অ্যামেরিকান জীবনের শুরুর দিকে একটি কর্পোরেট অফিসে কাজ করতাম। আমার ফুপাতো ভাইয়ের অফিস। আমার ভাইই সেই অফিসের হর্তাকর্তা। কাজেই শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে খুব বেশি একটা অসুবিধা হয়নি। লাঞ্চ ব্রেকের সময়ে আরামসে মসজিদে চলে যেতাম।
এরপরের চাকরিটা ওয়ালমার্টে। সেখানে আরও বেশি সুবিধা। শুক্রবার ডে অফ নিয়ে নিতাম। আরামসে বাংলাদেশী কায়দায় গোসল করে পাঞ্জাবি গায়ে নামাজে যাওয়া হতো।
তারপরের চাকরিগুলোতে শুক্রবারে অফ পাওয়া হতো না। সুযোগ পেলে জুমার নামাজ পড়া হতো, নাহলে নাই।
সর্বশেষ যখন ভ্যারাইজনে কাজ করতাম, সেটার সময়টাই সবচেয়ে বেশি খারাপ ছিল।
ভ্যারাইজনের নিয়ম হচ্ছে ওদের অ্যাসাইন করা সময়েই ব্রেক/লাঞ্চ নিতে হবে। তার আগেও না, পরেও না।
আমার কাজের স্কেজ্যুলও ছিল অনেক বাজে। দুপুর দুইটা থেকে রাত এগারোটা। এই সময়ে জুমার নামাজ পড়া একেবারেই বন্ধ।
জুমার নামাজ বাদ দেয়ার অযুহাত ছিল আমার চাকরি।
এরপর আমি নরমাল টাইম টেবিলের একটা চাকরিতে ঢুকলাম। ইচ্ছে করলে সকাল সাতটায় যেতে পারি, ইচ্ছে করলে আটটায়, অথবা নয়টায়। লাঞ্চ ব্রেকটাও আমার ইচ্ছে মতন।
মসজিদ অফিস থেকে বিশ/পঁচিশ মিনিট দুরত্বে। যাওয়া আসা এবং নামাজ মিলিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা লাগে। লাঞ্চ সাধারণত এক ঘন্টার জন্যই নিতে হয়। তবু আমার বস কিছু বলেনা।
এবার আর কোন বাহানা থাকলো না জুমা মিস করার।
তারপরেও মাঝে মাঝে কাজের ফাঁকে মনে উকি দেয়, আজকে না গেলে হয়না? অফিসের কাজ দ্রুত শেষ করে ফেলি। তাহলে বাড়িতে তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবো।
তারপরে মনে হয়, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন মক্কার অবিশ্বাসী কোরাইশরা তাঁর কাছে নানান আবদার নিয়ে আসতো।
তারা তাঁকে এটা করে দেখাতে বলতো। ওটা করে দেখাতে বলতো। সবকিছুই প্রায় অসম্ভব পর্যায়ের। তিনিও দেখাতে লাগলেন।
একদিনতো তারা তাঁকে বলল চাঁদ দুইভাগ করে দেখাও।
তিনি দেখালেন। তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় সবার চোখের সামনেই চাঁদ দুইভাগ হয়ে আবার জোড়া লেগে গেল।
তারা বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলেও তাঁকে 'জাদুকর' অপবাদ দিয়ে চলে গেল।
আল্লাহ'র বিখ্যাত আয়াত আছে এই নিয়ে, "তুমি যতই বলো, যাই করো, ওরা ইমান আনবে না।"
আমি যদি এখন জুমার নামাজে না যাই, তাহলে আমার এবং ঐসব অবিশ্বাসীদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায় থাকবে? আমাকেও সব দেয়া হয়েছে, বিনিময়ে আমার কি কিছুই করার নেই?
ঘটনাটা এই কারনেই বললাম, কারন আমরা সবসময়েই এই কাজটা করি।
"হে আল্লাহ! আমাকে পরীক্ষায় পাশ করায় দাও, আমি নামাজি হয়ে যাব!"
"হে আল্লাহ! আমাকে তুমি অমুক অফিসে চাকরি পাওয়ায় দাও, আমি জীবনেও একটা ফরয কাজ ছাড়বো না।"
"হে আল্লাহ! আমার সাথে নিলুফারের বিয়ে করায় দাও, তুমি যা চাও তাই করবো!"
আমরা যেমন সরকারী অফিসারকে ঘুষ অফার করি, এ যেন ঠিক সেটাই।
"বস.....আপনি আমার ফাইলটা দেইখেন, আমিও আপনাকে দেখবো।"
আগে ভাল কাজ করে পরে আল্লাহকে বলা যায় না?
"আমি তোমার কথামত কাজ করছি। তুমি আমার উপর খুশি হয়ে থাকলে আমাকে এই জিনিষটা দাও!"
আমার ক্ষেত্রে কাজ করেছে। অনেকের ক্ষেত্রেই নাকি করে না। তাদের জন্য আল্লাহর সান্তনা, "তোমরা যা মনে করো, তোমাদের জন্য ভাল, আসলে হয়তো সেটা ভাল না। আবার, যেটা মনে করো তোমাদের জন্য খারাপ, আসলে হয়তো সেটাই তোমাদের জন্য ভাল। আসলে আমিই সব জানি, এবং তোমরা কিছুই জানোনা।"
ছোট বেলায় "হাম দিল দে চুকে সনম" সিনেমা দেখে ঐশ্বরিয়া রাইর প্রেমে পড়ে গেলাম। তাঁর সাথে আমার পরিচিত আরেকটা মেয়ের চেহারারও অবিশ্বাস্য মিলও ছিল। দোয়া করলাম এই মেয়ের সাথেই যেন আমার বিয়ে হয়।
হলো না।
এখন তার মেক আপের খরচ অভিষেকের পকেট থেকে যায়।
আমার মাসিক আয়ের থেকে হয়তো অনেক বেশি তাঁর ব্যয়।
নিশ্চই আল্লাহ সব জানেন। আমরা কিছুই জানিনা।
যাই হোক, রমযান মাসের শেষ ওভার চলছে। যত বেশি সম্ভব রান তুলে নিন। চার মারুন। পারলে ছক্কা পেটান। কেবল ডট বল দিয়েন না।
আপনার স্কোর জেতার জন্য যথেষ্ট হয়েছেতো?
সবাইকে অগ্রীম ঈদ মোবারক!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




