somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করার শাস্তি যদি আমাদের সংবিধানে থাকতো!

০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক বন্ধুর বাবার প্রচুর টাকা পয়সা ছিল। ছেলের বাবার কেবল অ্যামেরিকায় কয়েকটা বাড়ি ছিল বলেই বলছি না। অ্যামেরিকায় যেমন কোথাও কোথাও কয়েক মিলিয়ন ডলারে দুই বেডরুমের ঘুপচি ঘর কিনতে হয়, ঠিক তেমনি এই অ্যামেরিকাতেই পাঁচ-ছয় বেডরুমের প্রাসাদ বিশ তিরিশ হাজার ডলারেও কিনতে পারা যায়। "কিন্তু" একটাই। সেই বাড়ির আশেপাশে একশ মাইলের মধ্যেও হয়তো দ্বিতীয় কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কাজেই তাঁর বিদেশের টাকার হিসেবে তাঁকে বিচার করছিনা।
দেশেই আঙ্কেলের এত টাকা ছিল যে তারা ইচ্ছা করলেই ঘুমানোর সময়ে বিছানার তোষকের পরিবর্তে ক্যাশ টাকা ব্যবহার করতে পারতো।
তা এমন বড়লোকের সন্তান, তার উপর দেখতেও হ্যান্ডসাম। ওর জন্য গার্লফ্রেন্ডের কী অভাব হবার কথা? হয়ওনি। তাবৎ সুন্দরী নারীরা ওকেই জীবন সঙ্গী হিসেবে পেতে চাইতো। এবং এত এত সুন্দরীর ভিড়ে সে শুধু সেরাটাকেই বেছে নিত।
বন্ধুর চরিত্রে কোন ত্রুটি ছিল না। স্কুলের গার্লফ্রেন্ড কলেজেও অপরিবর্তিত থেকেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠার পর তাদের মধ্যে প্রথম ঝগড়া হতে দেখলাম।
"বিয়ের পর আমি কাজ করলে তোমার কী অসুবিধা?"
"আমার কী টাকার অভাব আছে যে তোমাকে কাজ করতে হবে? তোমার যা লাগে আমি দেব। আমিই টাকা কামাবো।"
"আমিতো পয়সার জন্য কাজ করবো না। নিজের মনের শান্তির জন্য কাজ করবো। নাহলে এতদূর পড়াশোনা করলাম কেন?"
দুইদিন পরপর একই বিষয় নিয়ে দুইজনের ঝগড়া হতে লাগলো। একদিন "ঠাস" শব্দ শুনে চমকে তাকিয়ে দেখি বন্ধু গালে হাত দিয়ে বসে আছে। চাকরিজীবী মহিলাদের নিয়ে কটুক্তি করায় বান্ধবী তাকে এই পুরস্কার দিয়েছে। বন্ধু ভুলেই গিয়েছিল যে বান্ধবীর মাও একজন চাকরিজীবি নারী।
দীর্ঘদিনের প্রেম ভেঙ্গে গেল মুহূর্তেই। সুন্দরী নারীদের বন্ধু পেতে অপেক্ষা করতে হয়না। হয়ওনি।
বান্ধবী এখন নতুন মানুষের সাথে নতুন সংসার করছে। দেশে একটি ভাল মাল্টিন্যাশনালে ভাল পদে চাকরি করছে। সে সুখেই আছে।
চড় খাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় বন্ধু বিদেশে এসে পড়াশোনা শেষ করে। এখন বিদেশেই সেটেলড। সেও এখন বিবাহিত। পরমা সুন্দরী ভাবি একজন ডাক্তার। দেশের একটি সরকারী মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘ পাঁচ বছর অমানুষিক পরিশ্রম করে খেটেখুটে ডাক্তারি পাশ করেছে।
ভাবিকে বললাম, "এখানে ডাক্তারি করবেন না?"
"আপনার বন্ধু চায়না আমি চাকরি করি।"
ভাবির সহজ সরল উত্তর।
সেই চড়ের কথা মনে পরে গেল। ইচ্ছা করলো বন্ধুর গালে এইবারেরটা আমিই বসিয়ে দিই।
দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নারী মডেলকে চিনি, যার সাথে তাঁর স্বামীর ডিভোর্স হয়ে গেছে। কেন? মেয়েটি বলল, "ও চায়না বিয়ের পরও আমি মডেলিং করি।"
"তুমি কী বললে?"
"উকিল নোটিস পাঠিয়ে দিয়েছি।"
"বিয়ের আগে বলনি তুমি তোমার ক্যারিয়ার ছাড়বে না?"
"তখনতো হারামজাদাটা জিভ বের করে বলেছিল 'সব কবুল হ্যায়।'"
এইসব শুনলে রাগে হাত পা কাপাকাপি করে না?
তুই বদমায়েশ যদি "গৃহিনী"ই বিয়ে করতে চাস, তাহলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মডেল কন্যা খুঁজে বেড়াস কেন? দেশে লাখ লাখ মেয়ে পাওয়া যাবে যারা খুশি মনে বড়লোকের গৃহপালিত বউ হতে রাজি আছে। আর যদি বুয়া বিয়ে করতে চাস, তাহলে প্রফেশনাল বুয়াকেই বিয়ে কর। অন্য মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চাস কেন?
এক বন্ধু আমাকে ধর্ম শেখাতে এসেছিল।
"ইসলামধর্মে মেয়েদের বাইরে কাজ করা নিষেধ।"
আমি তাকে বললাম, "খলিফা উমার (রাঃ) বাজারের জিনিসপত্রের মান ও দামদর সুষ্ঠু ও ন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রনের জন্য একজন মহিলাকে এপয়েন্ট করেছিলেন, সেটা জানিস? তাঁর নাম ছিল শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ(রাঃ)। মদিনার বাজারে কেউ জোচ্চুরি করলো কিনা, কেউ কাস্টমারকে ঠকালো কিনা, এইসবই এই মহিলা দেখতেন। এবং তাঁর বিচারই উমারের (রাঃ) বিচার ছিল। এখন তুই বল, তুই কী উমার(রাঃ) থেকে ইসলাম বেশি বুঝিস?"

"আমার বউ ডাক্তার।"
"আমার বউ ইঞ্জিনিয়ার।"
কিংবা আমি বাইরে গেলে আমার বউয়ের (সাবেক মডেল) অটোগ্রাফ নিতে লোকেরা ভিড় করে, এতেই আমি উৎফুল্ল হয়ে উঠি। কিন্তু আমি আমার বউকে বাইরে কাজ করতে দিব না। মেয়ে মানুষ বাইরে কাজ করবে কেন? কিংবা, আমার বউ হয়ে সে বাইরে কাজ করবে?
আহারে! মানুষের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করার শাস্তি যদি আমাদের সংবিধানে থাকতো!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:১৪
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×