somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহরের রাস্তায় রক্তের বন্যা - ফটোশপ? ধর্মান্ধতা? ড্রেনেজ সমস্যা?

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওস্তাদ হুমায়ুন আহমেদ তাঁর কোন এক উপন্যাসে লিখেছিলেন, ঢাকা শহরের আকাশে মেঘ ডাকাডাকি করলেই শহরের রাস্তায় এক হাঁটু পানি জমে যায়। কথাটা একদমই ভুল না। সেই আদি যুগে যখন ইবলিস বাবা আদমকে গন্ধম ফল খাওয়ার জন্য ফুসমন্তর দিচ্ছিল - সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের রাস্তায় তখন থেকেই পানি জমতো।
প্রতিটা সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনেই জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন নির্বাচিত হলেই তারা এই সমস্যার সমাধান করবেন। নিজের সমস্ত লোক লাগিয়ে দিবেন ড্রেন তৈরিতে। পারলে তিনি নিজে এসে ড্রেন পরিষ্কার করে যাবেন ইন শা আল্লাহ। কারও কারও আশ্বাস এমন হয় যে অফিসে বসে গদি গরম হবার আগেই ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু গদিতে বসার সাথে সাথেই তারা এর মজা পেতে শুরু করেন। তখন আর ক্রেন দিয়ে টেনেও তাদের উঠানো যায়না। ফল, পরবর্তী নির্বাচনে আবারও সবার একই আশ্বাস, "আমি নিজে পারলে এসে ড্রেন বানিয়ে দিয়ে যাব ইন শা আল্লাহ।"
এই কুরবানীর ঈদে "রক্তের বন্যা" বয়ে গেল ঢাকা শহরে। বিশ্বব্যাপী মিডিয়ায় প্রচারও পেল তা।
একদল নির্দ্বিধায় বলছেন ব্যাপারটা ফটোশপ। পাশাপাশি কয়েকটা ছবিও তুলে দেয়া হলো। মজার বিষয় হচ্ছে, ছবিগুলোতে বন্যার পানি একটু বেশিই পরিষ্কার। ঢাকার বন্যার পানিতে একটুও ময়লা আবর্জনা নেই! বাহ্! চমৎকার!
এইবার ভিডিও আপলোড করা হলো।
"ওটা স্প্রেশাল ইফেক্ট। যে যুগে এভাটার বানানো হয়, সেই যুগে সামান্য পানির রং বদলানো যাবেনা? Come on man!"
আরেকদল বলছেন, "ধর্মের নামে পশু হত্যা বন্ধ হোক! ইসলাম নিপাত যাক। মুসলিমরা বর্বর!"
ব্রো - বন্যায় ঢাকা শহরের অনেক রাস্তায় সলিড গু ভাসতে ভাসতে যায় - আমি নিজে দেখেছি বহুবার। এখন কী তাহলে দুনিয়া শুদ্ধ মানুষ পায়খানা করা বন্ধ করে দিবে? Chill. রিল্যাক্স। সমস্যা নিয়ে ভাব - সমস্যা বাড়িও না।
এবং তখনই কয়েকজনকে দেখলাম আসল ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামাতে - আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেমটা এখনই সমাধান না করলে আর কখনই হবেনা। কারন দিন দিন ঢাকা শহরে মানুষের সংখ্যা কেবল বেড়েই চলবে। এখন ড্রেন সংস্কারে যা ব্যয় হবে, ভবিষ্যতে সেটাও অসম্ভব বলে মনে হবে।
জ্বি, এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেম কতটা খারাপ। পরস্পরের দিকে আজাইরা আঙ্গুল ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আমরা নাহয় আপাতত এখানে ফোকাস করি।
এইবার আসি মুসলিম ভাইদের সমালোচনায়।
আমাদের ধর্মে নামাজ হচ্ছে হাইয়েস্ট লেভেলের ইবাদত। সেই নামাজের প্রধান শর্ত হচ্ছে নিজের শরীর এবং পোশাক দুইটাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। যে কারনে ওযু করা। ওযু না করে আপনি কুরআন পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারবেন না। আপনি মারা গেলে গোসল না করিয়ে কবর দেয়া যাবেনা। এমনকি স্বামী-স্ত্রী বেশি রোমান্টিক হয়ে গেলেও গোসল করাটা ফরজ হয়ে যায়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আমাদের ইবাদতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পয়েন্ট টু বি নোটেড - এইসব নিয়ম সেই সমাজ থেকে এসেছে যে সমাজে পানির মূল্য ছিল সোনার চেয়ে দামি। কথায় কথায় গোসল/ওযু করে খরচ করার মতন পানির অপ্রতুলতা তাঁদের ছিল না। কাজেই, "এখানে রক্ত/ভুঁড়ি/আবর্জনা না ফেললে কোথায় ফেলবো?" - জাতীয় এক্সকিউজ আস্তাকুড়ে ফেলে দেয়ার মতই ফালতু। আপনি যদি আল্লাহকে খুশি করার জন্য পশু কোরবান দিয়ে থাকেন, তবে সেই জবাই করা পশুর রক্ত-বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলে সেই আল্লাহকেই রাগিয়ে দিবেন না। নবীজি (সঃ) মদিনা সনদ গঠনের সময়ে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "সেই ব্যক্তি জাহান্নামী যে অপরের চলার পথে আবর্জনা ফেলে রাখে। এবং যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর কথা চিন্তা করে সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে - সে জান্নাতি।"
ঢাকা শহরের রাস্তার পানিতে আপনার পশুর রক্ত মিশে "মানুষের চলার পথ"কে দূষিত করছে - সাথে নবীজির (সঃ) হাদিস যুক্ত করে নিন - বুঝতে পারছেন কী ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন?
কুরবানী করা উচিৎ নির্দিষ্ট জায়গায়, যেখানে রক্ত/বর্জ্য ফেলার সুব্যবস্থা আছে। সৌদি আরবে পর্যন্ত তাই হচ্ছে।
শহরের নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে পশু কোরবানি দিয়ে ঠ্যালাগাড়ি, রিকশা, ভ্যানে করে মাংস নিয়ে আসাটা কী খুব কঠিন কিছু হবে? যেখানে সেখানে কুরবানী দেয়াটা জনস্বাস্থ্যের জন্যইতো ক্ষতিকর। কত রকমের রোগ হতে পারে - সেই খেয়াল আমরা কবে করবো?
সরকারের উচিৎ এখনই নিয়ম করা - যেখানে সেখানে পশু জবাই থেকে শুরু করে যেকোন রকমের আবর্জনা যত্রতত্র ফেললে মোটা অংকের জরিমানা। অনাদায়ে সশ্রম কারাদন্ড। তাহলেই বাঙালি লাইনে চলে আসবে।
উদাহরণ, আমার আগের বাড়ির সামনের রাস্তায় যেকোন ধরণের আবর্জনা ফেলার জন্য জরিমানা ছিল দুইশ থেকে শুরু করে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত। চিন্তা করতে পারেন, একটা চিপসের প্যাকেট ফেললে আপনাকে সরকার দশ হাজার ডলার জরিমানা করার অধিকার রাখে। সেই রাস্তায় হাঁটতে গেলেওতো ওযু করে হাঁটতে মন চায়। আমাদের দেশের সড়কগুলোকেও কী আমরা এমন বানাতে পারিনা?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×