somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি নাকি আওয়ামীলীগ?

১৯ শে আগস্ট, ২০২৪ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা জীবনের একটা বড় অংশ শুধু আওয়ামী শাসনামল দেখেছো, ওদেরকে অতি সহজেই বুঝানো হচ্ছে যে বিএনপি খুবই ভাল দল। সত্যি জানতে হলে আওয়ামীলীগের লেখা ইতিহাস পড়তে হবে না, আমরা যারা দুই বুড়ির শাসন দেখেছি, ওদের থেকে সৎ সাক্ষ্য নিলেই জানতে পারবা।

প্রথমত, আমরা দুর্নীতিতে টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ছিলাম, যার ৪ বারই বিএনপি আমলে হয়েছি। শুরু হয়েছিল আওয়ামীলীগ আমল দিয়েই।
আমাদের হেক্সা জয়ই নিশ্চিত ছিল, শুধু আমাদেরকে যারা হারিয়েছে ওরা আমাদের চেয়েও বেশি দুর্নীতিবাজ হয়ে আমাদের হারিয়েছে। বিশ্বাস করেন, আমাদের প্রস্তুতির কোন কমতি ছিল না। অল্পের জন্য মিশন হেক্সা মিস হয়ে গিয়েছিল।

দ্বিতীয়ত জেএমবি নামের এক ভয়াবহ জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান হয়েছিল এই বিএনপি আমলেই। আমেরিকা যেমন লাদেনের নাম শুনলে আঁতকে উঠে, আমাদের জন্য সাক্ষাৎ বিভীষিকা ছিল বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমান (এও ছিল “শেখ”, কিন্তু বানান লিখতো “শায়খ”) ইত্যাদি নামগুলো তখন দেশব্যাপী আতংক ছড়াতো। রমনার বটমূলে বোমা হামলা, গাজীপুরে বোমা হামলা, ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা হামলা, গোটা দেশে সিরিজ বোমা হামলা করে আমাদের সবাইকে আতঙ্কিত করে রেখেছিল। প্রচন্ড উগ্রপন্থী এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারনে লোকজন সারাক্ষন আতঙ্কে থাকতো, বাসে, ট্রেনে, সিনেমা হল, কনসার্ট, মার্কেটে যেতে ভয় পেত। কারোরই সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার গ্যারান্টি ছিল না। দেশের প্রতিটা অফিসে, মার্কেটে, হোটেলে মেটাল ডিটেক্টর গেইট লাগানো হয়েছিল। আমরা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকার সময়ে চেকিং হতো, বাজারে গেলে চেকিং হতো, কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারতো না। ওদের দমনে বিএনপি সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল। ওদের উত্থানে ওদেরই প্রশ্রয় ছিল।

এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র শিবিরের দৌরাত্ম ছিল সাংঘাতিক। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ছিল ওদের দখলে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদিতে ছাত্রদল কম ছিল না। শিবির চাঁদাবাজি করতো কিনা মনে নাই, ধর্ষণতো করতোই না (ওটা লীগ ও দলের পোলাপান করতো, শিবিরের দৃষ্টিতে এটি ছিল জেনাহ, ভয়ংকরতম পাপ, নারীদের দিকে ওরা চোখ তুলে তাকাতো না) তবে কোপায়ে মানুষ মেরে ফেলতো এইটা মনে আছে। বহুবার ওরা হয় মানুষ মেরেছে, নাহয় রগ কেটে চিরতরে পঙ্গু করেছে। আপনি ভাবতেই পারেন যারা জেনাহ করতে ভয় পায়, ওরা খুন করে কিভাবে? ওদের দৃষ্টিতে “আপনি কাফের" অথবা “মুরতাদ" অথবা “মুনাফেক" হওয়াই যথেষ্ট ছিল।

মোট কথা, “এই দুই বুড়ি মিইল্যা, দেশটা খাইছে গিইল্যা।”
এই কারনে ছাত্রদের ছোটখাট ভুলত্রুটি নিয়ে লোকজন যে ফেসবুকে হায়হায় করে মরা কান্না জুড়ে দেয়, আমার খুবই বিরক্ত লাগে। কারন আমি বিএনপি-আওয়ামী আমলেই বড় হয়েছি।
আমাদের দরকার একটি নতুন দল, সভ্য মানুষের দল, যারা তেলবাজি করবে না। দেশের জন্য কাজ করবে, নিজের নেতানেত্রীর পা চাটবে না। পুলিশ হবে স্বাধীন, প্রধানমন্ত্রীকেও যদি আইন ভঙ্গের কারনে এরেস্ট করতে হয়, করবে।
বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। কোন বিচারপতি অনর্গল মিথ্যা বলবে না। প্রধানমন্ত্রী যা চাইবে তাই বিচার শোনাবে না। সবাই কাজ করবে সংবিধানের নিচে। আইনের উর্দ্ধে উঠার ধৃষ্টতা কেউ দেখাবে না।
আমরা সেদিকেই যেন সবাই ফোকাস করি।
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×