ব্রাজিল নিজের মাটিতে প্রায় সত্তুর ম্যাচ ধরে অপরাজিত। ম্যাচ সংখ্যা এক দুইটা উপর নিচ হতে পারে, একারণেই "প্রায়" শব্দটা ব্যবহার করলাম।
ইদানিং দেশ ভর্তি হয়ে গেছে আঁতেলে। কোন কথাবার্তা যদি একদম 'স্পট অন' না হয়, তাহলেই হলো, সেটা নিয়েই ইস্যু বানিয়ে তর্ক জুড়ে দিবে। লজিক্যাল তর্ক হলে আমার কোন সমস্যা হয়না। দুই পক্ষই লজিক দিবে, এবং একসময়ে যে ভুল বুঝছে সে সুধরে যাবে।
কিন্তু যারা স্রেফ তর্কের খাতিরে তর্ক করতে চায়, তাদের সাথে কথা বলার রুচী বা সময় কোনটাই আমার থাকেনা।
যাউকগা, ফিলিংসের কথায় আসি।
সেদিন নেইমারের কোমরের দিকের হাড্ডিতে ফাটল ধরায় মনটা খুব ভেঙ্গে গিয়েছিল। ব্রাজিলের স্বপ্নের সারথী নেইমার! নেইমারকে ঘিরেই ব্রাজিলের সব পরিকল্পনা! এই বিশ্বকাপে এই নেইমারের কাঁধে চড়েই প্রথম রাউন্ড পেরিয়েছে ব্রাজিল!
কিন্তু এই যে লেখার শুরুতেই বললাম, ব্রাজিল নিজের মাটিতে প্রায় সত্তুর ম্যাচ ধরে অপরাজিত, সেটার কয়টা ম্যাচে নেইমার ছিল?
দ্বিতীয় রাউন্ডে চিলির বিপক্ষে নেইমারের অবদান খুব বেশি ছিল না, কোয়ার্টার ফাইনালেও কলাম্বিয়ার বিপক্ষে সে ছন্দে ছিল না। ব্রাজিল কিন্তু দুইটা ম্যাচেই জিতেছে।
আমি আসলে বলতে চাইছি, ব্রাজিল কোন একক খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করা 'দূর্বল' দল নয়। গেরিঞ্চা, পেলে, জিকো, সক্রেটিস, ফ্যালকাওদের কথা বাদ। আধুনিক যুগেই একসময় রোমারিও ছিল, সে যখন খেলতে পারলো না রোনাল্ডো হাল ধরলো। তারপর রোনালদিনিও(রোনালদিনহো), তারপর কাকা, এখন নেইমার।
নেইমার না খেললে অন্য কেউ উঠে আসবে ইন শা আল্লাহ! যেই দেশে ছেলেরা ডাইপার ছাড়ার আগে ফুটবল নিয়ে ফুটসাল খেলে, তাদের কি কখনও তারকার অভাব হয়?
ডেভিড লুইজ ফ্রী কিক থেকে গোল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে সে কি জিনিস।
হাল্ক যেভাবে শট নিচ্ছে, একটাও যদি জায়গা মত পড়ে তাহলে গোল না হয়ে উপায় আছে?
সিজার যেভাবে কিছু গোল সেভ করেছে, তাতে ভরসা জাগে যে জার্মানরা সহজে গোল পাবেনা।
ফ্রেডকে নিয়ে কিছু বলতে চাইছি না। ও দুধভাত। আমাদের তামীম ইকবালের মত। খোঁজ নিলে হয়তো পাওয়া যাবে যে তারও চাচা নির্বাচক দলের সদস্য!
কাজেই, ব্রাজিল সমর্থকদের ভয়ের কিছু নেই। নেইমার নেই তো কি হয়েছে? ব্রাজিল কি এক খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করা দল?
ইনশা আল্লাহ, জার্মানদের সাথে লড়াই হবে, জোর লড়াই হবে। এবং আল্লাহ সাথে থাকলে ব্রাজিলই জিতবে!
Bring it on Germans! We are ready!! Vamos Brasil!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




