দেশের আলোচিত ধর্ষক, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আমার আপন খালাতো বোনের জামাই। সেই সূত্রে আমার অতি ঘনিষ্ট আত্মীয়। দেশে গেলে তাদের বাড়িতে আমার নিমন্ত্রণ খাওয়ার কথা। অথবা তারা এদেশে এলে আমার বাড়িতে ওঠার কথা।
কাজেই ব্যাপারটি অন্যান্য সব ধর্ষণ মামলার চাইতে আমার চোখে ভিন্ন। এখানে সরাসরি আমার একজন "আত্মীয়" জড়িত। আমার খালাতো বোনের "ভবিষ্যৎ," খালার পরিবারের "ইজ্জ্ত" সব জড়িয়ে আছে।
তা এই মামলার আসামিদের কী শাস্তি আমি চাই?
উমারের (রাঃ) ফিলোসফি, তুই ধর্ষক হিসেবে এক শাস্তি এমনিতেও পাবি, সাথে আমার আত্মীয় হয়েও ধর্ষক হয়েছিস সেজন্য ডবল শাস্তি ডিজার্ভ করিস।
আমি যদি বিচারক হতাম রে....এবং আমার হাতে যদি পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ভ্যালিডিটি থাকতো! এইসমস্ত জানোয়ারদের জন্য শিরোচ্ছেদ, লিঙ্গচ্ছেদও বড্ড নরম শাস্তি হয়ে যায়!
সমাজের লোকেদের নিয়ে আমি কখনই ভাবিনা।
ওরা "শুনলাম তোমার বোনের জামাই নাকি ঘটনা ঘটাইছে? সত্য নাকি?" বলে এমন একটা লুক দিবে যেন আমি ঘটনা ঘটিয়েছি। ওদের কুৎসিত মন মানসিকতা মসলা খুঁজে বেড়ায়। ওদের মুখে যদি জুতা মারতে পারতাম!
রকি আন্টির সামনে (আমার খালা) সামনে এমন প্রশ্ন করলে অবশ্য উল্টো প্রশ্নকর্তাদের নিয়ে আমি চিন্তিত। তাঁর মুখ মেশিনগান। প্রশ্নকর্তা যাতে কেয়ামত পর্যন্ত নিজের কৃতকর্মের জন্য আফসোস করে - সেই ব্যবস্থা তিনি করবেন। দেশের সবাই যদি তাঁর মতন হতো।
টু বি অনেস্ট, পিয়াশাকে (আমার বোন) নিয়ে খানিকটা ভয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম সে হয়তো শাশ্বত বাংলার কুলীন নারী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের লম্পট স্বামীর চারিত্রিক সনদপত্র প্রদান করতে বলবে, "আমার স্বামী নির্দোষ, ওর মন শিশুর মতোই পবিত্র। ও প্রতিদিন কুরআন পাক তেলাওয়াত করে এবং পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ে। অবসরে সে হাদিস গ্রন্থ নিয়ে গবেষণা করে। ঘটনার রাত্রিতে ও আমার সাথে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ছিল। ওকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে।"
তাহলে এই বোনের সাথে আমাদের সমস্ত সম্পর্ক ধুয়ে ফেলতে হতো। তুমি বাবাজি তোমার পয়সাওয়ালা স্বামীর সাথেই থাকো। আমাদের টাকার দরকার নেই।
যাই হোক - সে সেটা না করে বদমাইশটার পশ্চাৎদেশে লাথি দিয়ে ওর জীবন থেকে সরে এসেছে। মেয়েগুলোর বিচারে যতরকমের সাহায্যের প্রয়োজন সে করবে। তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। তারপরেও সে অটল! তাঁর এই সিদ্ধান্তে গর্বে এই মুহূর্তে বুক ফুলে যাচ্ছে।
সমস্যা একটাই - শাফাতের বাবা টাকাওয়ালা মানুষ। এবং আরেক আসামির বাবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
এবং বাংলাদেশে টাকা ও ক্ষমতা থাকলে যেকোন কিছু করা যায়। পুলিশের মামলা নিতে আটচল্লিশ ঘন্টা দেরি, মেয়েদের হেনস্তা করা এবং আসামিদের মুক্তাবস্থায় অবাধ বিচরণ সেটাই প্রমান করে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে নিজেদের ছেলেদের মুক্ত করে আনতে। এবং সেই উদ্দেশ্যে তারা আমার বোনের সর্বোচ্চ ক্ষতি করতে হলেও পিছপা হবেনা। শুনেছি শ্বশুর সাহেব নাকি ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে বয়ান দিতে শুরু করেছেন।
এখনতো কেবল লড়াই শুরু হলো। আইনি লড়াই হবে, সন্ত্রাসী দিয়ে, পুলিশ দিয়ে, হয়তোবা মিডিয়া সহ আরও আগডুম বাগডুম কত কিছু দিয়ে যে তাঁকে কাবু করার চেষ্টা করা হবে! এছাড়া সাথে আছে মানসিক লড়াই। হাজার হোক, এই লম্পটের সাথে একটা সময়ে সে সংসার করেছে। ভালবেসেছে। শেকড় উপড়ে ফেলার মতন ঘটনা। আশা করি পিয়াশা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। এইটা স্রেফ একটা ধর্ষণ মামলা না - এখন আরও অনেক কিছু যুক্ত হওয়া শুরু করেছে।
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে নিজের বিরুদ্ধে যেতে হলেও যাও।
ন্যায়ের পথে আল্লাহ যদি সাথে থাকেন, তাহলে টেনশন কিসের?
পিয়াশার জন্য শুভ কামনা। ভাই হিসেবে তাঁর লড়াইয়ে পাশে আছি। সর্বশক্তিমান তাঁকে সবধরণের সহায়তা করুন। মেয়েগুলো বিচার পাক, এবং দোষীরা সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। এমন শাস্তি যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুষ্কর্ম করার আগে হাজারবার চিন্তা করেও সাহস না পায়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৭ রাত ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



