
কবিতাপ্রেমী অথচ হেমিংওয়েকে চিনবে না এমন পাঠক খুব কমই আছে। হেমিংওয়ে আমেরিকান সাহিত্যিক। বিশ শতকের ফিকশনের ভাষার ওপর তাঁর নির্মেদ ও নিরাবেগী ভাষার ভীষণ প্রভাব ছিল। আর এই ভাষার শিক্ষা হয়ত তিনি পেয়েছিলেন তার নিজের জীবন থেকেই।
হেমিংওয়ে এই মানুষে মানুষে হানাহানি পছন্দ করতেন না। কিন্তু, নিয়তি তাকে পাঠালো যুদ্ধে। তিনি খুব কাছে থেকে দেখলেন মৃত্যুকে। আর সমাজকে ধিৎকার দিয়েই হয়ত লিখলেন,
The age demanded বা 'সময়ের দাবি'
সময় দাবি করেছিল আমাদেরকে
গলা ছিড়ে ফেলে গাইতে
The age demanded that we sing
And cut away our tongue.
সময় দাবি করেছিল আমাদের প্রবাহিত
সমাজটাকে নাড়িয়ে দিতে
The age demanded that we flow
And hammered in the bung.
সময় দবি করেছিল আমাদের লৌহ
পোশাকে মৃত্যুনৃত্যে ঝাপিয়ে পড়তে
The age demanded that we dance
And jammed us into iron pants
আর শেষ পর্যন্ত সময়ের পরিবর্তনে
এ সমাজ চেয়েছিল সাজানো বৃষ্ঠা
And in the end the age was handed
The sort of shit that it demanded.
হেমিংওয়ে কখনও চিৎকার করেছেন আবার কখনও ভালোবেসেছেন।ওই যে বলে না কবিরা জন্ম থেকেই প্রেমিক।
তাই এ প্রেমিক কবি লিখলেন,
'Valentine'
যদি নাই হও মোর প্রেয়সী
তবে পাবে আমার শুন্য দেহ
তোমার ওই বড়দিনের বৃক্ষের ডালে
If my Valentine you won't be,
I'll hang myself on your Christmas tree.
কবির জীবনটা ছিল দুঃখভারাক্লান্ত। একটা সময় কবির মায়ের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।তারপর ১৯১৮ সালের প্রথম দিকে হেমিংওয়ে কানসাস সিটিতে রেড ক্রসের নিয়োগ কার্যক্রমে সাড়া দেন এবং ইতালিতে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে নিয়োগ পান।বারবার মৃত্যুকে দেখেন। যুদ্ধশিবিরের ক্যান্টিনে সিগারেট ও চকোলেট দিয়ে ফেরার সময় মর্টারের গুলিতে হেমিংওয়ে আহত হন।
যখন তার বয়স ১৮ তখন হেমিংওয়ে তাঁর দুর্ঘটনার ব্যাপারে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন,
“যখন বালক হিসেবে যুদ্ধে যাও তখন অমরত্ব লাভের জন্য একটা মোহ কাজ করে। অন্য যোদ্ধারা মারা যাবে, আমি মরবো না,
এমন মনোভাব থাকে। কিন্তু যখনি প্রথম বারের মত মারাত্মভাবে আহত হবে তখনই সেই মোহ কেটে যাবে এবং ভাবতে শুরু করবে, আমিও মরে যেতে পারি।"
হেমিংওয়ে জীবনে কখনও স্থির হয়ে থাকতে পারেননি। দাম্পত্য জীবনে বারবার বিপর্যয় এসেছে। কেউ যেন তাকে বারবার তাড়িয়ে নিয়ে গেছে মৃত্যু পর্যন্ত। অবশেষে ১৯৬১ সালে হেমিংওয়ে আত্মহত্যা করেন।
ইয়ানসুরি কাওবাতা, সিলফিয়া পাথ অথবা মাইকভোস্কির মত হেমিংওয়েও আত্নহত্যা করেছিলেন। এই পৃথিবী হয়ত এই মানুষগুলোকে জন্ম দিয়েছে ঠিকই কিন্তু আগলে রাখতে পারেনি।
হেমিংওয়ে চলে গেছেন। কিন্তু, তার সৃষ্টিকর্ম আজও বেঁচে আছে,বেঁচে থাকবে হাজার বছর।
আর তিনি থাকবেন পাঠকের অন্তরে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



