somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের স্বাতন্ত্র্য - এমনকি উৎসবেও

০৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আস সালামু আলাইকুম!

[এই পোস্টটি কেবল বিশ্বাসীদের ভাবনা উদ্রেকের জন্য, অবিশ্বাসী কাউকে proselytize করার উদ্দেশে রচিত নয়।]

আমরা অনেক সময়ই আমাদের দ্বীন নিয়ে গর্ব করি - নিজেদেরকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ভিত্তিক জাতি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করি । একই কথা ভৌগলিক সীমারেখা ভিত্তিক ন্যাশন-স্টেটের বেলায়ও প্রযোজ্য। আমরা স্বভাবতই আমাদের দেশকে ভালোবাসি এবং একধরনের গর্ব বোধও করি। ভালোবাসতে যদিও কোন বিশেষ কারণের বা যুক্তির ধার ধারতে হয় না, কিন্তু গর্ব বোধ করতে হলে কিছু কারণ থাকতে হয় বইকি!

আমি যখন কাউকে গর্ব মিশ্রিত স্বরে বলবো: "ইসলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ দ্বীন (বা ধর্ম)" - তখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করতেই পারে যে, কেন বা কিভাবে? প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা ভেবে দেখেছেন যে, হঠাৎ কেউ যদি আপনাকেই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে বসে, তবে আপনি কি জবাব দেবেন? বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকলে আপনি হয়তো অনেক কিছু বলে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার অবকাশ না থাকলে তৎক্ষণাৎ কি বলবেন? আমরা খুব সহজ তিনটি দিক বলতে পারি:

১)আর সকল ধর্মেই কোন না কোন রূপে সৃষ্ট বস্তুর পূজা, অর্চনা, আরাধনা বা ইবাদত করা হয়। কিন্তু ইসলাম কেবলই এক আল্লাহ্ তথা সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করতে নির্দেশ দেয়। এখানে কোন ছাড় পাবার উপায় নেই - আল্লাহ্ কুর’আনে বলেছেন]যে, তিনি “শিরক” মাফ করবেন না, তবে এর চেয়ে ছোট [তাঁর কাছে করা] যে কোন পাপ/অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন [অবশ্য বান্দার হক্ব নষ্ট করা যে কোন পাপের account , ঐ মজলুম বান্দার সাথে settle করতে হবে]। ইবাদতের কোন কাজে কাউকে অংশীদার ভাবার/করার কোন অবকাশ ইসলামে নেই।

২)আর সকল ধর্মাবলম্বীরা তাদের মর্জিমত আইন বা অনুশাসন পরিবর্তন করে থাকে - সামাজিক, মানসিক বা পারিপর্শ্বিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে। যেমন ধরুন, এখন থেকে ২০০ বছর আগেও খৃষ্টানরা সুদকে, আমরা যেমন হারাম মনে করি, তেমনি হারাম মনে করতো - কিন্তু এখন আর করে না। অথবা মাত্র ৫০ বছর আগেও পশ্চিমা খৃষ্টান জগতে সমকামিতা লজ্জার বিষয় ছিল, অথচ আজ তা গর্বের বিষয়। কিন্তু ইসলামে, ধর্মের আইন বা অনুশাসন অপরিবর্তিত থাকে - ১৪০০ বৎসর আগে যা নিষিদ্ধ ছিল, শেষ মুসলিমটি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তা নিষিদ্ধ থাকবে - নও মুসলিম বা সাময়িক বিচ্যুত ও বিপথগামী মুসলিমকে সেই অলঙ্ঘনীয় আইনে ও অনুশাসনে ফিরে আসতে হয়। আমার বাবা জানতেন না যে, ইসলামে সুদ হারাম, তাই তিনি সুদভিত্তিক ব্যাঙ্ক ঋণ নিতেন - কিন্তু আমি জেনেছি যে সুদ হারাম, তাই আমি আমার পরিবারসহ আবার শুদ্ধ মূল ধারায় ফিরে এসেছি। এজন্যই খৃষ্টানের ছেলে জন্মগতভাবেই খৃষ্টান হয়ে থাকে, ইংলিশম্যানের ছেলে জন্মগতভাবেই ইংলিশ হয়ে থাকে - কিন্তু মুসলিমের ছেলে অটোম্যাটিক মুসলিম হয়ে যায় না। তাকে সজ্ঞানে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হতে হয়। তা না হলে, তার একটা মুসলিম নাম থাকে বটে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মুসলিম স্ট্যাটাস থাকে না।

৩) অন্য সকল ধর্মের অনুসারীদের উৎসবগুলো হচ্ছে বাঁধনহারা আনন্দ, অবারিত ইন্দ্রিয়সুখে নিমজ্জিত হবার আয়োজন - শরীরী ভোগ-সুখে গা ভাসিয়ে দেবার সুবর্ণ সুযোগ। যারা ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় ক্রিসমাস বা নব-বর্ষ দেখেছেন , যারা মিয়ানমার বা থাইল্যান্ডে ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল দেখেছেন, অথবা যারা ভারতে দীপাবলী বা হোলী দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি - মদ, জুয়া আর ব্যভিচারের বন্যা বয়ে যায়, আর তার সাথে সীমাহীন অপচয় তো রয়েছেই। আর ইসলামের উৎসব - যা বাৎসরিক মাত্র দু’টি [আর সাপ্তাহিক পর্যায়ে একটি, অর্থাৎ, জুম্মা] সেগুলো কেমন হবার কথা? প্রথমত সেগুলো হচ্ছে ভাব গম্ভীর ইবাদত বা উপাসনার দিন - বাঁধভাঙ্গা উচ্ছৃঙ্খলতার মৌসুম মোটেই নয়। আমরা এমনি দিনে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, কিন্তু ঈদের দিনে আমরা আরো একটা অতিরিক্ত সালাত আদায় করি আরো বড় সামাজিক জামাতে - যেখানে আমরা প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ্ যেন আমাদের সংশ্লিষ্ট ইবাদতগুলি [যেমন, সিয়াম, তারাবী, ইতিকাফ ইত্যাদি] কবুল করেন। আমরা দান খয়রাত করি, জাকাত-ফিতরা আদায় করি - আল্লাহ্ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন তা আত্মীয় স্বজনের সাথে শেয়ার করি। আমাদের মাঝে আরো প্রশান্তি ও শান্তির ছায়া নেমে আসার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রতিবেশী হিন্দুদের অনুকরণে বা পশ্চিমা প্রভুদের অনুকরণে আমরা সেই স্বাতন্ত্র্য ও সেসব ঐতিহ্য ক্রমেই হারিয়ে ফেলছি - এমনকি ঈদের সুন্নাহ্ শুভেচ্ছা বা সম্ভাষণটাও আমরা ভুলে গিয়েছি। আজ দেখা যায়, ডাস্টবিনে কুকুরের সাথে খাবার ভাগা-ভাগি করা মানুষের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমরা দেড় লক্ষ টাকার লেহেঙ্গা বা গারারা কেনার নির্লজ্জ প্রতেযোগিতায় মেতে উঠি, যাতে ঈদের দিন আমাদের বধূ-মাতা-কন্যারা পর-পুরুষের দেহ মনে পুলক সৃষ্টি করে নির্লজ্জ অহঙ্কারে রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে পারে। পুরু লোহা-নির্মিত রুদ্ধ সিংহদ্বারের ভিতরে আবদ্ধ একান্ত নিজস্ব প্রকোষ্ঠে বসে ভুরিভোজন উত্তর ঢেকুর তুলতে তুলতে আমরা ভাবি, টেলিভিশনের কোন চ্যানেলের অশ্লীলতার কোন বিশেষ আয়োজনটা আজ, ঈদের দিনে, উপভোগ করবো! বাজারে কেনাকাটা আর অপচয়ের প্রতিযেগিতার ধুম আর ভোগ-সুখের আয়োজন দেখে, যে কারো পশ্চিমের ক্রিসমাস অথবা পুরাতন বাংলা উপন্যাসে দুর্গা-পূজার আয়োজনের কথা মনে পড়ে যাবে - সহজেই বোঝা যাবে যে, আমরা এসব উচ্ছলতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা অন্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছি। কে বলবে যে, দীর্ঘ একমাস সময় আমরা সংযম আর কৃচ্ছতার ট্রেনিং নিয়েছি! আল্লাহ্, তুমি তোমার অন্ধ বান্দাদের দয়া করে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে নিয়ে আসো - ভোগ-সুখে গা ভাসিয়ে দেবার জন্য যে মুসলিমরা পৃথিবীতে আসেনি, একথাটা তাদের আবার মনে করিয়ে দাও!!

যাহোক, মূলত স্বাতন্ত্র্যের এই তৃতীয় পয়েন্টটা আলোচনা করতেই, ঈদের আগের দিনে আমার এই আয়োজন। [লেখাটা যদিও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লেখা, তবু এর core কথাটুকু আমাদের দু'টো উৎসবের বেলায়ই প্রযোজ্য - আল্লাহ্ যেন আমাদের এটুকু বোঝার তৌফিক্ব দেন যে, আমাদের উৎসবও আমাদেরকে আরো pious, calm, serene ও tranquil করে তোলার কথা - frivolous করার কথা নয়!] আজকের সুন্নাহ্ শুভেচ্ছা হচ্ছে:

”তাকব্বালাল্লাহু মিননা ওয়া মিনকুম” - আল্লাহ্ যেন আমাদের ভালো কাজগুলো [ এই একমাসের যাবতীয় ইবাদত, সাদাক্বা ইত্যাদি] এবং আপনাদের ভালো কাজগুলো কবুল করেন।


"TAQABBALALLAHU MINNA WA MINKUM."
[may Allah accept all our good deeds and all your good deeds]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৪৩
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×