somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি "গেরিলা দিবসের" বড় প্রয়োজন।

২৯ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন তখন যাকে তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা থেকে মানুষকে তুলে নেয়া হচ্ছে, বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেউ কিছু বলতে পারেনা। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এই বিদায়ই শেষ বিদায়। তাঁদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কারও কারও ক্ষেত্রে মৃত্যুটা এসেছে আরও আকস্মিকভাবে। কথা নেই, বার্তা নেই, দুম দুম গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে যখন তখন।
কেউ হয়তো মাত্রই ভাত খেতে বসেছিল, তখনই দরজায় টোকা পড়লো। দরজা খুলতেই দুম! খেল খতম!
কেউ রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। এবার দরজায় লাথি মারার শব্দ। দরজা খুলল, এবং দুম!
কেউ হয়তো বাসে করে শহর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। চেক পয়েন্টে বাস থামানো হলো। একে একে সবাইকে নামিয়ে আনা হলো। তারপর সেখান থেকে বাছাই করে আরেকটা লাইনে দাঁড়া করিয়ে দুম! দুম!! দুম!!!
মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যপারটা আরও নিষ্ঠুর। তাঁদের ধরে নিয়ে মিলিটারী ক্যাম্পে বন্দী করে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটে সেটা বলতে চাইছি না।
যারা এই কাজটি করছে তারা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত একটি সেনাবাহিনী। সরকারের নির্দেশেই তারা কাজটি করছে। তাদের বাঁধা দিবে, এই শক্তি কোথায়?
'স্বাধীন বাংলা রেডিও' নামে একটি রেডিওস্টেশন চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে কিছুক্ষণ পরপর দেশবাসীর কাছে আহ্বান করা হচ্ছে, "আপনাদের যা কিছু আছে, লাঠিশোঠা, দা চাকু, এমনকি মরিচের গুড়া হলেও তা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ুন!"
মরিচের গুড়া নিয়ে লড়াই করতে বলছে অটোমেটিক মেশিন গানের বিপক্ষে? কতটুকু অসহায় হলে মানুষ এমন আর্তনাদ করে!
একদিকে যখন লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তখন কিছু বিশ্বাসঘাতক নরপশু নিজেরই জাতির বিরুদ্ধে গিয়ে খুনী মিলিটারীদের সাহায্যে এগিয়ে যায়। এদের সাহায্যেই মিলিটারীরা বাংলার দুর্গম থেকে দুর্গমতম অঞ্চলে গিয়েও মানুষ হত্যা করেছে। এই রাজাকাররাই ছিল তাদের পথ প্রদর্শক।
সেই সময়ে কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় এইভাবে ঘরের কোণে বসে তাঁরা মরবে না। তাঁরা লড়বে। জীবন হাতে নিয়েই তাঁরা রুখে দাঁড়াবে।
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র থেকে শুরু করে সিনেমা হলের গেইট কিপার পর্যন্ত, আয়েশী জীবনে অভ্যস্থ ধনীর দুলাল থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া রিকশাওয়ালা পর্যন্ত দলে দলে স্বাধীনতাকামী জনতা তখন রওনা হলেন সীমান্তের ওপারে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে ট্রেনিং নিতে।
ইন্দিরা গান্ধী যখন শরণার্থী শিবিরে ত্রাণের খিচুরী বিতরণ করতে আসতেন, তখন সেইসব যুবকেরা তাঁকে বলতেন, "আমাদের খাবার চাইনা, আমাদের অস্ত্র দেন! আমরা গিয়ে যুদ্ধ করবো!"
এঁদের নিয়েই গঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা দল। এঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন একেকজন গেরিলা! তাঁদের নিয়েই রচিত হয় অমর অমর কিছু গান।
"হাতে তাঁদের মারণাস্ত্র চোখে অঙ্গীকার, সূর্যকে তাঁরা বন্দী করেছে এমন অহংকার!"
সূর্যকে বন্দী করা এসব ছেলেদের একটি শক্তিশালী এবং সফল দলকে একাত্তুর সালের উনত্রিশ এবং তিরিশ অগাস্ট তারিখে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় বন্দীশিবিরে। এবারও মিলিটারিদের সাহায্যে এগিয়ে আসে বিশ্বাসঘাতকদের দল।
তাঁদের বেশির ভাগই আর ফিরে আসেননি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তাঁদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়না।
হাজার হাজার মানুষ ফিরে আসেন তাঁদের আপনজনদের কাছে। ভাই ফিরে পান তাঁদের বোনকে। মা ফিরে পান সন্তানদের। স্ত্রী যুদ্ধ ফেরত স্বামীর বুকে খামচি মেরে হাউমাউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কিন্তু সেদিন যাঁরা হারিয়ে গিয়েছিল তাঁরা কখনও ফিরে আসেননা।
রুমীর মা জাহানারা ইমাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। আজাদের মা জীবনের শেষ চৌদ্দটা বছর একবেলার জন্যও ভাত খাননি, কেবল একটি রুটি খেয়ে কাঁটিয়েছেন। কারন তাঁর ছেলে আজাদ রমনা থানায় বন্দী অবস্থায় মায়ের কাছে ভাত চেয়েছিল। তিনি পরদিন ভাত নিয়ে গিয়ে ছেলেকে পাননি। সেটাই ছিল একমাত্র পুত্রের সাথে তাঁর শেষ সাক্ষাৎ!
এমনই কত আবেগের, কত দুঃখের, কত মহান একটি দিন এই ৩০শে অগাস্ট।
আমাদের ভাষা দিবস আছে, স্বাধীনতা দিবস আছে, বুদ্ধিজীবী দিবস আছে, আছে বিজয় দিবসও। কিন্তু আমাদের কোনই "গেরিলা দিবস" নেই। যেই সূর্যসন্তানরা বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে আমরা স্বাধীন দেশ পেতাম না, তাঁদের কীর্তি স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন দিবসকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।
তাই ব্যক্তিগতভাবেই আমরা ৩০শে অগাস্ট তারিখটিকে গেরিলা দিবস হিসেবে পালন করবো।
ব্যক্তিগতভাবেই আমরা আমাদের আগামী রবিবারের "এক কাপ চা" অনুষ্ঠানের পর্বটি উৎসর্গ করতে চলেছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল জীবিত ও শহীদ গেরিলাদের উদ্দেশ্যে।
আমাদের চায়ের আসরে সবার নিমন্ত্রণ।
রবিবার, দুপুর ৩-৫, ডালাস সময়।
বাংলাদেশ সময় রাত ২-৪। এবং ইংল্যান্ড সময় রাত ৯-১১।
http://www.radioazad.us
Photo Courtesy: Shimul Yousuf auntie and Club Obscure.
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×