somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋতুচক্র

০৫ ই মে, ২০১৭ রাত ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিলেটের এমসি কলেজে প্রথমবর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলাম - বায়োলজি। প্রশ্ন এসেছিল বয়ঃসন্ধিকালে পুরুষ ও নারীদেহে যেসব পরিবর্তন আসে, সেসব বর্ননা করো।
আমার প্রিয় বন্ধু লজ্জার কারনে সেটা উত্তরই করলো না। পরীক্ষায় এমনি এমনি মার্ক্স্ ছেড়ে আসলো।
আমি অবাক হয়ে বললাম, "তুই ছেড়ে দিলি কেন?"
সে সিলেটি ভাষায় বললো, "শরম করে ব্যাটা - টিচার কি না কি মনে করবে।"
বয়ঃসন্ধির সময়ের কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সরাসরি খোলাখুলি কথাবার্তা বলা উচিৎ। পেশাব পায়খানার মতোই এসব অতিস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। ব্যক্তিগত বিষয় বটে, ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করার প্রশ্নই উঠেনা, তবে লজ্জা-শরমেরও কিছু নেই। অপরাধবোধেরতো প্রশ্নই উঠে না।
কিন্তু আমাদের দেশের যেহেতু সামাজিক নিয়মরীতির কারনে আমরা সেসব নিয়ে কথা বলিনা। ফলাফল কনফিউশন এবং কেওস।
মেয়েদের ঋতুচক্র তেমনই একটি ব্যাপারে।
এই বিষয়ে খুব লুকাছুপা চলে, মেয়েরা হয় কনফিউজ্ড, কিছু মানসিক রোগাক্রান্ত পুরুষ একে ঘিরে নানা ফ্যান্টাসিও করে। ফলে মেয়েরা আরও কনফিউজ্ড হয়ে যায়। আরও লুকানোর চেষ্টা করে। বিষয়টা হয়ে যায় খারাপ ও লজ্জার।
সমাধান অতি সহজ।
তবে তার আগে আমার প্রিয় রাসূলের (সঃ) জীবনের একটি উদাহরণ দেই, তাহলেই বুঝবেন।
এক অভিযানে এক বাচ্চা মেয়ে অন্য কারোর উটে স্থান না পাওয়ায় নবী (সঃ) তাঁকে তাঁর সাথে রাইড শেয়ার করার প্রস্তাব দিলেন। চিন্তা করুন, রাষ্ট্রপতির সাথে এক বাহনে সফরে যাওয়া! বাচ্চা মেয়ে এ সম্মানের কতটুকু উপলব্ধি করলো কে জানে, তবে সে স্বানন্দে রাজি হলো।
উটের পেছনে তাঁর আসনে মেয়েটির প্রথম রক্তপাত ঘটলো। বাচ্চা মেয়েটি মন ছোট হয়ে একদম এতটুকু হয়ে গেল।
রাসূলুল্লাহর (সঃ) সাওয়ারিকে সে অপবিত্র করে দিয়েছে!
লজ্জায়, অপরাধবোধে সে ব্যাপারটিকে ঢাকার চেষ্টা করলো, ফলে আরও ছড়িয়ে গেল।
নবী (সঃ) ব্যাপারটি লক্ষ্য করলেন। তিনি প্রথমেই হেসে তাঁকে আস্বস্ত করলেন। বুঝিয়ে দিলেন এটি কোন বিষয়ই না। এমন ঘটতেই পারে। আতংকিত হবার কিছু নেই।
তারপর তিনি মেয়েটিকে বললেন, পোশাক পাল্টে ফেলতে, এবং লবণ পানি ঘষে স্থানটি পরিষ্কার করে ফেলতে।
অভিযান শেষে ফেরত আসার সময়ে তিনি মেয়েটিকে আরও সহজ করতে একটি নেকলেস (হার) উপহার দিলেন।
এই মেয়েটি তাঁর বাকি জীবন সেই নেকলেস পরে ছিল। এবং মৃত্যুকালে নির্দেশ দিয়ে গেল, তাঁকে যেন সেই নেকলেসের সাথেই কবর দেয়া হয়।
আ পিওর জেন্টেলম্যানের প্রেমে সবাই পরে। নবীজি (সঃ) তাঁর ব্যবহার দিয়ে প্রমান করে দিতেন তিনি কোন পর্যায়ের ভদ্রলোক।
অথচ এখন এই যুগে কোন মেয়ে যদি ফার্মেসিতে গিয়ে নিজের জন্য ন্যাপকিন কেনে, কিছু লোকে এমন দৃষ্টি দেয় যেন সেই মেয়ে বাজারে নিজের শরীর বিক্রি করতে এসেছে। চোখ থেকে লাম্পট্য একদম বেয়ে বেয়ে পরে।
শুধুমাত্র পার্ভার্টরাই পারে এসব নিয়ে ফ্যান্টাসাইজ করতে।
কিছু ফ্যান্টাসি করার আগে জেনে নিন, আপনার মা, বোন, স্ত্রী, দাদি, নানী, মেয়ে সবাই এই চক্রের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন অথবা যাচ্ছেন কিংবা যাবেন। অতীতে নবী রাসূলদের স্ত্রী কন্যারাও এর মধ্য দিয়ে গেছেন।
পরমকরুণাময়ের অশেষ করুনার একটা হচ্ছে এই চক্র। এর সুফল নারী মাত্রই টের পান - এবং এটি না হওয়াটাই বরং চরম অসুস্থতা। এতে অপরাধবোধ, বা লজ্জাবোধের কিছু নেই। প্রাইভেট বিষয়, প্রাইভেটই থাকুক, ফরবিডেন নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৭ রাত ৩:০৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×