somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি সামান্য কয়েকটা জানোয়ারকে মারতে পারবেন না? তাহলে আপনি কিসের বাঙালি?

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যখন টিস্যু পেপারে সর্দির কারনে শব্দ করে নাক ঝারি, তখন দেখি আমার ছেলেটা মুগ্ধ নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার বাবার নাক ঝারার প্রতিভায় সে বিমোহিত।
আমি যখন তার কান্না থামানোর জন্য হেরে গলায় গান গাই, আমার ছেলে কান্না বন্ধ করে মুগ্ধ হয়ে তার বাবার গান শোনে।
এমনকি, আমি যখন শুধুশুধু জিভ করে ভ্যাংচি কাটি, তাতেও তার আনন্দ ধরে রাখতে পারে না।
সারমর্ম, ছেলে মেয়েদের কাছে ছোটবেলা থেকেই বাবা মাই সুপার হিরো। যাই করে, তাই অনুকরনীয়।
কাজেই, আমি যদি আমার বৌয়ের গায়ে হাত তুলি, আমার ছেলেও তাঁর বৌয়ের গায়ে হাত তুলবে।
আমি যদি আমার কাজের ছেলেটাকে অযথা গালাগালি করি, আমার ছেলেও তাঁর নিচের পদের লোকদের সাথে একই কাজ করবে।
আমি যদি ঘুষ খাই, মানুষ ঠকাই - আমার ছেলের সৎ হবার কোনই সম্ভাবনা নেই।
এবং আমি যদি নারী জাতি দেখলে জিভ সামলাতে না পারি, তাহলে আমার ছেলেও একজন লম্পটই হবে। কোন ব্যতিক্রম নেই।
এখন, ধরা যাক আমি একজন নারী এবং আমার ছেলে না হয়ে মেয়ে হয়েছে।
আমার মেয়ে যদি দেখে শ্বশুরবাড়িতে আমি কুটনামি করে বেড়াচ্ছি, দেবরের সাথে আমার স্বামীর ঝগড়া লাগিয়ে দিচ্ছি, শ্বশুরবাড়ির সাথে সব সম্পর্ক নষ্ট করে শুধুই নিজের বাপের বাড়ির সাথে সম্পর্ক রেখেছি - আমার মেয়েও তাই শিখবে।
আবার, শ্বশুরবাড়িতে সব "অন্যায়" মাথা পেতে মেনে নিচ্ছি, বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করছি না - আমার মেয়েও ভবিষ্যতে একজন দাসীই হবে।
কাজেই, যে সমস্ত মা বোনেরা, গাউছিয়া-নিউমার্কেট-বইমেলা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক পহেলা বৈশাখের ভিড়ে একদল জানোয়ারের হাতে ছোটবড় যেভাবেই হোক শারীরিক-মানসিকভাবে লাঞ্চিত হয়ে মুখ বুজে সহ্য করে আসছেন, তাঁরা কিন্তু বুঝতেও পারছেন না যে আপনার মেয়ের ভবিষ্যতটাও আপনি একই সাথে গলা টিপে হত্যা করছেন। আপনার মেয়ে আপনাকেই রোল মডেল মানছে - আপনার রিয়েকশনই সে শিখছে। আজকে আপনি থাবড়ায়ে দুয়েকটা জানোয়ারের দাঁত ভেঙ্গে দিন - আল্লাহর কসম, আপনার মেয়ে ভবিষ্যতে দুয়েকটাকে পরপারে পাঠাবে। সুস্থ সমাজ গঠনে এর দরকার আছে।
দুইটা ঘটনা বলি। রিলেটেড।
গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় একদিন আমার পরিচিতা এক কলেজ পড়ুয়া সুন্দরী ললনা হঠাৎ করেই অগ্নিমূর্তি ধারন করে এক ছেলের কলার চেপে ধরে চড়াতে শুরু করলো।
ছেলেটা সাঙ্গপাঙ্গসহ ছিল। দলবদ্ধ হয়ে বড় গলায় বলল, "কী করছি আমি? এইভাবে মারেন ক্যান?"
তার সাগরেদরাও একই সাথে তেড়ে এলো, "আসলেইতো। কী করছে? হুদাই হাত তুললেন ক্যান?"
যথারীতি আশেপাশে ভিড় জমে গেল। এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গলাবাজি করা বীর বাঙ্গালির একজনকেও দেখা গেল না ফকিরনিগুলিকে মোকাবেলা করতে। সবাই মজা দেখায় ব্যস্ত।
বখাটেগুলি ভেবেছিল হয়তো বা মেয়েটা কোণঠাসা হয়ে যাবে। হাজার হোক বাঙ্গালি মেয়ে মুখ ফুটে কিছু বলবে না।
কিন্তু মেয়েটা আগের চেয়েও ঝাঝালো গলায় জবাব দিল, "তুই আমার বুকে হাত দিয়েছিস শুয়োরের বাচ্চা!"
বলেই কেউ কিছু বুঝে উঠার আগে জানোয়ারটাকে দ্বিগুন বেগে পেটাতে লাগলো। মেয়েটার মাও এইবার মারধরে যুক্ত হলেন। আফসোস, পাবলিক যদি একটু সঙ্গ দিত, তাহলে বদমায়েশগুলিকে মাথা কামিয়ে ন্যাংটা করে গায়ে চুনকালি মেখে মার্কেট এলাকায় চক্কর দেয়ানো যেত। সেটাই হতো তাদের শাস্তি। এবং এইরকম প্রতিদিন দুয়েকটাকে ধরে ধরে করলে, এইসব বন্ধ হতে বাধ্য।
আফসোস! কেউ এগিয়ে আসেনি।
তবে সুখের কথা, দিন ধীরে ধীরে হলেও বদলাচ্ছে।
এখন একটা মেয়ে মারধর শুরু করলে দুয়েকটা হলেও ছেলে এগিয়ে আসে সাহায্য করতে। আর না আসলেও ক্ষতি নেই, মেয়েরা সবাই একত্র হয়ে যদি এইসমস্ত কুলাঙ্গারদের শরীরের উপর দিয়ে স্রেফ হেটেও যায়, তাহলেও কর্ম সাবার হয়ে যাওয়ার কথা। কেবল সাহস করে একটাবদ্ধ হতে হবে। পারবেন না?
এখন একটা অ্যামেরিকান উদাহরণ। এবং বহুবারের মতই এখানেও নাইন ওয়ান ওয়ানকেই টেনে আনছি।
নাইন ওয়ান ওয়ান অপারেটর একদিন একটা ফোন কল পেলেন, এক মহিলা চাপা স্বরে বলছেন, "যদি আমি ও আমার মেয়ে ঘরে একা থাকি, এবং কেউ আমার বাড়িতে ব্রেক ইন (অনুপ্রবেশ) করার চেষ্টা করে, এবং আমি যদি গুলি করে ওকে হত্যা করি - তাহলে কী আমার কোন ক্রাইম হবে?"
এইধরনের কল সাধারনত অপারেটররা পান না।
ভদ্রমহিলা হকচকিত হয়ে বলেন, "ম্যাম, ঘটনা একটু ভেঙ্গে বলতে পারবেন?"
মহিলা ফোনে বললেন, "দুইটা ছেলে কয়েকদিন ধরেই আমাকে ফলো করছে। আজকে আমাকে রাতে ঘরে একা পেয়ে আমার বাড়ির পেছনের জানালা ভেঙ্গে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আমি জানিনা তাদের উদ্দেশ্য কী। খুব সম্ভব আমাকে রেপ করতে চায়।"
অপারেটর বললেন, "গুলি চালিয়ে দিন। কোন সমস্যা নাই। আমি পুলিশ পাঠাচ্ছি।"
পুলিশ গিয়ে দেখে একটা স্টকার মরে পরে আছে, আরেকটা পালিয়ে গেছে। দুই দিনের মধ্যেই সেটাকেও হাজতে পুরতে সক্ষম হয়। স্বীকারোক্তি দেয় যে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মহিলাকে রেপ, বাঁধা দিলে মার্ডার।
এই মহিলার মেয়ে গর্বিত স্বরে বলতে পারবে - আমার মা জীবনে একটা কাজের কাজ করেছে।
এই মহিলার মেয়ের সাথেও ভবিষ্যতে কেউ ফাজলামি করার চেষ্টা করলে সে উপযুক্ত জবাব দিবে।
এখন একটা বদমায়েশকে আপনি কোন উপায়ে শায়েস্তা করবেন সেটা আপনার ব্যপার। হাতের সেফটিপিন দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত থেকে শুরু করে চোখে মরিচের গুড়া ডলে দিতে পারেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মরিচের গুড়া নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরার আহ্বান করা হয়েছিল - আর আপনি সামান্য কয়েকটা জানোয়ারকে মারতে পারবেন না? তাহলে আপনি কিসের বাঙালি?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৪৬
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×