somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঐ মহিলার বিচার চাই

২৮ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুনেছি ব্রিটিশরা নাকি সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ দেয়ার আগে ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউণ্ড দেখতো। ওদের ফিলোসফি ছিল, যে জমিদারের ছেলে, সে ছোটবেলা থেকেই বাপ চাচার থেকে জমিদারি শিখে বড় হয়। লোকজনকে কিভাবে শাসন করতে হয়, সেটা তাঁর রক্তেই মিশে থাকে। কারন মানুষকে শাসন করা বা সমাজে নেতৃত্ব দেয়া পৃথিবীর কঠিনতম দায়িত্বের একটি। এই যে আমেরিকা গত একশো বছর ধরে দুনিয়া শাসন করছে, এর প্রধান কারন হলো এর "ফাউন্ডিং ফাদার্সরা" দূরদর্শী এবং বিচক্ষণ নেতা ছিলেন। তাঁদের গড়া ভিত্তির উপর এই আড়াইশো বছর পরেও একটি দেশ মেরুদন্ড শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে, এবং বিশ্বময় নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমেরিকান কনস্টিটিউশন পড়েন, সাথে এদের চেক্স এন্ড ব্যালেন্স সিস্টেমটা দেখেন, মুগ্ধ হয়ে যাবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতন আবর্জনাকে রাজগদিতে বসানোর পরেও "রাষ্ট্র আমেরিকার" খুব একটা ক্ষতি হতে পারেনি। নাহলে পুরো দেশটাকে মহাসাগরে ডুবিয়ে দেয়ার সব রকমের ক্ষমতাই এই কমলা সুন্দরীর ছিল। প্রথম দিন থেকেই সে সেই চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কখনও সুপ্রিম কোর্ট, কখনও কংগ্রেস বাঁধা দিয়েছে।

তা যা বলছিলাম, ব্রিটিশরা এইসব ব্যাপারে ঐতিহাসিকভাবেই কুটিল বুদ্ধির অধিকারী। তাই দেখা যেত, শুধু মেধা থাকলেই হতো না, বরং ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডও ওরা গুরুত্বের সাথে নিত। যে কারনে, ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার প্রথম আই সি এস ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমাদের বিশ্বকবি রবিন ব্রোর বড় ভাই। যার বাবা ছিলেন দেবেন ঠাকুর, মহর্ষি। যার দাদা ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর, প্রিন্স।

সভ্য সমাজ এই সিস্টেমের প্রতিবাদ করে। আমি নিজেও সাম্যে বিশ্বাসী। আমারও কথা একই, যে যোগ্য, তাঁকে অবশ্যই নেতৃত্ব দেয়া উচিৎ। যদিও আমাদের অতি আধুনিক বাঙালি সমাজ এই তত্ব মানে না। এখানে আজও নেতার ছেলে/মেয়েই নেতা হয়, নাহলে তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ, পারলে ড্রাইভার। কিন্তু নেতার পরিবারেরই হতে হবে। আমাদের রক্তে ওটা মিশে আছে, কিছু বলার নাই।

কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু সরকারি কর্মকর্তার হম্বি তম্বি দেখলে এই বিশ্বাসটা নড়বড়ে হয়ে যায়। অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে ফেলতে নেই। ক্ষমতা এমনই এক ব্যাপার, যা ভুল হাতে পড়লে এর অপপ্রয়োগটাই হয় বেশি। যেমন ইদানিং দেখা যাচ্ছে পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ। কেন ভাই? কাউকে দেখার সাথে সাথেই কেন লাঠিপেটা করতে হবে? বাংলাদেশে কি কারফিউ জারি হয়েছে? আমিতো অনেক জরুরি কাজেই বাইরে বেরুতে পারি। আমার বৌ প্রেগন্যান্ট হতে পারে যার ইমার্জেন্সি প্রয়োজনে আমাকে বাইরে বেরুতে হয়েছে। কিংবা, আমার বাবা করোনা সিম্পটম দেখাচ্ছেন, আমি দৌড়ে বেড়িয়েছি একটা সিএনজি আনতে। আমাকে দেখামাত্র লাঠিচার্জ করতে হবে কেন?

আরেকটা কার্টুনকে দেখলাম দুইজন বয়ষ্ক মানুষকে কানে ধরে উঠবোস করিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করতে। ঠিক এই কারণেই উপরে ব্রিটিশ সিস্টেমের কথাটা তুলে ধরলাম। ইন্ডিয়া যেমন একটা চাওয়ালাকে প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসিয়ে নিজেদের বারোটা বাজিয়েছে, আমরাও তেমনই যাকে তাকে বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে পদবীটার সর্বনাশ করছি। পারিবারিক শিক্ষাকেও মানদন্ডে আনা উচিৎ।

জমিদাররা কেবলই অত্যাচার করতো না, প্রজাদের ভালও বাসতো। ছোটবেলায় যখন গ্রামের বাড়িতে যেতাম, অনেক বয়স্ক মুরুব্বিরা আমাদের সাথে দেখা করতে আসতেন, খোঁজ খবর নিতেন। তাঁরা নাকি আমাদের প্রজা ছিলেন। তখনই যাদের কোটি কোটি টাকা (লন্ডনীদের কল্যানে), জমিদারি লুপ্ত হয়েছে আমার দাদার দাদার আমলে। কিছুটা ছিটেফোঁটা ছিল আমার বাবার দাদার সময়ে, কিন্তু এরপরেতো কিছু নেই। আমরা সমাজের আর দশটা মধ্যবিত্ত পরিবার। তারপরেও এই যে তিন জেনারেশন পরেও এই স্নেহ, এই ভালবাসা কেবল সেই পুরানো স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা থেকেই। আমার পূর্বপুরুষরা যদি তাঁদের বাপের বয়সী কাউকে এইভাবে কানে ধরে উঠবস করিয়ে দাঁত ক্যালাতেন, তাহলে এই ভালবাসা কখনই পেতেন না। লোকে তাঁদের কবরের উপর থুথু ছিটাতো।

এনিওয়েজ, যেই কার্টুন এই কাজটা করেছে, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ওদের ডাকিয়ে এনে ভাল মতন শাসাবেন কি? শাসালে সেটা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করবেন কি? জনগনের সেবার জন্যই যদি হয় সরকার, তাহলে দেশের দুই সিনিয়র সিটিজেনকে অপমান করার দায় সরকারের উপরই বর্তায়। সেই দায়বদ্ধতা থেকে এই সমস্ত কার্টুনদের বিচার হওয়াটা জরুরি।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৫৪
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×