somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তুমি কইলা, আর আমি মানলাম।

১২ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অ্যামেরিকায় 'সকার' (বাকি বিশ্ব যাহাকে ফুটবল নামে চিনিয়া থাকে) ভীষণ জনপ্রিয় একটি খেলা। তবে সেটি কেবলই মেয়েদের কাছে। অ্যামেরিকান দল হচ্ছে মেয়েদের ফুটবলের 'ব্রাজিল।' এখানে সকার তাদের কাছে শুধুই খেলা না, উপাসনা পর্যায়ের কিছু একটা।
বিশ্বকাপ ফুটবল এগিয়ে আসছে বলে তারাও আমাদের মতই বিভিন্ন উন্মাদনার দিকে 'পাখির চোখ' রাখছে।
ছেলেদের অবশ্য এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তাদের কাছে ফুটবল মানে অ্যামেরিকান ফুটবল। (বাকি বিশ্বে যাহাকে 'রাগবি' নামে চিনিয়া থাকেন, তাহারই 'রিমিক্স' সংস্করণ।) এক ফুট সাইজের বল নিয়ে দৌড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যুহ ভেদ করে কে কত স্কোর করতে পারে, তা নিয়েই এই খেলা। যারা খেলছে তারাতো খেলছেই, সমর্থকেরা বিয়ার আর পিৎজা খেতে খেতে চিয়ার করছে। খেলা বুঝতে পারলে, উত্তেজনায় বিশ্বের যেকোন খেলাকে হার মানাবার যোগ্যতা রাখে এই খেলা। না বুঝলে মনে হবে শুধুই হাতাহাতি কাড়াকাড়ি করছে একদল পোলাপাইন। সেদিক দিয়ে ভাবলে নব্বই মিনিট দৌড়ানোর পরেও যে খেলায় গোলশূন্য ড্র হবার সম্ভাবনা থাকে, তা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে নষ্ট করার মত সময় কোথায়?
সে যাক, বলছিলাম যে মেয়েরা খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফলো করছে ফিফা বিশ্বকাপকে। আমার একজন কলিগের (অবশ্যই মেয়ে) ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস যেমন সেদিন ছিল, "তিন বছর এগারো মাস তারা অ্যামেরিকান থাকেন, কেবল একমাসের জন্য তাঁদের মনে পরে যায় তাঁদের বাপ দাদারা কয়েক দশক আগে কোন দেশ থেকে এসে এদেশে বসত গড়েছিলেন।"
স্ট্যাটাসে একটি ছেলের ছবি শেয়ার করা আছে। মুখে ইটালির পতাকা এঁকে গায়ে প্রিয় দলের জার্সি পড়ে নিজের পূর্বপুরুষের দলকে সমর্থন করছে। ছবিটা নিউইয়র্কে তোলা।
বেচারির ক্ষোভের যথেষ্টই কারন আছে। কারন অ্যামেরিকাও বিশ্বকাপে খেলছে। হতে পারে ব্রাজিল, স্পেন, ইটালি, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড থেকে ইউএসএ দূর্বল দল, কিন্তু যেই দেশে থাকছো, যে পাসপোর্ট নিয়ে যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছো, এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে দেশে জন্মেছো, সেই দেশের সমর্থন কেন করবে না?
আমার ইংল্যান্ড প্রবাসী বন্ধুদের নিশ্চয়ই এইধরনের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। তারা আরামসেই ইংল্যান্ডকে সমর্থন করতে পারে। বরাবরের মতই দুর্দান্ত দল নিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে যাচ্ছে। কিছু একটা করে দেখালেও দেখাতে পারে।
টিম ইউএসএর যে কোন আশা নেই এটাও সবাই জানে, কিন্তু ফিফা rankingএ তেরোতম দলটিকে সমর্থন করতে ক্ষতিটা কোথায়?
কিছু কি মনে পরে যায়? ক্রিকেটে আমাদের দেশের পাক-ভারত সমর্থকদের কথা?
পাকিস্তানি সমর্থকেরা দাবী করেন - "ওরাও মুসলমান, আমরাও মুসলমান। আমরা পরষ্পরের ভাই! তাই তাদের সাপোর্ট করি। আর তাছাড়া খেলায় রাজনীতি টেনে আনা ঠিক না।"
ভারতীয় সমর্থকেরা তাদের গালি দিয়ে বলে, "খেলায় রাজনীতি টানবো না কেন? অবশ্যই টানবো! আর তুই হচ্ছিস রাজাকার!"
শুরু হয়ে যায় তর্কাতর্কি। তারপর হাতাহাতি।
একই যুক্তিতে ভারতীয় সমর্থকেরাও বা ভারতকেই সমর্থন করবেন কেন? একাত্তুর পরবর্তী সময়ে, প্রায় চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। রাজনীতি টানলেতো ওদেরও সমর্থনের কিছু নেই। তাঁদের যুক্তিও হাস্যকর, "পাকিস্তান ছাড়া আমরা বিশ্বের যে কোন দলকেই সমর্থন করি!"
না ভাই, আপনি আমি দুজনেই জানি, আপনি ভারতকেই সমর্থন করেন। এমনকি বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলাতেও আপনি 'বিরাট কোহলি'র সেঞ্চুরির জন্য দোয়া করেন। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতন আপনি 'পাকিস্তান' ইস্যু টেনে আনছেন।
আমার নিজের দেশ যেখানে খেলছে, সেখানে অন্য দলকে সমর্থন করে কিভাবে মানুষ? টেন্ডুলকারের খেলা, ওয়াসিম আকরামের খেলা ভাল লাগতেই পারে; তাই বলে পুরো দল হিসেবেই কি ভারত পাকিস্তান ভাল হয়ে গেল? অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা কিংবা শ্রীলংকাও কি তাদের চেয়ে ভাল দল নয়? কই, স্টেইন বনাম কোহলির লড়াইতে আপনাকেতো কখনও দেখিনা স্টেইনের জন্য চিয়ার করতে!
দোষ কেবল একদলের সাপোর্টারদের নয়, দুই দলের সমর্থকেরাই সমান দোষী। আপনার পাকিস্তান ভারত সমর্থনে আমার কিছু যায় আসেনা। স্রেফ একজন আরেকজনকে গালাগালি করা বন্ধ করেন!
প্রসঙ্গক্রমে একটি গল্প মনে পরে গেল।
সিডনীতে আমাদের এক বন্ধু থাকে। সে একদিন তার বন্ধুদের নিয়ে বীচে আড্ডা দিতে গেছে, গিয়ে দেখে ব্রেট লীও এসেছে সাগরের পানিতে পা ডুবিয়ে হাঁটতে।
হাতের কাছে এতবড় তারকা পেয়ে কোন ছাগল সুযোগ হাতছাড়া করবে? তারা এগিয়ে গেল কথা বলতে।
লী অনেক ভাল একজন মানুষ। যাকে বলে "খাঁটি জেন্টেলম্যান।" খুবই আন্তরিকভাবে কথাবার্তা বলল।
একটা সময়ে লী তাদের জিজ্ঞেস করলো, "অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশের খেলা হলে তোমরা কাকে সাপোর্ট করো?"
বন্ধু জবাব দিল, "অবশ্যই Aussies।"
লী হাসলো। কিন্তু সেই হাসি দেখেই বুঝা গেল যে বেচারা মনে মনে বলছে, "হ, তুমি কইলা, আর আমি মানলাম।"
ক্রিকেট সাইডে থাকুক, ফেরা যাক বিশ্বকাপ ফুটবলে। আর মাত্র ছয়দিন বাকি। ব্রাজিলের সমর্থনতো করছিই, বিবেকের তাড়নায় টিম ইউএসএর জন্যও রইলো শুভকামনা। ব্রাজিলের মুখোমুখি না হয়ে যতদূর যাওয়া সম্ভব, তোমরা যেন যেতে পারো।
কেবল নক আউট পর্বে যদি দৈবাৎ ব্রাজিলের মুখোমুখি পড়ে যাও এবং আমি অফিসে থাকি, তাহলে আমি মিহি গলায় আওয়াজ দিব "Go USA!"
এরিন (আমার কলিগ) তখন আমার গলা শুনেই মনে মনে বলবে, "হ, তুমি কইলা, আর আমি মানলাম।"
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×