে প্রবাসীগন খুব সহজেই হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। আর কিছু না হোক অন্তঃত এসব অসহায় মানুষের এক বেলার আহারের জোগাড় সম্ভব। স্থানীয় মসজিদ বা চার্চে খোঁজ নিয়ে জেনে নেয়া যায় শরনার্থীদের জন্য তাঁদের ডোনেশন ড্রাইভের দিন তারিখ। ব্যবহৃত পোশাক, তৈজসপত্র, খেলনা বা বই দিয়ে সাহায্য করা যায়। আর আর্থিক সাহায্য করতে চাইলে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসেই শুধু স্বদিচ্ছা বলে পে পলের মাধ্যমে নিমেষেই পাঠিয়ে দেয়া যায় সাহায্য। প্রত্যেকে নিজ নিজ পছন্দের বা আস্থাভাজন সাইটের মাধ্যমে ডোনেট করতে পারে।



এই ভীষণ অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দ নেই সন্তানদের জন্য তাঁরা নতুন পোশাক কেনার কথা ভাবতে পারছেননা, শুধু মাথা গুঁজার এতোটুকু ঠাঁই আর একমুঠো অন্নের জোগান আজ তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ!
তাই, এই হতভাগ্য মানুষদের নিয়ে গল্প, কবিতা বা ব্লগ লেখার আগে, তাদের নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলা আলোচনা বা আড্ডার আগে আমরা নিজের সাধ্যানুযায়ি তাঁদের জন্য কিছু করি; আর তা সম্ভব না হলে অন্তঃত নিজ দেশের গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষের মুখে একবেলার অন্ন তুলে বা একটি শীত বস্ত্র তুলে দেই!



আমরা যদি প্রতীজ্ঞা করি, এই ঈদে নিজের বা নিজের পরিবারের জন্য পোশাক বা উপহার কেনার বা দেবার আগে অন্তঃত একজন অসহায় গৃহহীন শিশুর অন্নের জোগাড় অথবা একজন গৃহহীনকে সাধ্যমতো সাহায্য করবো, তাহলে শুধু এই অসহায় শরনার্থীদের নয় নিজের জীবনকেও আলোকিত করে তোলা যায়।



আমার কাছে আস্থা যোগ্য একটি সাইট আপনি আপনারটি খুঁজে পছন্দমতো সাইট বা এনজিওর মাধ্যমে হাত বাড়িয়ে দিন।

ছবি সুত্র: - ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৭
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×