somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাজমহল র্দশণ --৩

১৫ ই মে, ২০০৭ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার চারপাশে ভিড় বাড়ছে। নানা জনের নানা পরামর্শ।

আমি শুনছি। কিছু বলছি না। দু''টো কারণ। এক আমি হিন্দি পারি না। আর বলার মতো অবস্থাও নেই।

এর মধ্যে একজন যে পরামর্শ দিলো তা শুনে আমার ভিমরি খাওয়ার মতো অবস্থা।

মাঝ বয়সী এক “শোপিস” বিক্রেতা আমাকে বললেন, বাপু তুমি এবার জামা কাপড় বদলে এসো। চোখ থেকে চশমা খুলে ফেল। তাহলে আর চিনতে পারবে না।

মনে মনে বলি-- এও কি সম্ভব।

আবারও বসে থাকার পালা। একনাগারে বসে থাকতে ভালো লাগে না। হাটাহাটি শুরু করলাম। হাটি আর সিগারেট খাই।

আনুমানিক ১২টার দিকে তাজমহলের সীমানা প্রাচীনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন তমাল দা। আমাদেও ভারতীয় গাইড।

আমাকে দেখেই বললেন “ ও কি তুমি এখনও ভিতওে ঢুকনি। আজকেই তো আমররা জয়পুর চলে যাবো।”

মনে মনে বলি আমার আর তাজ মহল দেখা হবে না।

পুরো কাহিনী শুনে তমাল দা বললেন, আগেইতো বলেছিলাম দাদা এ কয়দিনে হিন্দিটা শিখে ফেলো। অন্তত এ যাত্রায় বেচে যেতে।

শেষ পর্যন্ত তিনি একটা ফন্দি বের করলেন। তাজমহলের ভিতরে ঢুকার আরও একটি প্রবেশ পথ আছে। সেই গেট দিয়ে আবার চেষ্টা করা যেতে পারে।

আমি না করলাম। আমার পে সম্ভব না।

তমাল দা নাছোড়বান্দা। চল চল।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তমালদার সঙ্গে হাটা দিলাম। এবার অন্য গেটের দিকে। সঙ্গে আরো তিন জন। সামনে তমাল দা। বিভিন্ন গলিপথ ঘুরে ছোট একটি গেটের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। আমার বুকের ভিতর তখন ড্রামের শব্দ।

গেটের কাছে যেতেই শুনলাম “এ চশমা ওয়ালা ল্যাড়কা ইধার আও।”

ছোটখাট গড়নের এক লোক। এক দৃষ্টিতেই আমার ভিতরের সব কিছু যেন পড়ে নিল।

তুমি বাংলাদেশ থেকে এসেছো। সকালে প্রধান গেট দিয়ে একবার ভারতীয় সেজে ঢুকার চেষ্টা করেছো। তুম ঝুটা হায়। এ নাগারে বলে গেল।

আমি বুঝলাম এবার আর উল্টাপল্টা বলে লাভ নেই। আমার খবর আগেই এখানে চলে এসেছে।

আমি এবার ভিন্ন পথ ধরলাম। ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে ইতিহাসের পথেই হাটলাম।

গার্ডকে বললাম, তাজ মহল মোঘল আমলের কীর্তি। তখন মোঘলরা আমাদের দখল করে শাষন করেছে। কর আদায় কওেছে। সে করের টাকায় এ তাজমহল। অতএব এটা দেখার অধিকার আমার আছে। অযথাই তোমরা বাংলাদেশীদের কাছ থেকে বেশি নিচ্ছ।

কিন্তু কে শুনে কার কথা।

এ কথা শুনে গার্ডের পাশে দাড়ানো এক উর্ধ্বতন অফিসার উত্তেজিত হয়ে আমাকে এবং বাংলাদেশকে গালগাল শুরু করলো।

আমিও চুপ থাকার লোক না।

দুই জনেই সমানতালে কিছুন চললো।

শেষটায় আমকে বলা হলো, তোমাকে নিশ্চয়ই কোন ভারতীয় ২০ ও“পির টিকিট কিনার পরামর্শ দিয়েছে। ওকে নিয়ে আসো না হলে তোমাকে আটক করা হবে। আপাতত আমার তিন বান্ধবীকে আটকে রেখে ভারতীয় গাইডকে ধরে আনার জন্য আমাকে ছেড়ে দেওয়া হলো।

আমি কিছুণ এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে গিয়ে জানালাম, তাকে মানে ভারতীয় গাইডকে খুঁজে পাচ্ছি না।

অতএব এবার আমাকে আটক করা হলো। আটক মানে রীতিমতো তালাবন্দী অবস্থা।

গেটের সামনে পুরনো আমলের একটি দু’তলা ভবনের নিচতলার একটি কে আমাকে ঢুকানো হলো। বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হলো দরজা। দরজার সমান জানালা। পুরোটাই শিকের। অনেকটা জেল জেল ভাব। করে ভিতর ভ্যাপসা গন্ধ। নোংরা চেয়ার টেবিল। মনে হয় কেউ সচরাচর ব্যবহার করে না। জানি বিদেশীদের এখানে আমার মতো বিশ্রাম করতে দেওয়া হয় কিনা।

আমি একটি চেয়ারের ওপর বসে পড়লাম। টেবিলের ওপর থেকে “হিন্দুস্তান টাইমস” নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। লিড নিউজ “ কাশ্মিরে জঙ্গিরা একটি মন্দিরে হামলা করেছে।”

পত্রিকা পড়তে শুরু করলাম। আমি জানি না আমার ভবিষ্যত কী?
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪

আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার করব, এজন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×