somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজের ছেলেকে জঙ্গি হওয়া থেকে বাঁচাতে যা করবেন

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি রাজাকারদের সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি। এমনকি গণহত্যাকারী পাকিস্তানি আর্মি ও তাদের সমর্থক "মূর্খ" পাকিস্তানি জনগণের চেয়েও। কেন জানেন? ওদের তাও একটা "অজুহাত" আছে, জাতীয়তাবাদে অন্ধ হয়ে ওরা স্রেফ এক চোখা হরিণ হয়ে যায়। আমরা সবাই কমবেশি এই দোষে দুষ্ট। কিন্তু রাজাকারদেরতো সেই অজুহাত ছিল না। নিজের জাতির বিরুদ্ধেই ওরা লেলানো কুকুরের পা চেটেছে। ওদের চেয়ে বড় শয়তান আর কে আছে? ইবলিশও ওদের সাক্ষাৎ পেলে অটোগ্রাফ নিবে - সেলফি তুলে ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার বানাবে।
এডমিন প্যানেলের সভায় ক্যানভাসের নিয়মাবলী গঠনের আলোচনায় আমার এক দফা এক দাবি ছিল - কোন অবস্থাতেই রাজাকার সমর্থক রাখবো না। নিজের দেশের সাথে বেইমানি করে যারা, নিজের মায়ের সাথেও তারা বেইমানি করবে। এমন নরাধমকে পরিবারে রাখার কোনই দরকার নেই।
ক্যানভাস থেকে বাদ যাওয়া সদস্য সংখ্যা হাজারের উপরে। ব্যান সংখ্যাই আড়াইশো ছাড়ানো। এর আশিভাগই রাজাকার ট্যাগে ট্যাগায়িত।
সেদিন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা ঘটে গেল। গুলশানে সত্যিকার অর্থেই যুদ্ধ চলল। একদল হায়েনার হাতে জিম্মি ছিল আমার ভাই, আমার বোন। ওদের বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরেছে আমারই অন্য ভাইয়েরা। পরিস্থিতি ছিল ভয়ংকর। এমন অবস্থায় সাধারণ লজিক বলে জিম্মিদের কেউই বেঁচে ফেরার কথা না। কিন্তু তারপরেও আমরা দোয়া করেছি - কারন পৃথিবীতে আজও মিরাকেল ঘটে। আমরা আরেকটা মিরাকেল দেখতে চেয়েছিলাম।
বুক ভেঙ্গে যায় যখন দেখলাম এই কঠিন পরিস্থিতিতেও কিছু মানুষ নিজের মনুষ্যত্ব বোধটাই হারিয়ে ফেলেছিল। ওদের কে বুঝাবে, জঙ্গিরা ওখানে লজেন্স বিক্রি করছিল না, মানুষ খুন করছিল! কোন শ্রেণীর জানোয়ার হলে কেউ এই পরিস্থিতি নিয়েও ফাজলামি করে! অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের ছোট দেখানোর চেষ্টা করে! স্ত্রীরা তাঁদের স্বামীদের হারিয়েছেন, শিশুরা হারিয়েছে তাঁদের পিতা - মা বাবা হয়েছেন সন্তানহারা - আর এই সমস্ত নরপশুরা কিনা তাঁদের নিয়েই ফাজলামি করে! ছিঃ! এদের মুখে থুথু ছিটাতেও ঘেন্না হয়। মুখ দিয়ে যখন পায়খানাই বেরোয়, তখন নাহয় অন্য কোথাও গিয়েই পরিবেশ নোংরা করুক। ওদের স্থান ক্যানভাসে না। রাজাকার ছাঁটাই কর্মসূচির আওতায় ডানে বামে না তাকিয়ে এদের ব্যান করা হয়েছে। আরও করা হবে।
এখন অনেকেই অনেক থিওরি নিয়েও হাজির হচ্ছেন। "ভারতের ষড়যন্ত্র," "অবৈধ সরকারের সাজানো নাটক," "আমেরিকার হাত আছে," "কোন "হিন্দু" আল্লাহু আকবার বলে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে" - সিআইএ, এফবিআই, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড - সব এক হয়ে মাঠে নেমে ঘাম ঝরিয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট করতে পারেনা, এইসব উজবুক ঘরের ড্রয়িংরুমে বসে সেসব তদন্তের সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান!
তাদের মস্তিষ্ক, তাদের থিওরি, তারা ঝাড়তেই পারেন - কিন্তু ক্যানভাসে নয়। অন্তত এখনতো অবশ্যই নয়। পুলিশকে তাঁদের কর্ম করতে দিন - আপনি উস্কানি বন্ধ রাখুন। উস্কালে আপনিও বাদ।
আমার মতে, এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বড় ভিলেন হচ্ছে বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা। প্রথমে লাইভ অপারেশন দেখিয়ে জঙ্গিদের সাহায্য করেছে, তারপর ভিতর থেকে জিম্মিদের কে কে কোত্থেকে লুকিয়ে মোবাইল ফোনে কোন কোন আত্মীয়ের সাথে যোগযোগ করে কোথায় কোথায় লুকিয়ে আছে - সব আপডেট দিয়েছে। এখন আবার জঙ্গিদের নাম, পিতার পরিচয়, দেশের বাড়ি, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সব তথ্য ঢালাওভাবে প্রচার করে জঙ্গিদের নিকটাত্মীয়দের বেঁচে থাকা দুর্বিষহ করে তুলছে। মাথায় মস্তিষ্কের পরিবর্তে কতখানি পায়খানা ভরা থাকলে এরা এই কাজটা করতে পারে? ছিঃ!
সবশেষে একটা কথা বলে শেষ করি।
এখনই সময় - নিজের ছেলেমেয়েদের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন। বোঝান যে এইসব জিহাদিস্ট মিহাদিস্ট সব ফালতু কথা - সাধারণ মানুষের প্রাণ যারা নেয় - তারা সন্ত্রাসী। এবং সন্ত্রাসীর কোন জাত, ধর্ম থাকেনা।
কোরআনের যে স্পেসিফিক আয়াতকে আউট অফ কনটেক্সট নিয়ে এদের ব্রেন ওয়াশ করা হচ্ছে, সেইসব আয়াতেরই আগের এবং পরের দশ আয়াত নিজে পড়ুন - তাহলে নিজেই বুঝতে পারবেন, এবং সেই সাথে ছেলে মেয়েদেরও পড়ান। আপনি নিজে যতই সেকুলার হন না কেন, এই কাজটা আপনাকে করতেই হবে। কারন কোন ফাঁকে কোন জঙ্গির হাতে আপনার ছেলে পরে, সেটার কোনই গ্যারান্টি নেই।
আমি বরাবরের মতই এখানে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবা, যাতে বুঝতে সুবিধা হয়।
কলেজের ভর্তি ফর্ম কিনতে যাওয়ার দিন দেশের অত্যন্ত শক্তিশালি একটি ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন আমাদের পাঁচ ফ্রেন্ডকে ধরে অনেক্ষন ব্রেন ওয়াশ করার চেষ্টা করেছিল। আমরা কেউই ফাঁদে পা দেইনি। কেন জানেন? কারন যেসব আয়াত এবং সীরাতের উদাহরণ দিচ্ছিল, তার আগে পরের ঘটনাগুলো আমাদের আগে থেকেই জানা ছিল। ধরা খেল কারা জানেন? যাদের এইসব নিয়ে কোন ধারনাই ছিল না।
নিহত জঙ্গিদের বেশিরভাগই স্কলাস্টিকা, ব্র্যাক, নর্থ-সাউথের ছাত্র, বেশিরভাগের বাবা মাই সমাজের অত্যন্ত উচ্চশ্রেণীর বাসিন্দা - বুঝতেই পারছেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি অন্তত ওদের বাসায় হতো না এইটা কমনসেন্স থেকে বলাই যায়। তাহলে ওরা কেন এত সহজে এদের শিকার হলো? কারন ওরা অনেক প্রফেশনাল ব্রেন ওয়াশার - এবং আমাদের ছেলেদের কোন ধারনাই ছিল না সেসব আয়াত সম্পর্কে।
দেশ এখন চরম সঙ্কটের মুহূর্ত অতিক্রম করছে। আশা করি সরকার এইবার অন্তত "জঙ্গি নেই" বুলি কপচাবেন না। নিজের চোখ বন্ধ করলেই বাইরের দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায়না। শরীরের ভিতর রোগ আছে এইটা স্বীকার করে নিলেই রোগের অর্ধেক চিকিৎসা হয়ে যায়।
দোয়া করি এইটাই আমাদের দেশের শেষ সন্ত্রাসী হামলা।
এবং সেটা নিশ্চিত করতে সরকারেরও আগে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনার ছেলে আপনার সাথে বাড়িতে ঘুমায়, সরকারের সাথে নয়।
প্রাউড অফ মাই কান্ট্রি, প্রাউড অফ মাই আর্মড ফোর্স, প্রাউড অফ মাই পিপল।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ সকাল ৯:২১
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×