somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলেন ভাই, মন্দির ভাংচুর করে অশেষ নেকী হাসিল করি!

০১ লা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ঘটনা বলি।
ঘটনাটি বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ওস্তাদ নোমান আলী খানের নিজ কন্ঠ থেকে আমার শোনা। তাঁর গল্পে বিশ্বাস করাই যায়।
নবীজি(সঃ) তখন পূর্ণোদ্দমে ইসলাম প্রচার করছেন। দিকে দিকে সাহাবীদের দিয়ে শাহাদাতের বাণী পাঠিয়ে দিয়েছেন। মসজিদে নববীতে তাঁর অফিস।
শেষ নবীর আবির্ভাবের খবর পেয়ে একদল খৃষ্টান পুরোহিত তাঁর সাথে দেখা করতে এলো। দেখা করতে আসার মূল উদ্দেশ্য আসলে ঠিকমত যাচাই বাছাই করে দেখা যে ইনিই কি তাঁদের বাইবেলে বর্ণিত 'আসল নবী' কিনা।
নবীজি(সঃ) তাঁদের স্বানন্দে অভ্যর্থনা জানালেন। তিনি তাঁদের থাকার ব্যবস্থা মসজিদে নববীতেই করলেন। এখানে point to be noted, তাঁর সাথে দেখা করতে আসা বেশিরভাগই কিন্তু খৃষ্টান পুরোহিত। মানে তাঁরা সবাই যীশুর (ঈসা (আঃ)) পূজা করেন। তাঁদের মসজিদে নববীতে স্থান দেয়ার মানে তাঁরা মসজিদের ভিতরেই পূজা করবে।
এমন সর্বনাশা অনুমতি কে দিলেন?
স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আরেকটা ঘটনা বলি। এইটি আরেকজন ইসলামিক স্কলার, মুফতি মেঙ্কের কাছ থেকে শোনা। ইনি এতই বড় স্কলার যে স্বয়ং নোমান আলী খানও তাঁর ভক্ত। তাঁর রেফারেন্সের উপরে নিঃসন্দেহে ভরসা করা যায়।
একবার নবীজি(সঃ) ও সাহাবীদের আলোচনাকালে এক বেদূইনের পেশাবের বেগ পেল। আরব বেদূইনরা জংলি কিসিমের হয়ে থাকে। ভদ্রতার ধার ধারে না।
সে আলোচনা থেকে উঠে গিয়ে মসজিদের ভিতরেই এক কোণে গিয়ে পেশাব করতে শুরু করে দিল।
সাহাবীরা হায় হায় করে উঠলেন। মসজিদে নববীতে পেশাব মানেতো ইসলামের অপমান! তাঁরা তেড়ে গেলেন বেদূইনকে মারতে।
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সাথে সাথে তাঁদের বাঁধা দিলেন। তিনি বেদূইনকে অভয় দিয়ে বললেন, সে যেন তাঁর কাজ শেষ করে।
প্রাকৃতিক ডাক এমন একটা বিষয় যা মাঝপথে উঠে আসা সম্ভব নয়। বেদূইন ঘাবড়ে গিয়েছিল। নবীজির(সঃ) অভয়বাণীতে আশ্বস্ত হয়ে সে ধীরে সুস্থে তাঁর প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে।
তাঁর কাজ শেষ হলে নবীজি(সঃ) সাহাবীদের বলেন পানি এনে স্থানটি ভাল মত ধুয়ে ফেলতে।
তারপর তিনি বেদূইনকে বুঝালেন যে মসজিদ মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র স্থান। এখানে পেশাব পায়খানা করা যায় না।
Another point to be noted, নবীজির (সঃ) উপস্থিতিতেই একজন মসজিদে পেশাব করলো। নবীজি তাঁকে বিন্দুমাত্র শাস্তি দিলেন না। বরং ধৈর্যের সাথে তাঁর অজ্ঞতা দূর করলেন।
এখন আসি মূল প্রসঙ্গে।
বাংলাদেশে কয়েকটা ঘটনা সিজনালি(মৌসুমী) ঘটে।
শীতকালে শৈতপ্রবাহে গরীব মানুষ মরে।
বর্ষায় দেশ বন্যায় ডুবে যায়।
ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের ভরাডুবির ঘটে।
তেমনি পূজার মৌসুমে মন্দির ভাংচুর হয়।

এখন উপরের দুই ঘটনা পড়ার পর আমাদের মনে কী প্রশ্ন জগতে পারে?
যারা মন্দির ভাংচুর করে, তারা কী নিজেদের নবীজির (সঃ) চাইতেও বেশি ধার্মিক মনে করে?
উগ্রবাদিতার স্থান ইসলামে নেই। আল্লাহ নিজেই বলেছেন কেউ যদি অন্য ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকে, তাকে তার মত ছেড়ে দিতে।
এরা দেখি আল্লাহর কথাকেও পাত্তা দেয় না!
নবীজি(সঃ) এদের ব্যপারেই বারবার সাবধান করে বলেছিলেন, "কাফিররা ইসলামের যত না ক্ষতি করবে, তারচেয়ে বেশি ক্ষতি এরা করবে।"
আরেকটি হাদিসে নবীজি(সঃ) এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, "ওদের দেখলে তোমাদের মনে হবে এরা বিরাট ধার্মিক, আসলে তারাই পথভ্রষ্ট।"
যারা ধ্বংসের মাধ্যমে 'শান্তির' পথ খুঁজে, তাদের জন্যই আজকে বিশ্বে মুসলমানদেরকে 'সন্ত্রাসী' বলা হয়ে থাকে। অ্যামেরিকান এয়ারপোর্টে কারও নামের আগে পিছে 'আহমদ' বা 'মোহাম্মদ' থাকলে তাঁদেরকে একটু বেশি সুক্ষ্মভাবে সিকিউরিটি চেক করা হয়। সে যেই হোক না কেন। নবীজির (সঃ) নামের এই বদনামের জন্য শুধু এবং শুধুমাত্র এইসব মাথামোটা ছাগলগুলাই দায়ী।
বাংলাদেশে যে এখন দলে দলে মানুষ ইসলাম ত্যাগ করছে, তাদের জন্য নাস্তিকদের গালাগালি না করে এইসব উগ্রবাদীদের ধরে পেটানো উচিৎ।
লতিফ সিদ্দিকীর আজাইরা প্রলাপে আমাদের যেমন হৃদপিন্ড কাঁপে, ঠিক তেমনি মন্দির ভাংচুরে হিন্দুদেরও কলিজা ছিড়ে যায়।
একটি পিপড়ার মনেও কষ্ট দিলে যেখানে আল্লাহ শাস্তির ওয়াদা করেছেন - সেখানে এরা মানুষের মন ছিন্নভিন্ন করে!
আফসোস! যদি এদের একটুও জ্ঞান হতো!
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×