somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এখনও সময় আছে - সন্তানের সাথে মেলামেশা করুন

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় আমাদের পাড়ার ছেলেদের (সিলেটের কথা বলছি) সাথে মিশতে দেয়া হতো না। কারন পাড়ার ছেলেরা ছিল আড্ডাবাজ, বিকাল হলেই আড্ডায় মেতে উঠতো - পড়ালেখার ধারে কাছে নাই। এবং সবারই জীবনের লক্ষ্য ছিল একটাই - আত্মীয় স্বজন কাজিন মাজিন কাউকে বিয়ে করে লন্ডন চলে যাওয়া। শিক্ষিত হয়ে লন্ডন গেলেও রেস্টুরেন্টে আলু ছিলতে হবে, অশিক্ষিত হয়ে গেলেও সেই আলুই ছিলতে হবে। কাজেই শুধু শুধু পড়ালেখা করে সময় নষ্ট করার কী মানে?
পাড়ার যুবকদের কাছে লন্ডন যাওয়া ছিল বেহেস্তে যাওয়ার মতই আরাধ্য বিষয়। লন্ডন প্রবাসীদের দিকে তারা এমনভাবে তাকিয়ে থাকতো যেন বেহেস্ত থেকে জিব্রাইল (আঃ) নেমে এসেছে। যে যুবক তার জীবদ্দশায় লন্ডন যেতে পারেনি - তার ইহ জনম পুরোটাই বৃথা।
স্বাভাবিকভাবেই আমার দেশপ্রেমিক পিতামাতা স্পষ্টভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন ওসব ছেলেদের সাথে না মিশতে। যা করার দেশেই করতে হবে। চারটা ডালভাত খেলেও নিজ দেশে যে সম্মান, যে শান্তি পাওয়া যায় - তা পৃথিবীর আর অন্য কোন দেশেই পাওয়া যায় না।
আমি অ্যামেরিকা আসার পরেও আমার বাবা নির্দেশ দিয়েছিলেন - পড়ালেখা শেষ করে দেশে চলে আসবা। ল্যান্ড অফ অপর্চুনিটি অ্যামেরিকা হলেও - নিজের দেশেও অপর্চুনিটির অভাব নেই।
তারপরে আকাশের অনেক তারা ঝরে গেল, নদীর অনেক জলও ঘোলা হলো। বাবা মারা গেলেন। অনেক কিছুই ধীরে ধীরে উল্টে পাল্টে গেল। বুঝতে পারলাম পিতার ডানার নিরাপদ আশ্রয় থেকে দেখা জগৎ এবং বাইরে ছাদহীন আকাশের নিচের জগতে যোজন যোজন পার্থক্য।
এবং তারপরেই আমার দেশে শুরু হয়ে গেল জঙ্গিবাদ, খুনাখুনি, কোপাকুপি। এবং দেশবাসীকে নির্বাক করে দিয়ে গুলশান হামলাকারী জঙ্গিদের পরিচয় বেরিয়ে এলো - সবাইই সমাজের তথাকথিত ভদ্র ঘরের সন্তান! ছোটবেলায় এসমস্ত ছেলেদের সাথেই মেলামেশা করতাম আমরা। বাবা মা এদের সাথেই মিশতে দিত।
একটি ব্যাপার সুস্পষ্টভাবে চোখে ধরা পড়লো - যদি এসব ছেলে জঙ্গিদের ব্রেনওয়াশের হাত থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে দেশের কোন ছেলেই নিরাপদে নেই।
জঙ্গিদের সবারই পিতামাতা মোটামুটি একই কথা বলছেন - "আমরা বুঝতেই পারিনি কবে ও জঙ্গি হয়ে গেছে। হঠাৎ করেই নামাজ রোজা রাখতে শুরু করেছিল - এবং তারপরেই পত্রিকায় দেখি এই খবর!"
একই ঘটনা নিউ ইয়র্কের ধরা পড়া যুবকের অভিভাবকের। একই কথা পৃথিবীর সমস্ত ধরা পড়া জঙ্গির অভিভাবকের। কেউই জানেন না কবে তাদের সন্তান জঙ্গি হয়ে গেল।
একটা সমস্যা কী এখানে কেউ লক্ষ্য করছেন?
আমাদের সময়ে আমাদের বাবা মারা আমাদের প্রতিটা বন্ধু বান্ধবের বায়োগ্রাফি জানতেন। আমরা কাদের সাথে মেলামেশা করছি - তাদের পড়ালেখা থেকে চরিত্রের হালহকিকত কী - কার বাবা মা কী করেন - সবকিছু আমাদের বাবা মায়েদের নখ দর্পনে ছিল। এখনকার পিতামাতারা সন্তানদের স্বাধীনতা দিতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাই বাদ দিয়ে দিচ্ছেন। সে কোথায় কার সাথে মেলামেশা করছে - সেটার উপরই তাঁর চরিত্র - বেড়ে ওঠা ইত্যাদি নির্ভর করবে। একদল ডাকাতের সাথে মেলামেশা করলে আপনার ছেলের সাধুসন্ত সবার সুযোগ একেবারেই শূন্য। বরং সে যদি ডাকাত না হয় - তাহলেই অবাক হতে হবে।
এখনও সময় আছে - সন্তানের সাথে মেলামেশা করুন। তাঁদের বন্ধু হোন। তাঁদের সাথে দূরত্ব কমান। তাঁদের নৈতিক চারিত্রিক মানবিক শিক্ষা দিন। টেলিভিশনে অনেকতো সিরিয়াল আর খবর দেখলেন। তাতে দুনিয়ার কিই বা পাল্টে ফেলেছেন আপনি? বরং সেই সময়টা নিজের সন্তানদের সাথে কাটিয়ে নিজের সংসার তছনছ হওয়ার হাত থেকে আপনিই তাকে বাঁচান।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×