শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলার পরে বাঙালির কিছু উজবুকীয় স্ট্যাটাসের ছবি চোখে আসলো।
যেমন, একজন এই দুর্ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার চাইতেও এই ঘটনায় তার মর্মবেদনা বেশি। কারন ক্রাইস্টচার্চে নিহত সবাই বেহেস্তে যাবেন, কিন্তু শ্রীলংকায় নিহতদের ইহজগত এবং পরজগৎ সব গেল।
প্রথম কথা - কে বেহেস্তে যাবে আর কে দোজখে, সেটা বলার তুই কে? যেখানে নবীর (সঃ) পর্যন্ত সুপারিশ কাজে আসবে না, যেখানে মুহাম্মদ (সঃ) ছাড়া প্রতিটা নবী (আদম থেকে ঈসা পর্যন্ত সবাই) "ইয়া নফসি" জপবেন, (আমাদের নবী "ইয়া উম্মাতি" জপবেন) সেখানে তুমি রামছাগল এক কথায় বেহেস্ত দোজখের হিসাব দিয়ে দিলা? বড় বড় নবী রাসূলদের যেই কনফিডেন্স নাই, তুমি এত বড় তালেবর এসে গেলা? বুঝে রাখ, কেয়ামতের ভীষণ দিবসে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় নির্ধারণ করবেন কাকে বেহেস্ত দিবেন, কাকে না। ওটা স্রেফ আল্লাহর সিদ্ধান্ত হবে, আর কারোর না। এবং তিনি পরমকরুনাময়, অসীম দয়ালু এবং ন্যায়বিচারক।
ওরা ম্যা ম্যা করে বলে, "হ্যা, কিন্তু কুরআনে আছে "যদি কেউ কাফির অবস্থায় মারা যায় - তাহলে তার নিস্তার নাই।" এই ব্যাপার তুই জানোস না? মুনাফেক!" (আমাকে "নাস্তিক" ট্যাগ দেবার যুক্তি নাই, তাই এখন মুনাফেক বলে। এক্ষেত্রেও, যেখানে আবু বকর বা উমারের (রাঃ) মতন প্রথম সারির সাহাবীরা পর্যন্ত যাকে তাকে মুনাফেক ডাকতেন না, সেই কনফিডেন্স এদের আছে।)
জবাবে বলি, "হ্যা, কিন্তু ভাল করে দেখ - ওটা স্বজ্ঞানে স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের ব্যাপারে আল্লাহ কিছু বলেননি। উল্টো সহীহ হাদিস আছে, আকস্মিক মৃত্যু শহীদের মর্যাদা দেয়। সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হবার ঘটনা নবীর জীবনে ঘটেনি। তাই এই ব্যাপারে শিওর শট কোন হাদিস কুরআনের আয়াত নাই।"
মিন মিন করে তারা বলে "কিন্তু, মুসলিমদের হাতে যুদ্ধে নিহত কাফিরদের ব্যাপারে...."
ধমক দিয়ে বলি, "ওরে জানোয়ার! ওরা ঈস্টারে প্রার্থনা করছিল - তোর সাথে যুদ্ধ করছিল না। বিধর্মীদের নির্বিঘ্নে প্রার্থনা নিশ্চিত করার শিক্ষা আমি নবীর (সঃ) জীবনীতেই পাই। তিনি তাঁরই মসজিদে নাজরানের খ্রিষ্টানদের উপাসনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তাঁরই খলিফারা পরিবর্তিতে বিধর্মীদের উপাসনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ফেসবুকে পায়খানা করার আগে নিজের নবীর জীবনী পড়ে আয় একবার!"
আমার ধর্মের (ইসলামে) একটি নিশ্চিত নিয়ম জেনে রাখুন। যদি আমি কারোর নামে সরিষা দানা পরিমানও কুৎসা রটাই (ক্ষতি করাতো বহু দূরের ব্যাপার), তাহলে আমার জীবনের যাবতীয় পুণ্যের ভান্ডার থেকে বিশাল বিশাল সঞ্চয় তাঁর খাতায় ট্রান্সফার হবে। একবার আমাদের নবীর (সঃ) স্ত্রী আরেক মহিলাকে তীর্যক অর্থে "বাইট্টা" বলেছিলেন। নবী (সঃ) প্রচন্ড আহত অবস্থায় বললেন, "আল্লাহর কসম, যদি এই শব্দটি কালী হতো, আর তা সমুদ্রে ফেলা হতো, তাহলে পুরো সমুদ্রের পানির রঙ পাল্টে যেত।" মানুষের মনে আঘাত দেয়া আমাদের ধর্মে এতটাই সিরিয়াস গুনাহ।
বিন্দুমাত্র বানিয়ে বলছি না, সহীহ হাদিসের (মুসলিম শরীফের ২৫৮১) উপর ভিত্তি করে বলা। একবার নবী (সঃ) তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, "বলতো, দেউলিয়া কাকে বলে?"
সাহাবীরা উৎসাহের সাথে বলেন, "যার কোন টাকা পয়সা নাই।"
নবী (সঃ) বলেন, "দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে হাশরের ময়দানে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, সদকা ইত্যাদি যাবতীয় পুন্য নিয়ে হাজির হবে কিন্তু সাথে তার মন্দ কাজের হিসাবের খাতায় লেখা থাকবে, অপমান, অপবাদ, অন্যের সম্পত্তি জবরদখল, রক্তপাত, এবং অন্যকে মারধর। তখন তার পুণ্যের সঞ্চয় থেকে নির্যাতিতের খাতায় পুন্য জমা হতে থাকবে। ন্যায় বিচারের মাঝপথে যদি তার পুণ্যের সঞ্চয় ফুরিয়ে যায়, তবে নির্যাতিতের যাবতীয় পাপ তুলে এনে নির্যাতকের খাতায় ভরা হতে থাকবে। এবং তারপরে তাকে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে।"
এখন রাসূলের হাদিসের একটি শব্দ খেয়াল করুন, "রক্তপাত।"
মানে হচ্ছে, কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করলে তাঁর যাবতীয় পাপ খুনির কাঁধে চলে আসে, এবং খুনির যাবতীয় পুন্য নিহতের খাতায় চলে যায়। এখানে কোথাও বলা হয়নি কাফির হলে মেরে ফেলতে পারো - কোনই সমস্যা নাই। আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করেন, সে যে মৃত্যুর আগে মুসলিম হতো না, সেটার গ্যারান্টি তোমাকে কে দিয়েছে? তখন কোন জবাব দিতে পারবেন? আপনার ঈমানটা তখন তুলে ওর খাতায় দিয়ে দিলে?
কাজেই ও জাহান্নামী, আর ও বেহেস্তি জাতীয় ফাত্রামি করার আগে সাবধান! তুই ব্যাটা নিজেও "ইয়া নফসি" "ইয়া নফসি" পড়বি। তুই আপাতত ঐটা নিয়েই চিন্তা কর।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




