somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাট্যশিল্পী গাজী রাকায়াতের ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছে।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাট্যশিল্পী গাজী রাকায়াতের ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছে।
মূল বিষয় ভদ্রলোক কুরআন পড়তে গিয়ে এমন কিছু আবিষ্কার করেছে, যা পড়ে সে মুগ্ধ হয়ে আরও পড়েছে, গবেষণা করেছে, এবং কুরআনের মালিকের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
উনি ইঞ্জিনিয়ার, তাই এই মহাগ্রন্থে গণিতের কারসাজি উনার ভাল লেগেছে।
আমি আরেক ভদ্রলোকের ঘটনা বলি, যাকে কুরআন ভিন্নভাবে মুগ্ধ করেছে।
অমুসলিম এই ভদ্রলোক একবার ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলো। এর আগে চিরজীবন সে শুনে এসেছে ইসলাম মানেই টেরোরিস্টদের ধর্ম। নিজেকেই প্রশ্ন করলো, ওদের ব্যাপারে জানার কি আছে?
তো একদিন সে কুরআন পড়ছিল। মজা পাচ্ছিল। একটা সময়ে সে কুরআন পাঠ থামিয়ে আল্লাহকে বলল, "আল্লাহ, এইটাই সেই সময়। আমি ইসলাম গ্রহণ করবো। শুধু আমাকে একটা নিদর্শন, একটা ইশারা দেখাও। তেমন বড় কিছু না, ছোটখাট হলেও চলবে। হয়তো একটা বিদ্যুৎ চমক, হয়তো এই বাড়ির ছাদ ধ্বসে পড়া - এমনই ছোটখাট কিছু। তোমার জন্যতো তা কোন ব্যাপারই না। তুমি গোটা দুনিয়া সৃষ্টি করেছো!"
সে অপেক্ষা করতে লাগলো। মোমবাতির দিকে তাকায়, যদি এটি হঠাৎ দপ করে চার মিটার উচ্চতায় জ্বলে উঠে! যেমনটা সিনেমায় দেখায়।
কিন্তু কিছুই ঘটে না। একদম কিছুই না।
লোকটা খানিকটা হতাশ হয়।
সে আল্লাহকে বলে, "আল্লাহ! এইটা তোমার সুযোগ ছিল! আমি এখানেই বসা, একটা চিহ্ন দেখার অপেক্ষায়। আচ্ছা যাও, তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিচ্ছি। হয়তো তুমি ব্যস্ত আছো। হয়তো একটা গাড়ির ব্যাকফায়ারিং, অথবা একটা পাখির জোরে পাদ - যেকোন চিহ্ন দেখাও!"
তারপরে লোকটা আবার অপেক্ষায় থাকলো। কিন্তু কিছুই ঘটলো না। একদম কিছুই না।
লোকটা খুবই হতাশ হলো। সিদ্ধান্ত নিল - এই শেষ। হুদাই টাইম নষ্ট করছি।
তারপরে সে কি মনে করে কুরআন খুলল। যেখানে সে থেমেছিল, ঠিক সেখানে গিয়ে পড়তে গিয়ে সে পরের বাক্যেই পড়লো, "তোমাদের যারা নিদর্শন খুঁজছিলে, আমি কি তোমাদের যথেষ্ট নিদর্শন দেখাইনি? তোমাদের আশেপাশে দেখো, সূর্য, তারকারাশি, এগুলোই জ্ঞানপিপাসুদের জন্য নিদর্শন।"
সে থমকে গেল। অনুতপ্ত হলো। উপলব্ধি করলো সে কতটা অহংকারী হয়ে গিয়েছিল এই ভেবে যে সে আল্লাহর কাছে নিদর্শন চাচ্ছিল, অথচ তাঁর অস্তিত্বই একটি নিদর্শন।
আমি কুরআনের হাফেজ না। তাই বুঝতে পারছি না সে কোন স্পেসিফিক আয়াতের কথা বলেছে। তবে এই সম্পর্কিত আয়াত যেগুলো আমি জানি, সেগুলো তুলে ধরলাম। পড়তে পারেন। আর যদি কেউ জানেন সে ঠিক কোন আয়াতের বর্ণনা করেছে, তাহলেও বলতে পারেন।
"এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাব পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, এ কোরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা সর্ববিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি যথেষ্ট নয়?" (৪১:৫৩)
"বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে, এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না?" (৫১:২০-২১)
"তাহলে আপনি বলে দিন, চেয়ে দেখ তো আসমানসমুহে ও যমীনে কি রয়েছে। আর কোন নিদর্শন এবং কোন ভীতিপ্রর্দশনই কোন কাজে আসে না সেসব লোকের জন্য যারা মান্য করে না।" (১০:১০১)
"নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে।" (৩:১৯০)
তা এই ঘটনার ব্যাপারে আমার লেখা নবীজির (সঃ) জীবনী গ্রন্থ "রিসালাত - মক্কা পর্ব" থেকে কিছু বাক্য উল্লেখ করা যাক।
এক রাতে কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী উমার ইব্ন খাত্তাবের মদের তৃষ্ণা পেল। মদ এমন এক বস্তু যা একা খাওয়ার চেয়ে দলবল মিলে খেলে বেশি মজা হয়। তাই তিনি বন্ধুবান্ধবের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরুলেন। কোন এক অজানা কারনে তাঁর বন্ধুবান্ধবদের কাউকেই তিনি বাড়িতে পেলেন না। হতাশ মনে তিনি কাবা জিয়ারত করে বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন।
কাবার কাছাকাছি আসতেই তিনি শোনেন গুনগুন করে কেউ কিছু পাঠ করছে। নিশুতি রাতে ঘুমন্ত মক্কা নগরীর বুকে কেউ অপার্থিব স্বরে পাঠ করছে ছন্দময় এমন কিছু যা শুনলে মনে ঘোরের সৃষ্টি হয়।
উমার আরেকটু কাছে এগিয়ে এসে পাঠকারীকে চেনার চেষ্টা করলেন। তাঁর চোখ চক চক করে উঠলো। বুকের খাঁচায় হৃদপিন্ড দ্রুত বেগে রক্ত প্রবাহিত করতে লাগলো। শরীরে অন্যরকম শিহরন অনুভব করলেন উমার। সামনে মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে আছেন, একা! এই সেই মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যার কারনে আজকে কুরাইশরা নিজেদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই সেই মোহাম্মদ যাকে কুরাইশরা কিছুতেই প্রতিহত করতে পারছে না। এই সেই মোহাম্মদ যাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছেনা কারন তাঁর গোত্রের নাম বনু হাশিম! আজকে এই নির্জন নিরালায়, নিরস্ত্র অবস্থায় তাঁকে একা পাওয়া গেছে! পেছন থেকে আক্রমন করে হত্যা করলে কেউ টের পাবেনা। বনু হাশিম কিছুতেই প্রতিশোধ নিতে পারবে না। সব ঝামেলার সমাধান হবে এক লহমায়।
উমারের মন চনমন করে উঠলো। হাত নিশপিশ করছে। তিনি আরেকটু কাছে এগিয়ে এলেন। মোহাম্মদ আপন মনে পাঠ করে যাচ্ছে। আশেপাশে কী ঘটছে কোন খেয়াল নেই।
কাছাকাছি আসতেই উমার থমকে দাঁড়ালেন। কী পড়ছে সে? কী মধুর ঝংকারময় শব্দমালা! আগেতো কখনও শোনা হয়নি! কী এটা?
যেন মোহাম্মদ বুঝতে পারলেন উমারের মনের কথা। তিনি তখনই পাঠ করলেন,
"নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত।"
জবাব শুনে উমার চমক খেলেন। তাঁর মনে তখনই প্রশ্ন জাগলো, "এটি কবিতা নয়তো? ছন্দে ছন্দে শব্দ গাঁথা হয়েছে।"
মোহাম্মদ তখনই বললেন,
"এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।"
এইবার সত্যি সত্যিই উমার চমকালেন। তাঁর মনের ভিতরে কী প্রশ্ন জেগেছে সেটারই উত্তর কিভাবে ও দিল? ও কী তবে কোন জাদুকর? ঠিক এটাই তো আবু জাহেল বলে বেড়াচ্ছে। ও নাকি মন্ত্রপাঠ করে লোকজনকে নিজের বশে নিয়ে আসে।
সাথে সাথে মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন,
"এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর (জাদুকরের) কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।"
উমার নির্বাক হয়ে ভাবলেন, "যদি জাদু না হয়ে থাকে, তবে এটি কী?"
জবাব এলো মোহাম্মদের(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বরে, "এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।"
উমার মনে মনে ভাবলেন, "অসম্ভব! এটি নিশ্চই তাঁর নিজের রচনা। পুরোটাই কাকতাল।"
মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পড়ে চললেন, "সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত, তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম, অতঃপর কেটে দিতাম তাঁর গ্রীবা। তোমাদের কেউ তাঁকে রক্ষা করতে পারতে না। এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ। আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে।"
এইভাবে উমারের মনে একের পর এক প্রশ্ন উদয় হতে লাগলো এবং জবাব তখনই মোহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে আসতে লাগলো। ততক্ষন পর্যন্ত যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরো আরবের পরমপরাক্রমশালী বীর উমার ইবনে খাত্তাব মোহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হত্যার জন্য একা পেয়েও কেবল তাঁর কণ্ঠে সূরা হাক্ব-ক্বাহর কিছু আয়াত শুনে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিজের বাড়িতে ছুটে পালালেন। বস্তুত আল্লাহ নিজে মোহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে উমারের (রাঃ) সাথে কথোপকথন করেছেন, সরাসরি, এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিন্দুমাত্র টের পাননি। হজরত উমার জীবনে সেই প্রথম কুরআনের মিরাকেল অনুভব করলেন।
কুরআন শরীফকে আল্লাহ প্রদত্ত সবচেয়ে বড় মিরাকেল বলা হয়। একেকজনের ক্ষেত্রে এই মিরাকেল একেকভাবে কাজ করে। উমারের (রাঃ) ক্ষেত্রে যেমন উপরে উল্লেখ করা ঘটনার মতন কাজ করেছে। আমার ব্যক্তি জীবনে কুরআনের মিরাকেল ভিন্নভাবে কাজ করে। যেমন আমি দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মাথায় সাজিয়ে এশার নামাজ শেষে কুরআন খুলে দুই পৃষ্ঠা পড়ি। কেবল দুই পৃষ্ঠা। এর বেশি নয়। এবং সেখানেই কোন সংকেত খোঁজার চেষ্টা করি, আল্লাহর কোন নির্দেশনা আছে কিনা। এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে খুঁজে পাই। একটি উদাহরণ দিতে পারি।
ইসলামোফোবদের কথাবার্তায় মাঝে মাঝেই আমি বিমর্ষ হয়ে পড়ি। ওরা ভাল করেই জানে আমরা নবী এবং আল্লাহর ব্যাপারে কতটা স্পর্শকাতর, তারপরেও ইচ্ছা করে তারা বানিয়ে বানিয়ে সত্যের সাথে মিথ্যা জড়িয়ে এমনসব কথাবার্তা বলে, তখন তাদের এই ফাজলামিতে ভীষণ মর্মাহত হয়ে পড়ি। আমার আল্লাহর কাছে তাদের মাথা নত করতেই হবে এমন কোন শর্ত আমি দেই না - তবে আমাদের বিশ্বাস নিয়ে ওদের এমন কদর্য আচরণ কেন আমি কিছুতেই বুঝতে পারিনা। এইটাতো তথাকথিত "মুক্তমনার" নিদর্শন হতে পারেনা!
তা একদিন এমন ঘটলো যে সেদিন কি নিয়ে যেন কয়েকজন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আল্লাহকে নিয়ে খুব ফাজলামি করলো। সেই রাতেই আমি বাকারার একটি আয়াত পেলাম, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, তিনি তাদের গলায় বেড়ি বেঁধে রেখেছেন। ঢিল দিচ্ছেন বলে ওরা বুঝতে পারছে না। তবে যেদিন তিনি পাকড়াও করবেন, তখন আসমান জমিনের কেউ তাদের সাহায্য করতে পারবেনা।
মনে পড়ে গেল আমার নানুর বাসার হিংস্র জার্মান শেফার্ডের কথা। কুকুরটার ভয়ে আমরা সবাই গৃহবন্দী থাকতাম। প্রচন্ড আগ্রাসী এই কুকুরটা মামা এবং নানু ছাড়া কাউকে পরোয়া করতো না। নানুর বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে প্রতিবেশীর ছাদে চলে যেত। ফল, প্রতিবেশীও আতঙ্কে গৃহবন্দী।
মামা "বুদ্ধি" করে কুকুরটার গলায় বেল্ট বেঁধে দিল। ঢিলা বেল্ট। সে বুঝতে পারলো না। একদিন অভ্যাসবশত লাফ দিল। দুই ছাদের মাঝামাঝি পর্যায়ে গিয়ে গলায় টান পড়লো। ফাঁসিতে মারা পড়লো আমাদের "ডন।"
আয়াতটি পড়ে ভয়ে শরীর কাটা দিয়ে উঠলো। এই ঢিল কী আমাকেও দেয়া হচ্ছে নাতো! যাদের দেয়া হচ্ছে, তাদের কী হবে?
রাগতো দূরের কথা - তাদের জন্য উল্টো করুণা হলো। ইশ! তারা যদি বুঝতো!
দুই তিন বছর আগে আমরা খুব দামি এক সেট টেবল কিনে ফেললাম। দামি মানে আসলেই দামি। একতাড়া ডলার পকেট থেকে খসে গেল। অযথা এতগুলো টাকা খরচ করে ফেলায় মন খচখচ করতে লাগলো। আমার বৌ কিছুক্ষন পরপর বলছে, কাজটা উচিৎ হয় নাই। কাজটা মোটেও উচিৎ হয় নাই।
এবং সেই রাতেই পড়লাম, "আমাকে স্মরণ করো - তাহলে আমিও তোমাদের স্মরণ করবো। আমার শুকরিয়া আদায় করো - এবং আমার না শোকর হয়ো না।"
সাথে সাথে সব খচখচানি দূর হয়ে গেল।
আল্লাহর অনেক শুকরিয়া তিনি আমাদের সেই টেবল সেট কেনার সামর্থ্য দিয়েছেন। একটা সময়ে ঘরে কেবল ঘুমানোর ম্যাট্রেস ছাড়া কিছুই ছিল না। সেই ঘটনার মাত্র নয় বছর আগের ঘটনা। সেই দিন আর নেই। সেই দিনে তিনি যেন আর ফেরত না নেন।
আরেকবার মানুষ তর্ক করছিল কে "সহীহ" মুসলিম এবং কে নয়। এবং তখনই আমি চমৎকার আয়াতটি পড়লাম। "সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে (কাবার দিকে বা উল্টোদিকে), বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কথা দিয়ে কথা রাখবে এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।"
এই মিরাকেল আমার জীবনে প্রতিবার ঘটছে।
যেমন একবার লন্ডনে টেরোরিস্ট অ্যাটাকের পরপরই আমি কী পড়েছি জানেন? "বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।"
ইন্টারেস্টিং না?
কুরআনতো সেই চৌদ্দশো বছর ধরে একই আছে। একটা হরফও বদলাচ্ছে না। আমাদের জীবনে ঘটনাপুঞ্জ যিনি ঘটাচ্ছেন, যিনি আমাকে কুরআন পাঠ করাচ্ছেন, তিনি এমনভাবেই সবগুলোকে সাজাচ্ছেন যে আমি সেটা আবিষ্কার করে স্তব্ধ হয়ে যাই! মন থেকে বলে উঠি, আল্লাহু আকবার! সিজদায় গিয়ে ভক্তিভরে ঘোষণা করি, "সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।" আমার মহান আল্লাহ মহা পবিত্র।
পবিত্র কুরআন আপনার আমার কাছে আল্লাহর নির্দেশনা। তিনি আমাদের সাথে সরাসরি এই মহাপবিত্র গ্রন্থের মাধ্যমে কথা বলেছেন। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা কুরআন কেবল পড়েই যাই। ভাবি, খতম দিলেই বিরাট সাওয়াব হাসিল হবে। হয়ও। কিন্তু কুরআনের প্রতিটা আয়াতে যে মাধুর্য্য, নির্দেশনা, অলৌকিকতা বিদ্যমান, সেটা তখনই উপলব্ধি করা যাবে যখন আমরা প্রতিটা আয়াত নিয়ে গবেষণা করবো। বুঝার চেষ্টা করবো আল্লাহ কী এবং কেন আমাকে বলেছেন। জীবনে প্রয়োজনে একবারই কুরআন খতম দিন, কিন্তু জেনে শুনে বুঝে দিন। আপনার জীবন বদলে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার দাদা

লিখেছেন সাব্বির আহমেদ সাকিল, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিট । চারিদিকে এশার নামাজের আজান শেষ হয়েছে । বাড়ির পুরুষরা সব মসজিদের দিকে ছুটে যাচ্ছে । কিন্তু একজন পুরুষ এইখানে শুয়ে আছেন । পুরুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি।

আরবের সাহিত্যের স্বর্ণযুগে, যখন কবিতা ছিল জাতির প্রাণশক্তি এবং ওকাজের মেলায় কাব্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো ঈদের গল্প লিখি.....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×