somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

paranormal_activity - movie_review

১৮ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে মুভি রিভিউ লিখতে মজাই লাগে। যখন লেখালেখি করার জন্য সময় কম থাকে, চিন্তাভাবনারও কিছু থাকেনা। তখন ভাল লাগা কোন সিনেমা নিয়ে দুই চার লাইন লিখে ফেলাটা অনেক সহজ।
প্রচলিত অর্থে মুভি রিভিউ বলতে যা বুঝায়, যেখানে কাহিনীর অনেক কিছুই তুলে ধরতে হয় (কেউ কেউ স্পয়লারও দিয়ে দেন) আমার সেটা ভাল লাগেনা। আমি কাহিনীর কিছুই বলি না। যেকোন সিনেমার চমকই তাঁর কাহিনী। তাই মুভি রিভিউর নামে আতলামি ফলাতে গিয়ে সিনেমার টেস্ট ও টুইস্ট নষ্ট করার কোন মানে আমি খুঁজে পাই না। তাই আমার লেখায় মুভি রিভিউ লেখার গ্রামার কেউ খুঁজতে যাবেন না যেন।

ভৌতিক সিনেমার আমি খুবই বড় ভক্ত। সেই নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন দেশে প্রথম ডিশ এন্টেনা এলো, এবং জি টিভিতে "জি হরর শো" নামের অতি অখাদ্য বস্তু দর্শকদের গেলেনো হতো, তখন প্রথমবারের মতন টিভিতে ভূত দেখে এমন ভয় পেয়েছিলাম যে এখনও তা মনে আছে।
তারপরে হরর শো দেখাটা নেশার মতন হয়ে গিয়েছিল। জি হরর শোর একটি পর্বও বাদ দিতাম না, সাথে সনি টিভিতে দেখানো হতো "আহাত।" আরও কিছু চ্যানেলে সস্তা বি গ্রেডের হিন্দি ভৌতিক সিনেমা দেখানো হতো। যেখানে ভূতের চেয়েও বেশি ফোকাস পেতো নায়িকার গোসল। নায়িকা কখনও বাথটাবে গোসল করতো, কখনও শাওয়ারে। প্রযোজকের বাজেটের উপর টাব বা শাওয়ার নির্ভর করতো। এবং তখন একটা পর্যায়ে লক্ষ্য করলাম, ভূতের সিনেমা বা নাটক দেখতে দেখতে ভয় পাওয়াতো দূরের কথা, হাসিও পায় না। বিরক্তি জাগে মনে। সব সস্তা হরর সিনেমা। কাহিনী কমন, প্রেডিক্টেবল, এবং হাস্যকর ও বিরক্তিকর।
ভাল কিছু ভূতের সিনেমা যে জীবনেও দেখিনি তা না। সেই নব্বইয়ের দশকের শুরুতে রাম গোপাল ভার্মার "রাত" বা পরবর্তীতে "ভূত", হলিউড এপিক "দ্য এক্সরসিস্ট" "রিং" বা জাপানিজ হরর ট্রিলজি "দ্য গ্রাজ ১-২-৩।"
তবে যে ভূতের সিনেমা দেখে প্রথম নড়েচড়ে বসি, তা হচ্ছে "প্যারানরমাল একটিভিটি।" সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে যা তা হচ্ছে এর বানানোর স্টাইলটা। অতি বুদ্ধিমান পরিচালনা, মনেই হয়নি কোন সিনেমা দেখছি। এমনকি সিনেমা দেখারও দুই তিন সপ্তাহ পর মনে হতো বাস্তবেই বুঝি ঘটনাগুলো ঘটেছে। নির্মাতা তাঁর দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। এটিই আমার জীবনের একমাত্র সিনেমা যা সিনেমা হলে এইচডি, এক্সডি এবং থ্রিডিতে আলাদা আলাদা শোতে দেখেছি। টিকেটের দাম মোটেও সস্তা নয়, এবং আমার আয়ও তখন বলতে গেলে কিছুই ছিল না।
এতবার দেখার পরেও এর ব্লুরে কিনে চিরতরে আপনও করে নিয়েছি।

সিনেমাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য এর সেট, এর সিনেমাটোগ্রাফি, এর অভিনয়, সংলাপ, লাইটিং ইত্যাদি। মনেই হবে না এটি কোন সিনেমা। হোম ভিডিও স্টাইলে নির্মিত সিনেমায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই দর্শক কাহিনীর মধ্যে ঢুকে যাবেন। পুরো সিনেমায় একবারও ভূত দেখানো হয়নি, ভূত দেখে ফেললেই ভূতের ভয়টা কেটে যেত। দর্শক হল ছেড়েছেন তাঁদের মনে ভূতের ভয়ের রেশ নিয়ে। এরপরে অবস্থা এমন হয়েছিল যে বাড়িতে ঠুকঠাক শব্দ হলেই পিলে চমকে উঠতো। বাতাসে দরজায় হালকা কাঁপন লাগলে, পর্দা নড়লে বা আমাদের কাঠের বাড়ির কাঠে আপনাতেই শব্দ তুললে মনে হতো অশরীরী কেউ যেন হেঁটে বেড়াচ্ছে। ভয়াবহ অবস্থা!

এক বন্ধু ভিন্ন স্টেট থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে এলে কমেডি সিনেমা দেখতে চায়। আমরা কমেডির নাম করে প্যারানরমাল একটিভিটি দেখিয়ে দেই। বেচারা ভয়ে সারারাত ঘুমাতে পারেনি।
বিয়ের পর বৌ দাবি করলো সে জীবনেও সিনেমা দেখে ভূতের ভয় পায়নি।
দুইজন মিলে দেখলাম প্যারানরমাল একটিভিটি। সিনেমা শেষে তাঁর এই দাবি এক ফুৎকারে উড়ে গেল। এখন কনজুরিং, ইনসাইডিয়াস দেখেও সে ভয়ে থরথর করে কাঁপে।

তো যা বলছিলাম, প্যারানরমাল একটিভিটির পরে এর দ্বিতীয় পর্ব মোটামুটি ভাল লেগেছিল। তারপরে তারা অসহ্যকরভাবে জঘন্য সিরিজ বানানো শুরু করলো। তাই ভূতের সিনেমার উপর থেকে আবারও ভক্তি শ্রদ্ধা উঠে গিয়েছিল। কনজুরিং সিরিজটা মোটামুটি ফিরিয়ে এনেছে। তবে ভয় পাওয়াতে পারেনি। একই সেটের "এনাবেল" বা "নান" দুইটিই জঘন্য লেগেছে।
সে রাতে হঠাৎ ভয় পেতে ইচ্ছা হলো। ভাবলাম প্যারানরমাল একটিভিটি দেখা যাক। নিচের তলায় বৌ বাচ্চা ঘুমে অচেতন। তাই উপরের তলায় একদম কোনার দিকের বেডরুমে গেলাম। প্রস্তুতি নিচ্ছি। তো বিশেষ কাজে রুম থেকে বেরিয়ে আবার ফিরে এসে দেখি আমার ঘরে একজন দাঁড়িয়ে আছে। খোলা চুল, কালো পোশাক, দেখে মনে হচ্ছে প্রেতাত্মা!
আমি ভয়ে দিলাম চিৎকার।
সামনের অবয়ব আমার চিৎকার শুনে দিল আরেক চিৎকার।
আমি রিয়েকশনেও দিলাম আরেক চিৎকার। জম্বিও জম্বি ভাব কাটিয়ে চিৎকার দিল। দেখি জম্বি আর কেউ না, আমারই বৌ। এই সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁকে এখানে দেখার চমকে আমার চিৎকার বেরিয়ে গেছে।
আমি গলার স্বর বিন্দুমাত্র না নামিয়ে বললাম, "তুমি চিৎকার করছো কেন?"
সেও একই স্বরে বললো, "কারন তুমি চিৎকার করছো!"
আমি বললাম, "তুমি এখানে কী করো?"
সে বললো, "তুমি এতরাতে এখানে কী?"
আমি বললাম "ভূতের সিনেমা দেখতে এসেছিলাম। ভয় পাওয়ার ইচ্ছা ছিল।"

ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেল। যা ভয় পাবার পেয়ে গেছি। প্যারানরমাল একটিভিটি পরের কোন দিনের জন্য তোলা থাকলো।
আপনারা যারা সিনেমা দেখে ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারেন না, তাঁরা ভুল করেও এই সিনেমাটি দেখবেন না। যারা ভয় পেতে ভালবাসেন, তাঁরা দেখতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:৩২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন রহস্যময় !

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪



মনে করেন আপনি জন্ম নেন নাই। যেহেতু নিজের জন্মের উপর আপনার কোন হাত নাই । সেহেতু সে ক্রেডিট আপনি নিতে পারেন না। তো জন্ম না নিলে কি হতো ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

» মানুষ, ভুত পেত্নি জীন সাপ দেখতে হলে ঢুকে পড়ুন নির্দ্বিধায়..(ফান পোষ্ট)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

১। দাদী বুড়ি :D



©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
নেই কাজ তো খই ভাজ্, যদিও আমার ক্ষেত্রে কথাটা সত্য না। কাজে কামে ব্যস্ততাতেই বেশী থাকতে হয়। কিন্তু বুড়া বেডি আমি মন যেনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদূরদর্শিতা, অবিশ্বাস এবং দুর্ভাগ্য - ২য় পর্ব

লিখেছেন মাহের ইসলাম, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯



প্রথম পর্বের লিংক অদূরদর্শিতা , সন্দেহ এবং দুর্ভাগ্য

দুই
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে উপজাতি সম্প্রদায়কে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত করেনি বলে অভিযোগের সুর শোনা যায়। এমনকি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবীজি - হুমায়ুন আহমেদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১১



‘আরব পেনিনসুয়েলা। বিশাল মরুভূমি। যেন আফ্রিকার সাহারা। পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে পার্শিয়ান গালফ। উত্তরে প্যালেস্টাইন এবং সিরিয়ার নগ্ন পর্বতমালা। সমস্ত পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। এখানে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের কথা বলে এদের পাত্তা দিবেন না।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০১


আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা এবার নতুন করে উঠছে না। তবে হ্যাঁ, এবারের মত প্রচার হয়তো আগে হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করার পর খন্দকার মোশতাক ২৫শে আগস্ট অর্থাৎ দশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×