somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বগুড়া রসনানামাঃ:P

০৬ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খাবার হোটেল আর ভিন্নতার জন্য ঢাকার ও চট্রগ্রাম এর ধারের কাছে না হলেও আমাদের মত যাদের বগুড়াতেই ছাত্রজীবন আবর্তিত হয় তাদের বগুড়াতেই বের করে নিতে হয় দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মত কিছু আইটেম। হোটেল আর খাবারের ভিন্নতায় অনেক জেলা শহরের চেয়ে বেশি বৈ কি কম নয় এই বগুড়ার রসনার সরবরাহকারীরা। আসুন তাহলে জেনে নেই- আপনার জিহবার তৃপ্তি মেটাতে কি রয়েছে এই বগুড়ায়ঃ
বগুড়ার দইঃ বগুড়া নামটা উচ্চারন হবার সাথে সাথে যা মুখে চলে আসে তা হল বগুড়ার দই। সময়ের সাথে সাথে এই দই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে তার নাম কুড়িয়েছে। বগুড়ার এই দই কে যিনি সবার সামনে প্রথমে নিয়ে আসেন তিনি হলেন গৌর গোপাল নামে একজন সর ও দুধ ব্যবসায়ী। তার মৃত্যুর পর তার ছেলের দোকান এখন সাতানী বাড়ির পাশেই রয়েছে। এছাড়াও ভালো দই আপনি পেতে পারেন আকবরিয়া, এশিয়া, মহরম আলী, আদি মহরম আলী, ঘোষাল দই ঘরে।
বগুড়ার দই এত জনের কাছে পরিচিতির বিষয় যে এ নিয়ে ফেসবুকে একটি পেজ ও আছে। আরেকটি কথা বগুড়ার দই দয়া করে অপরিচিত দোকান থেকে খাবেন না, আবার কম দামের টা খাবেন না। দোকানে কয়েক জাতের মধ্যে আসল দই পেতে শাহী দই বেছে নিবেন। শেরপুরেও কিছু ভালো দইয়ের দোকান আছে শোনা যায়।
মিষ্টিঃ দইয়ের মত বিখ্যাত না হলেও বগুড়ার মিস্টি আশেপাশের অনেক জেলা থেকে লোকজন এসে কিনে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে দোকান এর নাম বলব তা হল এশিয়া সুইটস। বলা যায় সারাদিনই এতে ভিড় লেগে থাকে। বিশেষত স্পঞ্জ মিষ্টি আসার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। মিষ্টি কেনার ভালো সময় দুপুর ২ টা থেকে ৫ টা। এই সময়ে দিনের মিষ্টি গুলো আসে।
চাপঃ বগুড়ার চাপকে অনেক মোস্তাকিমের চাপের সাথে তুলনা করে থাকেন। আমি তা না বললেও বলব বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের পরিচিত দোকান এই চাপের দোকান। দোকানের কোন সাইনবোর্ড ও নেই। তবে কলোনীর চাপের দোকান বললেই অনেকে চিনে। এই চাপের দোকান ঘিরে গড়ে উঠেছে আরো কয়েকটি চাপের দোকান তবে- দোকানের সামনের ভিড় দেখেই বুঝতে পারবেন আপনার দোকান কোনটি। এই দোকানের চা টাও ভালো।
এবার পৃথক হোটেল প্রসঙ্গে আসি।
প্রথমেই যে হোটেল নিয়ে কথা বলতে হয় তা হল আকবরিয়া। বগুড়ার আশে পাশের জেলায় যারা করতোয়া পেপার পড়েন। তাদের কাছে আকবরিয়া একটা মিথের মত। কেন সেটা বলি। মোটামুটি প্রতিদিনই এই পেপারে আকবরিয়া হোটেল এর বিজ্ঞাপন থাকবে। কোন একটা হোটেল এর বিজ্ঞাপন প্রতিদিন দেখলে সেই সম্পর্কে আগ্রহ থাকবারই কথা। আকবরিয়া এর লাচ্ছা সেমাই প্রতিবার ঈদে একটা হিট আইটেম। এছাড়াও প্রতি শীতে আকবরিয়া পিঠা উৎসব করে থাকে। সেই সময় নানা স্বাদের পিঠা আপনার ভালো লাগবেই। আকবরিয়া হোটেল এর পক্ষ থেকে প্রতি রমজান মাসে রাতে অসহায় মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। যা অনুপ্রেরনীয়।
আকবরিয়ার কয়েকটি শাখা বগুড়া জুড়ে আছে। আকবরিয়া মিষ্টি মেলা, আকবরিয়া ক্যাফে(কোর্টের সামনে), আকবরিয়া ক্যাফেটারিয়া (মেডিকেল কলেজে)।
কম খরচে আকবরিয়ার স্বাদ পেতে চাইলে মেডিকেল ক্যাফেটারিয়া তে যেতে পারেন। তবে মুল শাখার থেকে একটু মনে হয় স্বাদ কম থাকে।
সেলিম হোটেলঃ বগুড়ার যারা পুরাতন অধিবাসী তারা জানেন এই হোটেলের কথা। অনেক আগে থেকেই এই হোটেল বগুড়া বাসীর রসনা মিটিয়ে আসছে। বিশেষত ভর্তা দিয়ে যদি ভাত খেতে চান তবে এই হোটেলে যেতেই হবে। নানা পদের ভর্তা পাওয়া যায় এতে। রোযার মাসে ইফতারী কম দামে পেতে চাইলে সেলিম হোটেল বেছে নিতে পারেন।
আরো যেসব হোটেলের নাম বলতে হয় তার মাঝে শ্যামলীর হালিম, কোয়ালিটির বিরিয়ানী,চা, স্পেশাল খাসির মোগলাই, এর নাম বেশ শোনা যায়।
নতুন গড়ে উঠা দোকানের মাঝে- লা বাম্বা(জেল রোডের পাশে) এর চিকেন ঝাল ফ্রাই, বি এফ সি এর চিকেন ফ্রাই বা শিক, মা ক্যাফে(ডলফিন টাওয়ার এর পাশে) এর মাটন বিরিয়ানী-থাই সুপ বেশ চলছে।
ফাস্ট ফুডের দোকানের মাঝে জলেশ্বরী তলায় রয়েছে-ফুড পার্ক যাদের চিকেন গ্রীল, নতুন আসা ড্রিঙ্কস অনেকের কাছে বেশ পছন্দ। পদ্মা ফুডস এর কেক এর সুনাম করতেই হয়। বেশ ভালো কেক বানায় এরা। এদের পিজ্জাও অনেক ভালো। ফাস্ট ফুডের সব আইটেম ই এরা মোটামুটি ভালো বানায়।
গরুর শিক বা খাসির শিক বা বট খাবার জন্য আপনি যেতে পারেন বগুড়া জিলা স্কুলের সামনে। পাশাপাশি কয়েকজন মামা এখানে বসেন। আমার কাছে ভালো লেগেছে একটা বিহারী মামা রয়েছে তার টা। খাসির শিক আপনি ভালো পাবেন জাসদ অফিস পেরিয়ে যেখানে কাঠের জিনিসপত্র বিক্রি হয় তার পাশেই। এখানকার তন্দু বানানোর প্রক্রিয়া আপনার ভালো লাগতে পারে।
এছাড়াও বোনাস হিসেবে পেতে পারেন কলোনীর চিটাগাং হোটেল-যাদের সকালের নাস্তা ও হালিম ভালো, চারমাথা মোড়ের মাহাথির হোটেল যাদের কমদামের বিরিয়ানী বেশ ভালো। আরো একজনের কাছ থেকে চারমাথার সেঞ্চুরী হোটেলের গরু ভুনার কথা শোনা গেল।
চটপটি ফুসকা চা এগুলো সবার আলাদা স্বাদের ব্যাপার। তবে একটানা চটপটি ফুসকা পাবেন আপনি সাতমাথাতেই জিলা স্কুলের সামনেই। আলী প্যালেস এর পাশে ভাই ভাই চটপটি অনেকের কাছে পছন্দের। চা এর জন্য পুরা বগুড়া জুড়েই রয়েছে অসংখ্য টঙ্গের দোকান। তবে জাসদ অফিসের সামনে লেবু চা এর বেশ সুনাম পাওয়া যায়।
চাইনিজ খেতে বগুড়ার কজি ক্যাফে রেড চিলিস বা লেজিস এ যেতে পারেন। আর থাকবার জন্য রয়েছে নাজ গার্ডেন আর হোটেল সিয়েস্তা।
সর্বশেষ সংযোজনঃ ফতেহ আলী বাজারের পাশে মুসলিম হোটেল এর নান রুটি ও শিক এর সুনাম একজন করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:৫২
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না, দাবি করি না। এই যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×