ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে যেদিন হামলা হলো, অর্ধশত মুসলিমকে কেবল মুসলিম হবার অপরাধে মারা হলো, ভিডিও করে লাইভ স্ট্রিম করে গোটা বিশ্বকে দেখানো হলো এই নৃশংসতা। খুনি ছিল একজন হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট সন্ত্রাসী। সেইদিনই, একই জুম্মাবারে, বর্ণবাদী হোয়াইট সুপ্রিমিস্টদের স্বর্গভূমি টেক্সাসে, ওদের দেবতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে, চার বছর বয়সী একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে, বৌ সহ পুরো পরিবার মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েছি।
হামলার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা কেউ আতঙ্কিত ছিলাম না। পুরো মসজিদ মুসল্লিতে গিজগিজ করছিল। এতটাই যে দরজা থেকে মুসল্লিদের ফেরত পাঠিয়ে বলা হয়েছিল পরের জামাতে আসতে। আমাদের একটা বার্তা ছিল সেইসব সন্ত্রাসীদের প্রতি, তোমরা যা করার করে দেখাও, আমরা আমাদের রবের আনুগত্য প্রকাশে ভীত নই।
একেই বলে ঈমান।
এখন চারিদিকে ঘাতক ব্যাধি ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। একজন থেকে চারজন, চারজন থেকে ষোল, ষোল থেকে চৌষট্টি, এবং এইভাবে হাজারে হাজারে, লাখে লাখে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে ঘাতক ভাইরাস, এতটাই দ্রুত যে যত বেশি পরীক্ষা করা হচ্ছে, ততই বেশি সংখ্যায় নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালে স্থান হচ্ছেনা রোগীদের, নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তাবু খাটিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে মিশিগানে এক হাসপাতালের ডাক্তারদের নির্দেশ হয়েছে যদি অতিরিক্ত রোগী বেড়ে যায়, এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি পড়ে, তাহলে ডাক্তাররা তাঁদের বিবেচনানুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন কোন রোগী বাঁচবে, এবং কে মরবে; ঠিক যেমনটা ইটালিতে এখন ঘটছে। এমতাবস্থায়, জেনে শুনে ইচ্ছা করে ছোঁয়াচে রোগকে আরও ছড়ানোর সুযোগ দিয়ে সরকার, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, নবী এবং আল্লাহ সহ সবার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করাকে বলে মূর্খামি। কারন, এতে নিজের ক্ষতি হোক কি না হোক, অন্যের ক্ষতি যে হবে, এইটা নিশ্চিত। এবং ইসলাম কখনই এমন অবিবেচকের মতন আচরণ করতে অনুমতি দেয় না।
আফসোস!
একপাল মূর্খ ছাগল আমাদের ঈমান শেখাতে আসে।
আফসোস!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




