somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্যা থেকে রাসেলস ভাইপার - প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার ধৃষ্টতা

২১ শে জুন, ২০২৪ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিলেট আমার পৈতৃক নিবাস। আমার বাপ, দাদা এবং তাঁদের সাত পুরুষ আগের সবাই সিলেটেই জন্মেছেন। আমার জন্ম যদিও চিটাগং তবু শৈশব ও কৈশোরের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় আমার সিলেটে কেটেছে। ৯২-২০০৩ বছরগুলোতে আমি সিলেটে বেড়ে উঠেছি।
আমাদের সিলেটের বৃষ্টি অতি বিখ্যাত, শুরু হলে টানা দুই তিনদিন পর্যন্ত চলার ক্ষমতা রাখে। স্বাভাবিক কারণেই শহরে "জলাবদ্ধতা" একটি অতি প্রাচীন সমস্যা। কিন্তু সেটা কিছু পরিচিত এলাকায়। যেমন উপশহর এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেত। কিংবা আমাদের রায়নগর এলাকারই কিছু রাস্তায় পানি জমতো। বৃষ্টি থামলে সেই পানি দুয়েক ঘন্টার মধ্যে নেমেও যেত।
এছাড়া আমার গ্রামের বাড়ি "ভাটি অঞ্চলে" ছিল। মানে বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রে পাল্টে যেত। আমার দাদির বাড়ি ছিল উজান অঞ্চলে। তাঁদের এলাকায় এত পানি উঠতো না। তাই দেখা যেত বর্ষা আসতেই দাদি আমার আব্বু চাচা ফুপুদের নিয়ে বাপের বাড়ি নাইওর যেতেন। আমার বড় আব্বা (আব্বুর দাদা) বিরক্ত স্বরে বলতেন "উজান এলাকার মেয়েরা পানিকে এত ভয় পায় কেন?"
যাই হোক, সিলেটের ভৌগলিক ব্যাপারটা বুঝালাম। মানে জলাবদ্ধতা আমাদের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা ছিল।
ছিল বলছি, কারন সেটা এখন আর নেই। এখন নিয়মিতই "বন্যা" হচ্ছে। আমার মনে পড়েনা আমার দীর্ঘ এগারো বছর সিলেট অবস্থানকালে আমি এমন নিয়মিত বন্যা পরিস্থিতি দেখেছি। শহরে লোকজন কোরবানি দিতে পারছে না, ঈদগাহে জামাতে নামাজ বন্ধ, এলাকার মসজিদে পড়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, বাড়ির ভিতরে মাচা বানিয়ে লোকজন পানি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন - এমন ভয়াবহ অবস্থা তখন ছিল না।
আমি সিলেটে নাই, থাকলে আরও স্পেসিফিক্যালি বলতে পারতাম।
কিন্তু প্রধান কারন হিসেবে অবশ্যই চিহ্নিত করা যায় হাওরের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ। ব্রিজ, কালভার্ট নয়, আস্ত রাস্তা তৈরী করে দেয়া হয়েছে, ফলে পানির ফ্লো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেই পানিই দুপাশে উপচে পড়ে আস্ত সিলেটকে ডুবিয়ে দিচ্ছে।
আমি আমেরিকায় রিয়েল্টর ব্যবসায় আছি। কোন জমি কেনার সময়ে যদি সেখানে endangered species এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে সেই জমিতে যা খুশি তাই করা যায় না। প্রকৃতির সাথে টাল্টিবাল্টি করার নিয়ম এদেশে নেই। বললে অনেকে বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু আমেরিকায় এমন অনেক বড় শহরের উপশহরে নিয়মিতই বনের হরিণ চলে আসে। বব ক্যাট (বন্য বিড়াল) এসে ব্যাকিয়ার্ডে ঝিমোয়। ফ্লোরিডায় এলিগেটর বাড়িতে ঢুকে যায়। টেক্সাসে সাপ অতি নিয়মিত অতিথি। আমার কাজিনের ক্যালিফর্নিয়ার বাসার ব্যাকিয়ার্ডে মাউন্টেন লায়ন বসে থাকে। ওদেরকে মারার হুকুম নেই। বিশেষ কর্মকর্তা থাকেন, ওদেরকে খবর দিলে তাঁরা এসে নিয়ে যান। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এদের প্রত্যেকের ভূমিকা থাকে। আমাদের কল্যানেই ওদেরকে আমাদের প্রয়োজন।
আমরা রাসেলস ভাইপারের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। কিন্তু ভেবে দেখেছি কেন হঠাৎ রাসেলস ভাইপার এত বেড়ে গেছে? কেন সিলেটে এত বন্যা হচ্ছে? উত্তর একটাই, প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার ধৃষ্টতা।
নদী-হাওর ইত্যাদি ভরাট করলে যেমন বন্যা হয়, তেমনি সাপ, বেজি, শিয়াল ইত্যাদি মেরে ফেললেও প্রকৃতিতে ভারসাম্য নষ্ট হয়। বেজি, শিয়াল ইত্যাদিতো সাপ খায়ই, এমনকি এমন বহু সাপ আছে যারা এমনিতে নির্বিষ, কিন্তু বিষধর সাপ খেয়ে ফেলে। এরা আমাদের বন্ধু। কিন্তু আমরা গণহারে এদের হত্যা করতে করতে এখন শত্রু সাপের সংখ্যা বাড়িয়ে ফেলেছি।
উন্নয়ন করতে করতে আমরা নদী/হাওর মেরে ফেলছি, তারপরে বন্যা বন্যা বলে কাঁদছি।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যে রাস্তা নির্মিত হয়, এত বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার যে প্রজেক্টে কাজ করেন, একটা সাধারণ বিবেক বুদ্ধিমান মানুষও কি সেইসব প্রজেক্টে থাকে না যে অতি সাধারণ বুদ্ধি খাটিয়ে বলতে পারবে যে হাওয়রের উপর দিয়ে এমন রাস্তা নির্মাণ একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত? নাকি "একটি প্রজেক্ট থেকে এত কোটি টাকা আসবে" - শুধুমাত্র এই লোভেই কোটি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে ওদের বিবেকে এতটুকু বাধে না? বিসিএস কর্মকর্তাদের ঘুষ দুর্নীতির প্রমান দুইদিন পরপর ফেসবুকে আসছে, ওদেরকে চর্যাপদের পান্ডুলিপি কত সালে আবিষ্কৃত হয়েছে বা মেঘনা নদীর শাখা নদীগুলোর নাম মুখস্ত না করিয়ে "নীতি-নৈতিকতা" বা "এথিক্স" ইত্যাদি কোর্স করানো কি ফলপ্রসূ না? কেউ কেউ হয়তো বলবেন এথিক্স কোর্স করানো হয়। তা কী ঘোড়ার আন্ডার কোর্স করে সেটাতো ওদের কাজেই প্রমাণিত।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০২৪ রাত ২:৩৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×