somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুমায়ূন আহমেদ

১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর একটা বিরাট জনগোষ্ঠির কাছে অ্যামেরিকা হচ্ছে স্বপ্নের দেশ। এইদেশে আসার জন্য অনেকে জীবন বাজি পর্যন্ত রাখেন। অনেকেই বেআইনিভাবে বছরের পর বছর ধরে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে করতে একটা জীবন কাটিয়ে দেন - তবু এদেশ ছেড়ে যান না।
সাধে কী আর অ্যামেরিকানরা বলেন "America is the land of opportunities?"
যে মানুষ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে এইদেশে কিছু করতে পারেনি, সে পৃথিবীর আর কোন দেশেই কিছু করতে পারবে না। এইটা মোটামুটি নিপাতনে সিদ্ধ সত্য।
দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর এক নম্বর ইকোনমি এই দেশ। এখানকার দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিও দুইবেলা মাংস খাবার ক্ষমতা রাখেন। লজ্জা নিবারণের পোশাক তাঁর থাকে। এখন পোশাক পড়া না পড়া সেটা অবশ্য তাঁর ব্যক্তিগত ব্যপার।
বেশিরভাগেরই মাথার উপর ছাদ থাকে। বেঁচে থাকার জন্য প্রধাণ তিন উপাদানই এই দেশে সহজলভ্য।
অলিখিতভাবে পৃথিবী নামের গ্রহটির রাজধানী হচ্ছে অ্যামেরিকা এবং এই দেশের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা সম্রাট!
কিভাবে এই দেশটি এত সফল হলো?
অনেকগুলো কারণের একটি হচ্ছে, এরা মানুষের মস্তিষ্কের মূল্য বুঝে। পড়াশোনায় মাথা আছে এমন ব্যক্তির খোঁজ পেলেই ওরা তাঁকে নিজেদের দেশে রেখে দেয়ার জন্য অস্থির হয়ে যায়। পিএইচডির ছাত্রদের তাই এই দেশে থেকে যেতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়না। এদেশের সরকারই নিজেদের আগ্রহে ভিসা, গ্রীন কার্ড, সিটিজেনশিপের ব্যবস্থা করে দেয়।
বেশ অনেক বছর আগে এক যুবকের জন্যও এমন সুযোগ এসেছিল। যুবক তখন মাত্রই নিজের পিএইচডি ডিফেন্ড করেছিলেন। তাঁকে তাঁর প্রফেসর অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, "তোমার ভিসা-গ্রীনকার্ডের জন্য আমি ব্যবস্থা করতে পারি।"
যুবক তখন বলেছিলেন, "তার আর দরকার হবেনা, আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি।"
হতভম্ব শিক্ষক কিছু বুঝতে পারলেন না। এইভাবে "land of opportunities"কে কেউ অবহেলা করে? তিনি অন্তত জীবনেও দেখেননি।
যুবকের স্ত্রী বললেন, "দেশে গিয়ে আমরা কী করবো? ওখানে আমাদের টানাটানি করে সংসার চালাতে হবে। এদেশে থেকে গেলে কী অসুবিধা?"
যুবক তখন শান্ত গলায় বলেছিলেন, "আমার বাবা এই কারনে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হননি যাতে তাঁর সন্তানেরা বিদেশে গিয়ে বাস করতে পারে।"
স্ত্রীও কিছু বলেন নি। যে লোক টেপ রেকর্ডারে করে বাংলাদেশের বৃষ্টি এবং ব্যাঙের ডাক শোনে, তাঁর মতন পাগল দেশপ্রেমিককে কতদিনই বা তাঁর দেশ থেকে দূরে ধরে রাখা সম্ভব?
যুবক তাঁর পরিবার, একটি একশ ডলারের নোট এবং একটি ফ্রিজ সাথে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। সাতবছর প্রবাস জীবনে এই তাঁর সম্পত্তি। মাতৃভূমিতে তাঁর ভবিষ্যত কী, তিনি জানেন না। একটা পিএইচডি ডিগ্রী আছে - সেটাই ভরসা।
ডিগ্রী ছাড়াও তাঁর আরেকটি ভরসা আছে। সেটি হচ্ছে শখের লেখালেখি। কিন্তু লেখালেখি করে আমাদের মতন গরীব দেশে, তাও কিনা আবার যুদ্ধ বিদ্ধস্ত, কিই বা করা সম্ভব?
প্রায় চল্লিশ বছর পর তিনি যখন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কফিনে শুয়ে পৃথিবী থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তাঁকে বিদায় দিতে পুরো রাষ্ট্র যেন ভেঙ্গে পড়ছিল। যারা সেদিন সেখানে যেতে পারেন নি, তাঁরা টেলিভিশনের পর্দায় তাঁদের প্রিয় মানুষটির জন্য চোখের পানি ফেলছিল। এসবই তাঁর চল্লিশ বছর ধরে কলম সেবার ফল!
কফিনে শুয়ে শুয়ে তিনি হয়তো উপলব্ধি করেছিলেন, তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত মোটেও ভুল ছিল না।
এত মানুষের ভালবাসা পেলে এক জীবনে আর কী লাগে?
আগামী তেরই নভেম্বর বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক, গল্পের জাদুকরের জন্মদিনে ক্যানভাস গ্রুপের পক্ষ্য থেকে তাঁর প্রতি রইলো অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।
পরকালে তাঁকে যেন উপরওয়ালা শান্তিতে রাখেন, এই কামনা করছি।
https://www.facebook.com/groups/canvasbd/
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৬:২৬
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×