somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঠ অনুভূতিঃ স্যান্ডস্টর্ম

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একঘেয়ে লাগছিল সবকিছু। হাতে করার মতো কোন কাজও ছিল না। তখনই এই বইটা তুলে নেই কিছুটা আগ্রহ নিয়ে, কিছুটা উদাসীনভাবে। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরই উদাসীনতা কেটে গেল, একদম হুকড হয়ে গেলাম বইয়ের সাথে।

লন্ডন মিউজিয়ামে বিস্ফোরণ দিয়ে বইয়ের শুরু। এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে অনেকগুলা ঘটনা ঘটার চেইন রি-অ্যাকশনের সূত্রপাত। তারপর একের পর এক রহস্য আর অনেকগুলো প্রশ্নের উদ্ভব। সেসব প্রশ্নের উত্তর আর হারিয়ে যাওয়া শহর উবারের সন্ধানে ওমানে পাড়ি জমাল সিগমা ফোর্স টিম, লেডী কারা কেনসিংটন, সুন্দরী এবং বিদূষী ড. সাফিয়া আল-মায়াজ এবং নামকরা প্রত্নতাত্ত্বিক ওমাহা ডান। একের পর এক বাধা আর আক্রমণের মুখে ওরা। বিপদের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল সিগমা ফোর্স কর্মী পেইন্টার ক্রো’র প্রাক্তন সহকর্মী। শত্রু সব সময়ই এক ধাপ এগিয়ে থাকে ওদের চেয়ে।

কী পছন্দ করেন আপনি? অ্যাকশন? অ্যাডভেঞ্চার? থ্রিলার? সাসপেন্স? মিথ?–সবই আছে এ বইয়ে।

কী বলা যায় স্যান্ডস্টর্ম-কে! দুই মলাটের ভেতর কালো হরফের মুভি! কী নেই সেই মুভিতে–নীলনকশা, অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার–এগুলোর সাথে মিথ, ইতিহাসের অ্যালিউশন; এক ভরপুর প্যাকেজ!
ইন্ডিয়ানা জোনস, অ্যালান কোয়াটারমেইন, মাসুদ রানা, হাজার বছরের প্রাচীন গোপন গোত্র–এসবের মিশেলে যে এক ফ্লেভার তৈরি করেছেন জেমস রলিন্স তার কোন তুলনা নাই। এস্পিওনাজ টেস্ট থেকে রহস্য-রোমাঞ্চ, অ্যাডভেঞ্চার–সব টেস্টই আছে বইটায়। আর মরুভূমির ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের বর্ণনা পড়ে ইচ্ছা হচ্ছিল বের হয়ে পড়ি! রলিন্সের লেখনীর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো (আমার মতে) এতসব মিথোলোজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপারকে তিনি বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করেছেন। বইয়ের ক্যারেক্টারগুলো খুব পাওয়ারফুল লেগেছে। সায়েন্সের হালকা কচকচানি থাকলেও, তা পড়তে মোটেও বিরক্তি লাগে না। রলিন্সের একটা জিনিসই আমার একটু না-পছন্দের–ডিটেইলিং, যেগুলো না থাকলেও সমস্যা হতো না। অ্যাকশন-প্যাকড ফাস্ট পেইসড স্টার্টিং আর এন্ডিং-এ বইটা আটকে রেখেছে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সময় কাটানোর জন্য অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার পছন্দ হলে বইটা নিয়ে বসে যেতে পারেন, পুরো সময় উশুল বই। সিরিজের প্রথম বই দিয়েই রলিন্স সাহেব আমাকে একদম হুকড করে ফেলেছেন।

এইবার অনুবাদে আসি। অনুবাদকের এটা তৃতীয় প্রকাশিত অনুবাদ। আগের অনুবাদগুলো যথেষ্ট সুখপাঠ্য ছিল। তবে স্যান্ডস্টর্ম-এর অনুবাদের সাথে বাকি অনুবাদগুলোর পার্থক্য ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। আগের দুটো অনুবাদকে ছাড়িয়ে গেছেন এবারকার পারফরম্যান্স দিয়ে। দারুণ উন্নতি করেছেন অনুবাদক, সুখপাঠ্য-সুস্বাদু একটি অনুবাদ উপহার দিয়েছেন। রলিন্সের বইয়ের জটিল সব সায়েন্টিফিক টার্মগুলোকে যথাসাধ্য সহজ ভাষায় অনুবাদ করেছেন। চমৎকার, সুন্দর এই অনুবাদটার জন্যে সাধুবাদ পেতেই পারেন তিনি।
এইবার হালকা নেগেটিভ দিক। অনুবাদে চরিত্রগুলাকে এতবার ‘নড’ না করিয়ে মাঝে মাঝে ‘মাথা ঝাঁকাতে’ দিলে ভালো লাগার লেভেলটা আরেকটু চড়া হতো। বানান ভুলের পরিমাণটা আরেকটু কমাতে পারলে পড়ার আরামটাও একটু বাড়ত।
তবে এ দুটো জিনিস একেবারেই উপেক্ষণীয়। অনুবাদক তার অনুবাদের দক্ষতায় এসব দিকে নজর দেয়ার সময়ই দেননি। ঝরঝরে, ছন্দময় অনুবাদে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ করেছি বইটা। ৪৩২ পৃষ্ঠার ঢাউস সাইজের বইটার সাথে হুকড হয়ে যাওয়ার জন্য লেখক যতখানি কৃতিত্ব পাওনা, অনুবাদকের কৃতিত্বও তার চেয়ে কম কিছু নয়। আমার মতে ২০১৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সেরা অনুবাদগুলোর একটা স্যান্ডস্টর্ম

বইয়ের নামঃ স্যান্ডস্টর্ম (সিগমা ফোর্স ০১)
লেখকঃ জেমস রলিন্স
রূপান্তরঃ মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ্‌
প্রকাশনীঃ আদী প্রকাশন
মূল্যঃ ৪৮০ টাকা
রেটিং- কাহিনিঃ ৪.৫/৫
অনুবাদঃ ৪.২৫/৫

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৪৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×