somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি নিয়ে খুবই দম্ভ করতো। "রাম লখন" সিনেমার রাখির মতন গাইতো "মেরে দো আনমোল রাতান, এক হ্যায় রাম তো এক লখন...."
কারন হচ্ছে এত শক্তিশালী আর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র পৃথিবীর আর কারোর কাছে নেই। এফ-৩৫ বিমান রাডারে ধরা পড়েনা, কাজেই একে ভূপাতিত করার ক্ষমতাই কারোর নেই। এই বিমানের সামনে কেউই টিকতে পারেনা - ইত্যাদি ইত্যাদি। একেকটা এফ-৩৫ বিমান তৈরিতে ৮০-১০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলায় ১,২২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (প্রায়) খরচ হয়। কেনার দাম নাহয় সাইডে রাখলাম।
ইরান পৃথিবীর প্রথম দেশ যারা এই বিমান ফেলে দিয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওদের টেকনোলজি কিন্তু সেই বাবা আদমের (আঃ) আমলের। নব্বই দশকের টেকনোলজি দিয়েই ওরা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বসিয়েছে। একেই বলে বুদ্ধিওয়ালা মাথা, যা আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেবের নেই।
ইরান ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল ইনফ্রারেড সেন্সর সিস্টেম ডিপ্লয় করেছে, যা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ওয়েভ না, বরং হিট সিগনেচার ডিটেক্ট করে। এফ-৩৫ হোক বা দুনিয়ার যেকোন আধুনিক বিমান হোক, ওরাতো ইঞ্জিন ব্যবহার করেই। তা এত শক্তিশালী বিমান চালাতে গেলে ইঞ্জিন যে তাপ তৈরী করে, সেটা ডিটেক্ট করে মডিফাইড রাশান এয়ার টু এয়ার মিসাইল, যার গতি শব্দে গতির চেয়ে ৫ গুন বেশি, সেটা ব্যবহার করে বিমান ফেলে দিয়েছে।
কৌশলে আরও ডিটেইল কিছু থাকতে পারে, আমি জানিনা। বুঝিনা। ইরানও কৌশল ব্যাখ্যা করেনা।
এছাড়া ইরান দাবি করছে ওরা একটা এফ-১৫ও ফেলেছে। যদিও আমেরিকা সেটা স্বীকার করছে না।
ইজরায়েলের আয়রন ডোম, আগডুম বাগডুম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব কিছু ব্যর্থ করে দিয়ে তেল-আবিবে প্রচুর মিসাইল আছড়ে পড়ে ওদের শহরকে তছনছ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের কিছু সস্তা অনলাইন দালাল-এ-ইজরাইল যদিও দাবি করছে ইজরায়েলের কিছুই হয়নি, কিন্তু ওদের ড্যাডি নেতানিয়াহু নিজে মিডিয়ার সামনে ধ্বংসস্তুপ দেখিয়ে বলছে "দেখো - ইরান কত খারাপ! ওরা সিভিলিয়ানদের উপর, শিশুদের উপর বোমা ফেলে!"
ভূতের মুখে রাম নাম শুনেছেন, এইবার শুনেন ইবলিসের মুখে "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজিম!"
অন্যদিকে আমেরিকান দ্বিতীয় "আনমোল রাতান", নেভির অবস্থাও খারাপ।
আমেরিকা দুইটা নেভি ক্যারিয়ার পাঠিয়েছিল। দুইটাকেই পিছাতে হয়েছে।
প্রথমটি সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী (নিউক্লিয়ার পাওয়ার সমৃদ্ধ) জেরাল্ড আর-ফোর্ড ক্যারিয়ারের লন্ড্রিরুমে আগুন ধরে যাওয়ায় (!?) সেটা মেরামতির জন্য রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে আনতে হয়েছে। উড়াউড়া খবর আসছে যে নেভির লোকজনই এই যুদ্ধ এড়াতে নিজেরা নিজেরা আগুন দিয়ে যুদ্ধ থেকে সরে এসেছে।
অন্যটি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে নাকি ইরান বোমা হামলা করেছিল।
এইটা সত্য যে ইউএস অস্বীকার করে আসছে।
তবে এইটাও সত্য যে এই ক্যারিয়ারটা ইরানের এক হাজার কিলোমিটার সীমানার ধারে কাছে যেতে সাহস করছে না।
এই যুদ্ধে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে লজ্জাজনক যা ঘটেছে সেটা হচ্ছে আমেরিকার AN/FPS ১৩২ রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি এতটাই এডভান্সড রাডার যা ৫০০০ কিলোমিটার রেডিয়াস কভার করতো, এবং যার মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল....ইরানের এক হামলাতেই সব বাহাদুরি শেষ। অথচ আমেরিকা মিডল ইস্টে নিজের মিত্রদের কাছ থেকে এই রাডার দেখিয়েই টাকা কামাতো। এই রাডারের ধ্বংস হওয়াটা প্রমান করে আমেরিকার "প্রটেকশন" ততটা নিরাপদ না যতটা ভাবা হচ্ছিল।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলে আসছিল "আমরা এত বেশি জিতছি যে আমাদের লোকজন বলছে এত জয় দিয়ে আমরা কি করবো? একটু কম জিতলে হয়না?"
তারপরে কান্নাকাটি শুরু করলো ইউরোপিয়ান মিত্রের কেউ কেন সাহায্যে এগিয়ে আসছে না!
এখন শুনছি ইন্ডিয়া পাকিস্তানের হাতে পায়ে ধরছে যাতে ইরানকে বুঝিয়ে এই যুদ্ধ থামানো হয়।
ট্রাম্প ইরানের কাছে শান্তি প্রস্তাব রাখছে। অনুরোধ করছে আগামী পাঁচদিন কোন আক্রমন করবো না - প্লিজ আমাদের ছেড়ে দাও! ইরান প্রত্যাখ্যান করছে। কি যে বেইজ্জতি অবস্থা!
এই মহা-বেইজ্জতির সময়ে সে নিজের যুদ্ধমন্ত্রীর ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিয়ে বলছে "এই শালার কথায় আমি লাফিয়েছি! আমার কুনো দুষ নাই!"
ছোটবেলায় স্কুলের ক্লাসে কিছু বদ পোলাপান ছিল না যারা নিজেরাই বায়ু দূষণ করতো, আর নিজেরাই সবার আগে চিৎকার দিয়ে উঠে বলতো "কে এই কান্ড ঘটিয়েছে? কে সকালে মূলা দিয়ে বাসি ডাল খেয়ে এসেছে?"
ট্রাম্প হচ্ছে সেই বদ ছেলে।
ইরানের দাবি আমেরিকাকে মিডল ইস্ট থেকে সরে আসতে হবে এবং ইরানের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আমেরিকা নিজের ইগোর কারনে সেই দাবি মেনে নিবে? মনে হয়না।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। পাবলিক কতদিন এই অন্যায় যুদ্ধ মেনে নিবে? দেশে এমনিতেই ইকোনমি ভাল না। এর মাঝে এই যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের লাগাম হাতছাড়া হওয়া....পাবলিক কতদিন বসে থাকবে?
দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোড়ল ছিল। মোড়ল হলে দায়িত্ব বাড়ে। সেই দায়িত্ব আমেরিকা ভালভাবেই পালন করতো। নরাধম হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়েছে, দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়েছে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে, দুরারোগ্য রোগ ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়েছে, বিশ্ব ছাড়িয়ে মহাকাশে মানুষ পাঠিয়ে দিয়েছে - আমেরিকা।
কিন্তু কিছু ভুল নেতৃত্ব আর লোভ এই দেশটির পতন ঘটিয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে অন্যায় যুদ্ধে জড়িয়েছে। গণহত্যায় ইন্ধন দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক গলিয়েছে।
নিজের দেশে সাড়ে সাত মিলিয়ন মানুষ গৃহহীন, বহু মিলিয়ন মানুষ বেকার, নাহয় কোনরকম কামাই করে টিকে আছে। শিক্ষার মানের দিক দিয়ে আমেরিকার অবস্থান এখন বিশ্বে কত নম্বর? স্কুল টিচারদের বেতন কম, সরকারি অফিসারদের নিয়মিত ছাঁটাই করা হচ্ছে, ঘরে ঘরে বেকার সিটিজেন....কিন্তু ১২৪ দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া কনভিক্টেড যুদ্ধাপরাধী, খুনি নেতানিয়াহুর ডাকে বিনা উস্কানিতে ছুটে গেছে আরেক দেশের প্রধানকে, শিয়া মুসলিমদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করতে। যেন ডিডিএলজে সিনেমায় সরিষার ক্ষেতে শাহরুখ খান ম্যান্ডোলিন বাজাচ্ছে, আর কাজল দৌড়ে আসছে।
ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?" এখন পস্তাও!

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস একটি সুনিশ্চিত পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮




সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×