এক ভাই অভিযোগ করলেন ক্যানভাসে (আমার ফেসবুক গ্রুপ) ইদানিং খুব বেশি নারীবাদী পোস্ট শেয়ার হচ্ছে। নারীবাদী পোস্টে তাঁর সমস্যা নাই - তবে সবগুলোই পরোক্ষভাবে হয়ে যাচ্ছে পুরুষবিদ্বেষী পোস্ট - যেখানে মূল সমস্যা।
কেউ চাক অথবা না চাক - পোস্টগুলোতে স্পষ্ট করেই বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম প্রজাতিটির নাম পুরুষ। এসব পোস্ট পড়ে কোমলমতি শিশুরা, বিশেষ করে নারী শিশুরা, পুরুষদের অবিশ্বাস করতে শিখবে - ঘৃণা করতে শিখবে। যা মোটেও কাম্য নয়। বিশেষ করে ক্যানভাসে - যেখানে জেনারালাইজেশনকে তীব্রভাবে তিরষ্কার করা হয়।
পুরুষের হাজার খানেক, মতান্তরে লক্ষ খানেক দোষ আছে, সত্য। সমাজে সব অশান্তি - সেটা ধর্ষণ থেকে শুরু করে রাহাজানি হত্যা খুন ইত্যাদি যেকোন রকমের অপরাধের পেছনে পুরুষকে চোখ বন্ধ করে দায়ী করা যায়, এটাও সত্য। কিন্তু একই সাথে এই পুরুষ আছে বলেই একটি মেয়ে এই ভেবে ভরসা পায় যে তাঁর মাথার উপর শক্ত কংক্রিটের একটি ছাদ আছে। আকাশ থেকে নেমে আসা যেকোন দুর্যোগ তাঁকে স্পর্শ করতে পারবেনা। সেই মেয়েটির কাছে পুরুষটি তাঁর পিতা।
এই পুরুষই আবার অন্য কোন নারীর কাছে ভরসার ঢাল। বাইরের পৃথিবীর যত ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ, যত কুৎসিত লোলুপ দৃষ্টির বাণ - সব এসে প্রতিহত হয়ে যায় এই ইস্পাত কঠিন লৌহ বর্মে। সে জানে, তীব্র শরবর্ষণের মাঝেও সে নিরাপদ - কারন তাঁর রক্ষা কবচের নাম তাঁর ভাই।
আবার এই পুরুষই অন্য কোন নারীর কাছে সবচেয়ে আপন সঙ্গী। দীর্ঘ, বন্ধুর, কণ্টকময় পথেও সে অনায়াসে হেঁটে যাওয়ার সাহস করতে পারে - কারন সে জানে রক্তাক্ত অবস্থায় সে বসে পড়লেও তাঁর সঙ্গীটি ঠিকই নিজের দৃঢ় হাতে তাঁকে টেনে তুলে গন্তব্যে পৌঁছে দিবেই। সেই পুরুষটি তাঁর স্বামী।
আবার সেই পুরুষই কোন নারীর পায়ের নিচে নিজের স্বর্গ খুঁজে ফিরে।
জ্বি আমার বোনেরা ও মায়েরা - যে জানোয়ারটার জন্য আপনারা ভিড়ে যেতে ভয় পান, যেই জানোয়ারটার ভয়ে সারাক্ষন সর্বক্ষেত্রে তটস্থ থাকেন - সেই জানোয়ারটাকে কিন্তু ঠিক সময়ে উচিৎ শিক্ষা তার স্বজাতিরাই দেয়।
ক্যানভাসের নারীবাদী এসব পোস্ট কিন্তু পুরুষেরাও লিখছেন। গ্লাসের অর্ধপূর্ন অংশটা সবাই লক্ষ্য করছেনতো?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৭:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



